শনিবার, ০৯ মে, ২০২৬, ২৬ বৈশাখ ১৪৩৩

নেইমারকে নিয়েই ব্রাজিলের বিশ্বকাপ পরিকল্পনা

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : মে ৯, ২০২৬, ০৫:৫৫ পিএম

নেইমারকে নিয়েই ব্রাজিলের বিশ্বকাপ পরিকল্পনা

ফিফার আন্তর্জাতিক নীতি অনুযায়ী, অংশগ্রহণকারী প্রতিটি দেশকেই বিশ্বকাপের আগে ৩৫ থেকে ৫৫ জনের একটি বিশাল প্রাথমিক তালিকা জমা দিতে হয়। এই তালিকা থেকেই মূলত চূড়ান্ত ২৩ বা ২৬ সদস্যের স্কোয়াড বেছে নেওয়া হয়। ১ জুনের মধ্যে চূড়ান্ত দল ঘোষণার বাধ্যবাধকতা থাকলেও ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তি মে মাসের মাঝামাঝিতেই তার মূল যোদ্ধাদের বেছে নিতে পারেন। গ্লোবো স্পোর্টসের তথ্যমতে, নেইমারের অভিজ্ঞতা এবং মাঠে তার উপস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করেই তাকে প্রাথমিক দলে রাখা হয়েছে। যদিও দীর্ঘ সময় ইনজুরির কারণে তিনি অনিয়মিত ছিলেন, তবুও বড় মঞ্চে তার প্রয়োজনীয়তা অস্বীকার করার উপায় নেই।

ব্রাজিল দলের বর্তমান কোচ কার্লো আনচেলত্তি আগামী ১৮ মে চূড়ান্ত দল ঘোষণার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। দলের ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো জানাচ্ছে, আনচেলত্তি ব্যক্তিগতভাবে নেইমারের সাথে যোগাযোগ রাখছেন। তার মতে, নেইমার যদি শারীরিকভাবে অন্তত আশি শতাংশ ফিট থাকতে পারেন, তবে তাকে মূল স্কোয়াডে রাখা হবে। নেইমারের অন্তর্ভুক্তি দলের তরুণ খেলোয়াড়দের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে স্কোয়াড নির্বাচনে আনচেলত্তিকে কিছু কঠিন সিদ্ধান্তও নিতে হচ্ছে। বিশেষ করে রিয়াল মাদ্রিদের দুই তারকা ফুটবলারের ছিটকে যাওয়া তার পরিকল্পনায় বড় ধাক্কা হয়ে এসেছে।

ইনজুরির করাল গ্রাস থেকে রক্ষা পাননি রিয়াল মাদ্রিদের রক্ষণভাগের স্তম্ভ এডার মিলিতাও এবং আক্রমণভাগের প্রাণ রদ্রিগো। এই দুই ফুটবলারই গুরুতর চোটের কারণে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেছেন বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। তাদের অনুপস্থিতি ব্রাজিলের রক্ষণ ও আক্রমণভাগে একটি বড় শূন্যতা তৈরি করেছে। গ্লোবো স্পোর্টসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মিলিতাও ও রদ্রিগোর বদলে বিকল্প ফুটবলার খুঁজতে এখন ঘাম ঝরাতে হচ্ছে কোচিং স্টাফদের। তবে এর মধ্যেই আশার আলো হয়ে দেখা দিয়েছেন তরুণ উদীয়মান প্রতিভা এস্তেভাও উইলিয়ান। চেলসিতে যোগ দিতে যাওয়া এই ফরোয়ার্ডকে নিয়ে ব্রাজিল সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক উত্তেজনা কাজ করছে।

এস্তেভাও বর্তমানে হ্যামস্ট্রিং চোট কাটিয়ে ওঠার লড়াই করছেন। তবে চিকিৎসকরা আশা করছেন, বিশ্বকাপের মূল আসর শুরুর আগেই তিনি পূর্ণ ফিটনেস ফিরে পাবেন। তাকে ভবিষ্যতের নেইমার হিসেবেই দেখছেন অনেক ফুটবল বিশ্লেষক। যদি কোনো কারণে এস্তেভাও সময়মতো সুস্থ না হতে পারেন, তবে আনচেলত্তির হাতে বিকল্প হিসেবে রয়েছে এন্ড্রিক বা রাইয়ানের মতো প্রতিভাবান ফুটবলারদের নাম। মূলত তারুণ্য এবং অভিজ্ঞতার মিশেলে একটি ভারসাম্যপূর্ণ দল গড়তে চাইছে ব্রাজিল। গত কয়েকটি বিশ্বকাপে ব্যর্থতার পর এবার উত্তর আমেরিকায় হতে যাওয়া এই আসরটি ব্রাজিলের জন্য হেক্সা জয়ের সুবর্ণ সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ব্রাজিল ফুটবল ফেডারেশনের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন যে, প্রাথমিক স্কোয়াডে ঘরোয়া লিগের কয়েকজন নতুন মুখকেও রাখা হতে পারে। তাদের মূল লক্ষ্য হলো ব্যাক-আপ হিসেবে যোগ্য খেলোয়াড় তৈরি রাখা। তবে সব আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে সেই নেইমারই থাকছেন। ২০২৬ বিশ্বকাপই হয়তো এই মহাতারকার শেষ বিশ্বকাপ হতে যাচ্ছে। তাই ক্যারিয়ারের শেষ লগ্নে এসে দেশকে একটি সোনালী ট্রফি উপহার দিতে তিনিও মরিয়া। ফুটবল বিশ্বের কোটি কোটি ভক্ত এখন ১৮ মে’র অপেক্ষায় রয়েছেন, যখন আনচেলত্তি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করবেন ব্রাজিলের চূড়ান্ত রণসজ্জা।

banner
Link copied!