রবিবার, ২৪ মে, ২০২৬, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

ইউক্রেনে রাশিয়ার ব্যাপক ড্রোন ও মিসাইল হামলা, নিহত ৪

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : মে ২৪, ২০২৬, ০৩:৩৮ পিএম

ইউক্রেনে রাশিয়ার ব্যাপক ড্রোন ও মিসাইল হামলা, নিহত ৪

ইউক্রেনে একযোগে বড় ধরনের হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। রাতভর ড্রোন ও মিসাইল হামলায় কিয়েভসহ দেশটির একাধিক অঞ্চল কেঁপে উঠেছে। ইউক্রেনের কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, এই ঘটনায় অন্তত ৪ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও অর্ধশতাধিক মানুষ।রাজধানী কিয়েভের পরিস্থিতি এখন উত্তপ্ত।

প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, বিলা সেরকভা শহরে রুশ বাহিনী হাইপারসনিক ওরেশনিক মিসাইল ব্যবহার করেছে। ইউক্রেনের বিমান বাহিনীর দাবি অনুযায়ী, শনিবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাশিয়ার পক্ষ থেকে ৯০টি মিসাইল ও ৬০০ ড্রোন নিক্ষেপ করা হয়েছে। কিয়েভ পুলিশ জানিয়েছে, শহরের ৫০টির বেশি স্থানে আঘাত হেনেছে এই হামলা। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আবাসিক ভবন, শপিং মল এবং জরুরি সেবা ও পুলিশের বেশ কিছু স্থাপনা। এছাড়া একটি পানি সরবরাহ কেন্দ্রেও হামলা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন জেলেনস্কি।

রাশিয়ার এই হামলাকে একটি বড় ধরনের প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। শুক্রবার স্টারোবিলস্ক শহরের একটি ছাত্রাবাসে ইউক্রেনীয় হামলায় ১৮ জন নিহত হওয়ার পর এই হামলার ঘোষণা দিয়েছিলেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। ইউক্রেনের সশস্ত্র বাহিনী স্বীকার করেছে যে তারা স্টারোবিলস্কের কাছে হামলা চালিয়েছিল। তবে তাদের দাবি, লক্ষ্যবস্তু ছিল রাশিয়ার একটি এলিট সামরিক ইউনিট।

এই হামলার পর কিয়েভের সামরিক প্রশাসনের প্রধান টিমুর ত্যাশেঙ্কো টেলিগ্রামে বার্তা দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, রাজধানী বড় ধরনের ব্যালিস্টিক আক্রমণের শিকার হয়েছে। আরও হামলার আশঙ্কা করা হচ্ছে বলেও সতর্ক করেছেন তিনি। মেয়র ভিটালি ক্লিটসকো জানিয়েছেন, কিয়েভ শহরেই ২ জন নিহত হয়েছেন। শহরের শেভচেনকো জেলায় নয়তলা বিশিষ্ট একটি আবাসিক ভবনে আঘাতের পর আগুন ধরে যায়। একই এলাকায় একটি স্কুলের এয়ার রেইড শেল্টারের প্রবেশপথ ধ্বংসস্তূপের কারণে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ভেতরে কয়েকজন আটকা পড়েছেন।

ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা জানিয়েছেন, কিয়েভ ছাড়াও চেরকাসি, খারকিভ, ক্রোপিভনিৎস্কি, ওদেসা, পোলতাভা, সুমি এবং ঝিতোমির অঞ্চলে হামলা হয়েছে। জরুরি সেবা সংস্থাগুলো সব জায়গায় আগুন নেভানো, ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি জানিয়েছেন, সব মিলিয়ে আহত মানুষের সংখ্যা অন্তত ৮৩।

banner
Link copied!