শনিবার, ০৬ জুন, ২০২৬, ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

ফ্রিজের খাবার ভালো আছে কি না বুঝবেন ১ টাকার কয়েনে

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : জুন ৬, ২০২৬, ০৭:৩৩ পিএম

ফ্রিজের খাবার ভালো আছে কি না বুঝবেন ১ টাকার কয়েনে

তীব্র গরমে শাকসবজি, ফলমূল এবং রান্না করা খাবার ভালো রাখার জন্য রেফ্রিজারেটর বা ফ্রিজ অপরিহার্য। তবে বাংলাদেশে বিশেষ করে গ্রামাঞ্চল বা যেসব এলাকায় ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাট ঘটে, সেসব জায়গায় ফ্রিজে রাখা খাবারের নিরাপত্তা নিয়ে সবসময় এক ধরণের উদ্বেগ কাজ করে। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকলে ফ্রিজের তাপমাত্রা স্বাভাবিক হয়ে বরফ গলে যায়। এই বরফ পুনরায় জমে গেলেও খাবারের গুণমান নষ্ট হয় এবং জীবাণু বংশবিস্তারের সুযোগ তৈরি হয়। এই অনিশ্চয়তা নিরসনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্প্রতি একটি সহজ পদ্ধতি বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছে, যেখানে মাত্র ১ টাকার একটি সাধারণ কয়েন ব্যবহার করে খাবারের নিরাপত্তা যাচাই করা সম্ভব।

এই কৌশলটি বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া অত্যন্ত সহজ এবং এতে কোনো বাড়তি খরচের প্রয়োজন নেই। প্রথমে একটি পাত্রে বা কাচের গ্লাসে পানি ভরে তা ডিপ ফ্রিজে রাখুন। পানি পুরোপুরি জমে শক্ত বরফে পরিণত হলে সেই বরফের ওপরের স্তরে ১ টাকার কয়েনটি রেখে দিন। আপনি যদি কয়েক দিনের জন্য বাড়ির বাইরে যান, তবে এই পদ্ধতিটি আপনাকে নিশ্চিত করবে যে আপনার অনুপস্থিতিতে ফ্রিজ ঠিকমতো সচল ছিল কি না। বাড়িতে ফিরে ফ্রিজ খুলে যদি দেখেন কয়েনটি বরফের একদম ওপরেই রয়েছে, তবে বুঝতে হবে বিদ্যুৎ দীর্ঘ সময়ের জন্য যায়নি এবং ফ্রিজ যথাযথভাবে কাজ করেছে। এক্ষেত্রে ফ্রিজের খাবার পুরোপুরি নিরাপদ থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

বিপরীত দিকে, যদি দেখেন কয়েনটি বরফ ভেদ করে পাত্রের একদম নিচে বা মাঝখানে চলে গেছে, তবে নিশ্চিতভাবে বোঝা যাবে আপনার অনুপস্থিতিতে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ ছিল না। ফ্রিজের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে বরফ গলে পানি হয়ে গিয়েছিল, যার ফলে কয়েনটি নিচে নেমে গেছে। বরফ পুনরায় জমলেও কয়েনের এই অবস্থান পরিবর্তন প্রমাণ করে যে ফ্রিজের ভেতরের তাপমাত্রা নিরাপদ সীমার অনেক ওপরে উঠে গিয়েছিল। এই ধরণের পরিস্থিতিতে খাবার অনেক সময় নষ্ট হয়ে যেতে পারে, যদিও বাইরে থেকে দেখে তা বোঝা সম্ভব নয়।

বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার পর ফ্রিজের বরফ গলে সেই পানি অনেক সময় খাবারের সংস্পর্শে আসে, যা ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া জন্মানোর উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করে। এ ধরণের দূষিত খাবার গ্রহণে পেটের সংক্রমণ বা স্টমাক ইনফেকশনের মতো মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে শিশুদের জন্য এই ঝুঁকি অনেক বেশি। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, দীর্ঘ সময় তাপমাত্রা অনিয়ন্ত্রিত থাকলে খাবার ফেলে দেওয়াই শ্রেয়। সামান্য ১ টাকার কয়েনের এই বৈজ্ঞানিক কৌশলটি ব্যবহার করে খুব সহজেই ফ্রিজে রাখা খাবার খাওয়ার উপযোগী কি না, তা নির্ণয় করা সম্ভব। এটি কেবল অর্থনৈতিক ক্ষতিই রোধ করে না, বরং পরিবারের সদস্যদের স্বাস্থ্য সুরক্ষাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

banner
Link copied!