করনেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর ভার্টিব্রেট জিনোমিকস এবং সেন্টার ফর ইমিউনোলজির যৌথ উদ্যোগে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত হয়েছে একটি বিশেষ সিম্পোজিয়াম। জীববিজ্ঞান ও জিনোমিকস গবেষণার বিভিন্ন শাখার গবেষক ও শিক্ষার্থীরা এই আয়োজনে অংশ নেন। সিম্পোজিয়ামের মূল লক্ষ্য ছিল জেনেটিকস, ইমিউনোলজি, ডেভেলপমেন্টাল বায়োলজি এবং কম্পিউটেশনাল বায়োলজির মতো ভিন্ন ভিন্ন ক্ষেত্রে এককোষী সিকোয়েন্সিং এবং স্পেশিয়াল জিনোমিকসের মতো আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে আলোচনা করা। বিজ্ঞানীরা দেখিয়েছেন, কীভাবে একই প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভিন্ন ভিন্ন জৈবিক রহস্য উদঘাটন করা সম্ভব।
সিম্পোজিয়ামের অন্যতম আয়োজক এবং সেন্টার ফর ভার্টিব্রেট জিনোমিকস ট্রেইনি এক্সিকিউটিভ কমিটির সদস্য ব্রেন্ট ব্যাসো জানান, এই ধরনের আয়োজন জীববিজ্ঞানীদের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগের পথ প্রশস্ত করে। বিভিন্ন বিভাগের গবেষকরা নিজেদের মধ্যে ধারণা বিনিময় করার মাধ্যমে নতুন ধরনের সহযোগিতার সুযোগ পাচ্ছেন। এই সিম্পোজিয়ামের উদ্দেশ্য ছিল স্নাতকোত্তর, পোস্টডক এবং স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে বৈজ্ঞানিক চিন্তাভাবনার আদান-প্রদান বাড়ানো।
অনুষ্ঠানের মূল বক্তব্যে মলিকুলার বায়োলজি অ্যান্ড জেনেটিকস বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক প্যাট্রিক মারফি ডিএনএ প্যাকেজিং কীভাবে ভ্রূণ বিকাশে প্রভাব ফেলে তা নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি জেব্রাফিশ মডেল ব্যবহার করে দেখান, কীভাবে প্রোটিনগুলো ভ্রূণ বিকাশের সময় নির্দিষ্ট জিনের কার্যক্রম সক্রিয় বা নিষ্ক্রিয় করে। এছাড়া বিপন্ন প্রজাতির প্রাণীদের নিয়ে গবেষণার চিত্রও এই সিম্পোজিয়ামে উঠে আসে। গ্র্যাজুয়েট শিক্ষার্থী র্যাচেল ডেভিস রাশিয়ার আর্কটিক অঞ্চলে স্পুন-বিলড স্যান্ডপাইপার পাখি নিয়ে তার গবেষণার ফলাফল তুলে ধরেন। তাদের দলের প্রচেষ্টায় এই পাখির ডিম ফুটে বেঁচে থাকার হার ছয়গুণ বেড়েছে। জিনগত ম্যাপ তৈরির মাধ্যমে তারা এই পাখির প্রজনন ও বংশগতির বৈচিত্র্য ট্র্যাক করতে কাজ করছেন।
প্রজনন ক্ষমতা ও ইমিউনোলজি নিয়ে বেশ কিছু গবেষণাপত্র উপস্থাপন করা হয়। এর মধ্যে ডিম্বাশয়ের কোষগুলো কীভাবে হরমোনের সংকেতে সাড়া দেয় এবং শুক্রাণু বিকাশের সময় জিন কীভাবে কাজ করে তা আলোচিত হয়। স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষার্থী নিনা মাউরের তার গবেষণায় দেখান, কীভাবে বিকাশের সংকেত ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটলে তা পুরুষের প্রজনন ক্ষমতার ওপর প্রভাব ফেলে। কনর কিয়েন নামের আরেকজন গবেষক দেখিয়েছেন, সংক্রমণের আগেই মানুষের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার টি-কোষগুলো ভিন্ন ভিন্ন প্রতিক্রিয়ার জন্য প্রস্তুত থাকে।
জিনোমিকস প্রযুক্তির এই ব্যাপক ব্যবহার জীববিজ্ঞান গবেষণার ধারাকে বদলে দিচ্ছে। সেন্টারের পরিচালক উইলিয়াম লাই জানান, উর্বরতা, ইমিউনোলজি, বিবর্তন বা পরিবেশ সংরক্ষণ যে বিষয়ই হোক না কেন, সব গবেষণার মূল ভিত্তি হলো জিনোমিকস প্রযুক্তির মাধ্যমে গভীরতর জৈবিক প্রশ্নগুলোর উত্তর খোঁজা। করনেল বিশ্ববিদ্যালয়ের এই উদ্যোগ আগামী দিনে নতুন প্রজন্মের বিজ্ঞানীদের জন্য গবেষণার নতুন দুয়ার উন্মোচন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
