বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট, ২০২৬, ১২ ভাদ্র ১৪৩৩

গাজার ৩০০ শিশুর নাম খোদাই করা গাউন তৈরি করলেন শিল্পী ডায়ানা

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : জুলাই ১৩, ২০২৬, ০৬:৪৪ পিএম

গাজার ৩০০ শিশুর নাম খোদাই করা গাউন তৈরি করলেন শিল্পী ডায়ানা

ওয়েলসের অবসরপ্রাপ্ত শিল্পকলার শিক্ষক ডায়ানা উইলিয়ামস গাজায় ইসরায়েলি হামলায় নিহত শিশুদের স্মরণে একটি ব্যতিক্রমী শিল্পকর্ম তৈরি করেছেন। একটি পুরনো বাপ্তিস্মের গাউনকে তিনি ক্যানভাস হিসেবে ব্যবহার করেছেন। লাল সুতা দিয়ে তিনি সেখানে ৩০০ জন শিশুর নাম ফুটিয়ে তুলেছেন। এক বছর ধরে তিনি এই কাজটি করেছেন এবং প্রতিটি নাম পরম যত্নে সেলাই করেছেন। আল জাজিরার সঙ্গে আলাপকালে ডায়ানা জানান, একটি বাপ্তিস্মের গাউন সাধারণত পবিত্রতা ও নিষ্পাপতার প্রতীক, যা গাজার নিহত শিশুদের পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তিনি বেছে নিয়েছেন।

ডায়ানা এই শিল্পকর্মের নিচের অংশটি একটি কড়া পরিষ্কারক উপাদানে ভিজিয়ে রেখেছিলেন, যার ফলে কাপড়ের প্রান্তগুলো ছিঁড়ে গেছে। তিনি চেয়েছিলেন গাউনটি যেন জীর্ণ ও ছিন্নভিন্ন দেখায়, যা গাজার বর্তমান ভয়াবহ পরিস্থিতিকে তুলে ধরে। ঝুলিয়ে রাখার পর এই সুতাগুলো নিচে জমা হয়ে রক্তের একটি আস্তরণের মতো দেখায়। শিল্পী বলেন, এটি গভীর শোক ও অপূরণীয় ক্ষতির প্রতীক। তিনি যখন কাজ করেন, তখন প্রতিটি নাম সেলাই করার সময় তার মনের অবস্থা ছিল অত্যন্ত ভারাক্রান্ত।

এই শিল্পকর্মটির শিরোনাম দেওয়া হয়েছে নো দেয়ার নেমস বা তাদের নাম জানুন। এটি আল জাজিরার একটি ইন্টারঅ্যাক্টিভ সিরিজের নাম, যেখানে ইসরায়েলি হামলায় নিহত হাজার হাজার ফিলিস্তিনির তালিকা রয়েছে। ২০৩৩ সালের অক্টোবর থেকে এখন পর্যন্ত ইসরায়েলি হামলায় গাজায় ২০ হাজারেরও বেশি শিশু নিহত হয়েছে। ডায়ানার তৈরি করা এই গাউনে এক বছরের কম বয়সী শিশুদের নাম রয়েছে, যাদের মধ্যে সারা, ইলিয়াস, মাই এবং মোনা অন্যতম।

ডায়ানা নিজে তিন সন্তানের জননী এবং দুই নাতি-নাতনির দাদি। গাজার মায়েদের হাহাকার ও শোক দেখে তিনি মানসিকভাবে স্থির থাকতে পারেননি। তার মতে, বিশ্বের অধিকাংশ রাজনীতিক এখন পর্যন্ত এই ভয়াবহতার বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছেন। তিনি প্রশ্ন রাখেন যে, বিশ্বনেতারাও মা-বাবা এবং নানা-দাদা হয়ে থাকেন, তবুও কীভাবে তারা এই নৃশংসতা চলতে দিতে পারেন। রাজনীতিকদের চেয়ে সাধারণ মানুষই গাজার মানুষের প্রতি গভীর সহানুভূতি প্রদর্শন করছেন বলে তিনি মনে করেন।

ডায়ানার এই কাজ মূলত সাধারণ মানুষের কাছে গাজার শিশুদের অপূরণীয় ক্ষতির ভয়াবহতা তুলে ধরার একটি প্রচেষ্টা। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, এই শিল্পকর্মটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রদর্শিত হবে এবং মানুষ গাজার বাস্তব পরিস্থিতি সম্পর্কে আরও স্পষ্টভাবে জানতে পারবে। শোকের এই প্রতীকটি এখন গাজার শিশুদের হারানোর বেদনাকে বিশ্বমঞ্চে স্মরণ করিয়ে দেওয়ার এক শক্তিশালী মাধ্যম হয়ে উঠেছে। ডায়ানা বিশ্বাস করেন, শিল্পের ভাষা অনেক সময় রাজনীতির চেয়েও শক্তিশালী বার্তা দিতে সক্ষম।

banner
Link copied!