জনপ্রিয় ইনস্ট্যান্ট মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম হোয়াটসঅ্যাপ তাদের বহুল আলোচিত ডিজিটাল অ্যাভাটার ফিচারটি পুরোপুরি বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মেটার মালিকানাধীন এই অ্যাপটি গত কয়েক বছর ধরে ব্যবহারকারীদের নিজেদের আদলে ভার্চুয়াল চরিত্র তৈরির সুযোগ দিলেও শেষ পর্যন্ত তা আশানুরূপ সাড়া জাগাতে ব্যর্থ হয়েছে। ফলে প্রযুক্তি বিশ্বে বেশ ঢাকঢোল পিটিয়ে চালু করা এই ফিচারটি এখন ইতিহাসের পাতায় ঠাঁই নিতে যাচ্ছে। মেটা আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে যে ব্যবহারকারীদের অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করে তারা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে কারণ অধিকাংশ মানুষ ডিজিটাল কার্টুনের চেয়ে বাস্তব ছবি বা প্রথাগত ইমোজি ব্যবহার করতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছেন।
হোয়াটসঅ্যাপে এই পরিবর্তনের প্রক্রিয়াটি ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে যা ধাপে ধাপে বিশ্বজুড়ে কার্যকর করা হবে। প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে ব্যবহারকারীরা এখন থেকে আর নতুন কোনো অ্যাভাটার তৈরি করতে পারবেন না এবং বিদ্যমান অ্যাভাটারগুলোতে কোনো পরিবর্তন বা এডিট করার সুযোগও থাকছে না। অ্যাপের পরবর্তী আপডেটগুলোতে চ্যাট উইন্ডো, সেটিংস এবং স্টিকার কিবোর্ড থেকে অ্যাভাটার সেকশনটি স্থায়ীভাবে সরিয়ে ফেলা হবে। অনেক ব্যবহারকারী ইতিমধ্যেই তাদের অ্যাপের ভেতরে এই সংক্রান্ত নোটিফিকেশন পেতে শুরু করেছেন এবং অনেকের প্রোফাইল থেকে অপশনটি উধাও হয়ে গেছে বলে জানা গেছে।
আসলে মেটা যখন এই ফিচারটি চালু করেছিল তখন তাদের লক্ষ্য ছিল স্ন্যাপচ্যাটের বিটমোজির মতো একটি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা তৈরি করা। তারা চেয়েছিল ব্যবহারকারীরা ভিডিও কলে বা স্টিকার হিসেবে এই থ্রিডি চরিত্রগুলো ব্যবহার করুক। কিন্তু হোয়াটসঅ্যাপের মতো একটি `ইউটিলিটি-বেসড` অ্যাপে মানুষ সাধারণত দ্রুত যোগাযোগ এবং পেশাদারিত্ব বজায় রাখতে পছন্দ করে। ফলে সেখানে এই ধরনের কার্টুনিশ ফিচার খুব একটা শক্ত অবস্থান তৈরি করতে পারেনি। মেটা কর্তৃপক্ষ লক্ষ্য করেছে যে অধিকাংশ সক্রিয় ব্যবহারকারী এই ফিচারটি একবার পরীক্ষা করে দেখার পর আর নিয়মিত ব্যবহার করেননি।
প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে মেটা এখন তাদের মূল ফোকাস পরিবর্তন করছে এবং অপ্রয়োজনীয় ফিচারগুলো ছেঁটে ফেলে অ্যাপের গতি ও পারফরম্যান্স বাড়ানোর দিকে মনোযোগ দিচ্ছে। বর্তমানে হোয়াটসঅ্যাপে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর ব্যবহার বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। মেটা এআই-এর মাধ্যমে চ্যাটিং অভিজ্ঞতাকে আরও উন্নত করার কাজ চলছে বলেই এই পুরনো ও কম ব্যবহৃত ফিচারগুলো বন্ধ করা হচ্ছে। এটি মূলত মেটার একটি কৌশলগত পিছুটান যা ভবিষ্যতে আরও আধুনিক কোনো ফিচারের পথ প্রশস্ত করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা। যদিও অ্যাভাটার বন্ধের পেছনে জনপ্রিয়তার অভাবকে মূল কারণ বলা হচ্ছে কিন্তু অনেকে মনে করেন মেটা তাদের সার্ভারের ওপর চাপ কমাতে এবং মেমরি সাশ্রয় করতে এই উদ্যোগ নিয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত ফলাফল একটাই যে ব্যবহারকারীরা আর চ্যাট বক্সে নিজেদের থ্রিডি রূপ দেখতে পাবেন না। যারা নিয়মিত এই স্টিকারগুলো ব্যবহার করতেন তাদের জন্য এটি কিছুটা নিরাশাজনক হলেও সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য অ্যাপটি এখন আরও হালকা ও ঝামেলামুক্ত হবে। ডিজিটাল ট্রেন্ড যে সব সময় সফল হয় না হোয়াটসঅ্যাপের এই অ্যাভাটার বন্ধ হওয়ার ঘটনাটি তারই একটি বড় প্রমাণ হিসেবে কাজ করবে।
