যুক্তরাজ্যের কৃষি ও চিকিৎসা খাতে ব্যবহৃত ছত্রাকনাশক বা ফাঙ্গিসাইডগুলো নিয়ে নতুন আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। ম্যানচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের মতে, কৃষিকাজে ছত্রাকনাশকের ব্যাপক ব্যবহার মানবস্বাস্থ্য ও খাদ্য নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করছে। নেচার এনপিজে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়ালস অ্যান্ড রেজিস্ট্যান্স সাময়িকীতে প্রকাশিত একটি গবেষণাপত্রে বিজ্ঞানীরা সতর্ক করেছেন যে, কৃষি ও চিকিৎসায় ব্যবহৃত একই রাসায়নিক উপাদানগুলো জীবাণুর মধ্যে প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে তুলছে, যা শেষ পর্যন্ত জীবন রক্ষাকারী ওষুধের কার্যকারিতা কমিয়ে দিচ্ছে।
যুক্তরাজ্যের আবাদি জমির ৯৪ শতাংশ ফসলই ছত্রাকনাশক দিয়ে পরিচর্যা করা হয়। এই রাসায়নিকগুলো দীর্ঘ সময় ব্যবহারের ফলে পরিবেশে বিদ্যমান ছত্রাক ও জীবাণুগুলো প্রতিকূল পরিস্থিতির সাথে মানিয়ে নিতে শিখছে। এর ফলে যখন মানুষ কোনো ছত্রাকজনিত সংক্রমণে আক্রান্ত হয়, তখন সাধারণ ওষুধগুলো আর কার্যকর হচ্ছে না। গবেষকরা একে ছত্রাকজনিত অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স হিসেবে চিহ্নিত করেছেন, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য এক নিঃশব্দ হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
গবেষক ড. মাইকেল বটারি জানিয়েছেন, কৃষি ও চিকিৎসা উভয় ক্ষেত্রেই একই ছত্রাকনাশক ব্যবহারের ফলে জীবাণুগুলো শক্তিশালী হয়ে উঠছে। তিনি সতর্ক করে বলেছেন যে, যদি অবিলম্বে এই বিষয়ে জাতীয় পর্যায়ে কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হয়, তবে ভবিষ্যতে আমরা জীবন রক্ষাকারী অনেক ওষুধ হারাব। বর্তমানে বিশ্বজুড়ে প্রতি বছর প্রায় ২৫ লক্ষ মানুষ ছত্রাকজনিত সংক্রমণে মারা যান। বিশেষ করে যারা কেমোথেরাপি নিচ্ছেন, অঙ্গ প্রতিস্থাপন করেছেন বা নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন আছেন, তাদের জন্য এই পরিস্থিতি চরম ঝুঁকিপূর্ণ।
যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টে বিষয়টি উত্থাপন করেছেন ব্যারনস নাটালি বেনেট। তিনি কৃষিখাত এবং জনস্বাস্থ্যের মধ্যে বিদ্যমান গভীর সংযোগের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে একটি জাতীয় কৌশলের আহ্বান জানিয়েছেন। গবেষকরা দাবি করেছেন, বর্তমানে কৃষি, চিকিৎসা এবং পরিবেশ বিষয়ক নিয়ন্ত্রকদের মধ্যে সমন্বয়ের অভাব রয়েছে। তারা একটি শক্তিশালী আন্তঃসরকারি সংস্থার প্রস্তাব দিয়েছেন, যা পরিবেশ ও ক্লিনিক্যাল সেটিংসে নিয়মিত নজরদারি করবে এবং ছত্রাকনাশক ব্যবহারের ক্ষেত্রে কঠোর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা কার্যকর করবে।
বিজ্ঞানীদের দাবি অনুযায়ী, খাদ্য নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও এটি বড় উদ্বেগের কারণ। ছত্রাকনাশকের প্রতি জীবাণুর প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়লে ফসলের সুরক্ষায় ব্যবহৃত ওষুধগুলো তার কার্যকারিতা হারাবে, যার ফলে কৃষি উৎপাদন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই জনস্বাস্থ্য এবং খাদ্য নিরাপত্তার ভারসাম্য বজায় রাখতে অবিলম্বে সমন্বয়মূলক পদক্ষেপ এবং তথ্য বিনিময়ের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। গবেষকদের এই প্রতিবেদনটি বর্তমানে উন্মুক্ত অবস্থায় রয়েছে, যাতে নীতিনির্ধারকরা দ্রুত কার্যকর সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।
