হরমুজ প্রণালির কাছে একটি মার্কিন অ্যাপাচি হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। মঙ্গলবার সকালে এই ঘটনা ঘটে। হেলিকপ্টারটিতে দুইজন মার্কিন সেনাসদস্য ছিলেন, তবে সামরিক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে তাদের নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে এবং তারা শারীরিকভাবে সুস্থ আছেন। দুর্ঘটনাটি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। হেলিকপ্টারটি শত্রুপক্ষের কোনো আক্রমণের কারণে বিধ্বস্ত হয়েছে নাকি এর পেছনে কোনো যান্ত্রিক ত্রুটি ছিল, তা যাচাই করতে তদন্ত শুরু হয়েছে। মার্কিন কর্তৃপক্ষ এখনো এ বিষয়ে নিশ্চিত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সাম্প্রতিক সামরিক উত্তেজনার মধ্যে এই দুর্ঘটনার ঘটনাটি বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহ পথ হিসেবে পরিচিত। এই অঞ্চলে মার্কিন উপস্থিতি এবং ইরান-যুক্তরাষ্ট্র পাল্টাপাল্টি অবস্থানের কারণে পরিস্থিতি বেশ অস্থিতিশীল। গত কয়েক মাস ধরে উভয় দেশের মধ্যে সামরিক মহড়া ও পাল্টাপাল্টি হুঁশিয়ারির ঘটনা নিয়মিত হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, পাইলটরা নিরাপদে আছেন এবং এ বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন পরবর্তীতে প্রকাশ করা হবে।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একে অপরের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ এনেছে। এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মধ্যেই মার্কিন বাহিনী হরমুজ এলাকায় নিয়মিত টহল দিয়ে আসছে। সেখানে অ্যাপাচি হেলিকপ্টার ছাড়াও এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন এবং এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানসহ উন্নত প্রযুক্তির সামরিক সরঞ্জাম মোতায়েন রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র। সংঘর্ষ শুরু হওয়ার পর থেকে ইরান বেশ কয়েকবার মার্কিন ড্রোন ভূপাতিত করার দাবিও করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনা অঞ্চলটির উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। ইরান সম্প্রতি ইসরায়েলের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান স্থগিত রাখার ঘোষণা দিলেও, সামগ্রিক পরিস্থিতি এখনো থমথমে। মার্কিন সামরিক বাহিনীর দাবি, তারা অঞ্চলটিতে নজরদারি ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে তাদের কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে। তবে আজকের এই দুর্ঘটনা সামরিক কৌশলের ক্ষেত্রে একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিচ্ছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এটি কেবল একটি দুর্ঘটনা নাকি বড় কোনো সংঘাতের সূচনা, তা নিশ্চিত করা কঠিন।
