শনিবার, ০৬ জুন, ২০২৬, ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

ভিনগ্রহের সংকেত পেলে করণীয় নিয়ে নতুন বৈশ্বিক নীতিমালা

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : জুন ৬, ২০২৬, ০২:৫১ পিএম

ভিনগ্রহের সংকেত পেলে করণীয় নিয়ে নতুন বৈশ্বিক নীতিমালা

মহাকাশে বুদ্ধিমান প্রাণীর সন্ধানে নিয়োজিত বিজ্ঞানীরা তাদের কার্যক্রমে এক বড় ধরনের পরিবর্তনের সূচনা করেছেন। ম্যানচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মাইকেল গ্যারেটের নেতৃত্বে আন্তর্জাতিক একদল জ্যোতির্বিজ্ঞানী ভিনগ্রহের বুদ্ধিমান প্রাণীর সংকেত শনাক্ত হওয়ার পরবর্তী করণীয় সম্পর্কে নতুন একটি নীতিমালা তৈরি করেছেন। এই নীতিমালা বা প্রোটোকল সম্প্রতি ইন্টারন্যাশনাল একাডেমি অফ অ্যাস্ট্রোনটিক্স বা আন্তর্জাতিক মহাকাশ একাডেমি কর্তৃক আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদিত হয়েছে। দীর্ঘ ১৫ বছরেরও বেশি সময় পর এই প্রোটোকলটি হালনাগাদ করা হলো, যা বর্তমান বিশ্বের পরিবর্তিত তথ্যপ্রযুক্তি ও গণমাধ্যমের চ্যালেঞ্জগুলোকে মাথায় রেখে সাজানো হয়েছে।

বর্তমান সময়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডিপফেক এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের দ্রুত প্রচারের যুগে যে কোনো তথ্যের সত্যতা যাচাই করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অধ্যাপক মাইকেল গ্যারেট, যিনি এই একাডেমির সেটি কমিটির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন, তিনি জানান যে ২০১০ সালের তুলনায় আজকের তথ্য পরিবেশ অনেক বেশি জটিল। এ কারণেই নতুন প্রোটোকলে বৈজ্ঞানিক সত্যতা যাচাইয়ের ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। কোনো অস্বাভাবিক সংকেত পাওয়ার সাথে সাথে তা ভিনগ্রহের প্রাণীর প্রমাণ হিসেবে প্রচার করার সুযোগ নেই। বরং এর জন্য কঠোর বৈজ্ঞানিক যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া পার হতে হবে।

নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, কোনো মহাজাগতিক সংকেত বা কৃত্রিম বস্তুর অস্তিত্ব পাওয়ার পর তা নিয়ে পাবলিক ঘোষণা দেওয়ার আগে বিভিন্ন স্বাধীন সংস্থা ও ভিন্ন ভিন্ন যন্ত্রের মাধ্যমে সেটির সত্যতা নিশ্চিত করতে হবে। একটি মূল বৈজ্ঞানিক নীতি হলো যে অসাধারণ দাবির পক্ষে অসাধারণ প্রমাণ প্রয়োজন। তাই সংকেতটি নির্ভরযোগ্য এবং বিশ্বাসযোগ্য কিনা তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে বৈজ্ঞানিক ঐকমত্য প্রয়োজন। এছাড়া এই প্রোটোকলটি গবেষকদের নিরাপত্তার বিষয়টিকেও অন্তর্ভুক্ত করেছে, যাতে তারা কোনো ধরনের হয়রানি বা ভিত্তিহীন গুজবের শিকার না হন।

একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো এই প্রোটোকলে অটল থাকা যে, কোনো সংকেত পাওয়ার পর তার বিপরীতে কোনো জবাব পাঠানো যাবে না। এই সিদ্ধান্তটি একক কোনো ব্যক্তি বা দেশের নয়, বরং পুরো মানবজাতির সম্পদ হিসেবে গণ্য হবে। এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের জন্য জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর পরামর্শ এবং সম্মতির প্রয়োজন রয়েছে।

আগামী দিনগুলোতে এই প্রোটোকলটি জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জমা দেওয়া হবে। এছাড়া তুরস্কের ইন্টারন্যাশনাল অ্যাস্ট্রোনটিক্যাল কংগ্রেসে এই নীতিমালাটি আনুষ্ঠানিকভাবে উপস্থাপন করা হবে। ভিনগ্রহের বুদ্ধিমান প্রাণীর অস্তিত্ব বা তাদের পাঠানো প্রযুক্তি নিয়ে কোনো নিশ্চিত প্রমাণ পাওয়া গেলে পরবর্তী সামাজিক ও নৈতিক প্রভাব বিবেচনা করার জন্য একটি স্থায়ী উপকমিটি গঠন করা হবে। এই উপকমিটিতে সমাজবিজ্ঞানী, আইন বিশেষজ্ঞ এবং নীতিবিদরা যুক্ত থাকবেন। মহাকাশ গবেষণার ক্ষেত্রে এই নতুন নীতিমালা মানবজাতির জন্য এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করল বলে ধারণা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

banner
Link copied!