শনিবার, ০৬ জুন, ২০২৬, ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

নাসার এক্স-৫৯: প্রথমবারের মতো শব্দের চেয়ে দ্রুতগতিতে উড়ল বিমান

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : জুন ৬, ২০২৬, ০৩:১৩ পিএম

নাসার এক্স-৫৯: প্রথমবারের মতো শব্দের চেয়ে দ্রুতগতিতে উড়ল বিমান

ছবি : সংগৃহীত

মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা তাদের পরীক্ষামূলক এক্স-৫৯ বিমানের মাধ্যমে শব্দের চেয়ে দ্রুতগতিতে ওড়ার এক নতুন মাইলফলক স্পর্শ করেছে। শুক্রবার, ৫ জুন ২০২৬ তারিখে বিমানটি প্রথমবারের মতো শব্দের চেয়ে বেশি গতিতে আকাশে উড়েছে। ক্যালিফোর্নিয়ার এডওয়ার্ডস এয়ার ফোর্স বেস থেকে এই ঐতিহাসিক পরীক্ষা চালানো হয়, যা নাসার কোয়েস্ট মিশনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে গণ্য হচ্ছে। এই অর্জনের মাধ্যমে বিমানটি ভবিষ্যতে আরও উচ্চতর গতিতে ওড়ার প্রস্তুতি সম্পন্ন করল।

পরীক্ষামূলক এই ফ্লাইটের দায়িত্ব পালন করেন নাসার অভিজ্ঞ টেস্ট পাইলট জিম ক্লু লেস। তিনি ক্যালিফোর্নিয়ার স্থানীয় সময় সকাল ১১টা ৮ মিনিটে বিমানটি নিয়ে উড্ডয়ন করেন এবং প্রায় ৮১ মিনিট আকাশে অবস্থান করেন। এই সময়ের মধ্যে বিমানটি ম্যাক ১.১ বা ঘণ্টায় প্রায় ৭১৩ মাইল গতি অর্জন করে এবং ৪৩,৪০০ ফুট উচ্চতায় পৌঁছে যায়। পরীক্ষার সময় টিমটি বিমানটির সাবসনিক এবং সুপারসনিক উভয় গতিতেই ওড়ার সক্ষমতা ও গুণমান পর্যবেক্ষণ করেছে। পুরো পরীক্ষার তথ্য বিশ্লেষণ করে বিমানটি পরবর্তী পর্যায়ের জন্য তৈরি করা হচ্ছে।

নাসার এই কোয়েস্ট মিশন মূলত একটি শান্ত সুপারসনিক ভ্রমণের প্রযুক্তি তৈরি করার লক্ষ্যে পরিচালিত হচ্ছে। প্রচলিত সুপারসনিক বিমানগুলো ওড়ার সময় প্রচণ্ড শব্দ বা সোনিক বুম তৈরি করে, যা বসতিপূর্ণ এলাকার জন্য ক্ষতিকর। নাসার এক্স-৫৯ বিমানটি এমনভাবে ডিজাইন করা হয়েছে যাতে এটি বায়ুর গতির ওপর ভিত্তি করে সোনিক বুমের তীব্রতা কমিয়ে আনতে পারে। এই প্রযুক্তি যদি সফলভাবে প্রয়োগ করা যায়, তবে ভবিষ্যতে সুপারসনিক বিমানের মাধ্যমে স্থলভাগের ওপর দিয়ে খুব কম শব্দে ভ্রমণ করা সম্ভব হবে।

এই প্রকল্পের অন্যতম চ্যালেঞ্জ হলো বিমানটির নকশা এমনভাবে তৈরি করা যাতে এটি বায়ুস্তরের সাথে ঘর্ষণে সৃষ্ট শব্দকে চারদিকে ছড়িয়ে না দিয়ে নিজের ভেতরে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। শুক্রবারের পরীক্ষায় পাওয়া তথ্যগুলো বিজ্ঞানীদের জন্য অত্যন্ত মূল্যবান। এই তথ্যের ভিত্তিতে তারা বুঝতে পারবেন যে নকশা অনুযায়ী বিমানটি কতটা স্থিতিশীল এবং শব্দের চেয়ে দ্রুতগতিতে ওড়ার সময় এর বিভিন্ন যন্ত্রাংশ কতটা সঠিকভাবে কাজ করছে। আগামী মাসগুলোতে এই বিমানের আরো বেশ কিছু উচ্চগতির পরীক্ষা চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

পরীক্ষা শেষে পাইলট জিম লেস বলেন, বিমানটির পারফরম্যান্স প্রত্যাশা অনুযায়ী ছিল এবং এটি অত্যন্ত মসৃণভাবে শব্দের গতির বাধা অতিক্রম করতে সক্ষম হয়েছে। নাসার প্রকৌশলীরা এই বিমানটি তৈরিতে গত কয়েক বছর ধরে নিরলস কাজ করেছেন। তাদের লক্ষ্য হলো বাণিজ্যিক বিমান চলাচলের ক্ষেত্রে একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচন করা। যদি এই প্রযুক্তির বাণিজ্যিক ব্যবহার শুরু হয়, তবে বর্তমান সময়ের তুলনায় অনেক কম সময়ে বিশ্বের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ভ্রমণ করা সম্ভব হবে। এই মাইলফলকটি কেবল নাসার জন্য নয়, বরং বিশ্ব বিমান চলাচল শিল্পের জন্য একটি বড় সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

banner
Link copied!