বুধবার, ০৫ আগস্ট, ২০২৬, ২১ শ্রাবণ ১৪৩৩

বিতর্কিত প্রচারণার জেরে কোরিয়ায় স্টারবাকস দপ্তরে অভিযান

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : আগস্ট ৫, ২০২৬, ০৭:৫০ পিএম

বিতর্কিত প্রচারণার জেরে কোরিয়ায় স্টারবাকস দপ্তরে অভিযান

দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউলে অবস্থিত আন্তর্জাতিক কফি চেইন স্টারবাকস-এর জাতীয় সদর দপ্তরে বুধবার আকস্মিক অভিযান চালিয়েছে দেশটির পুলিশ, ইয়োনহাপ নিউজ এজেন্সি ও রয়টার্স জানিয়েছে। একটি বিতর্কিত বিপণন প্রচারণার মাধ্যমে ১৯৮০ সালের ঐতিহাসিক গোয়াংজু অভ্যুত্থানের শহীদদের অবমাননার অভিযোগে এই পুলিশি পদক্ষেপ নেওয়া হয়। গত মে মাসে শুরু হওয়া ওই বিশেষ প্রচারণার নাম ছিল ‍‍`ট্যাংক ডে‍‍`, যা প্রকাশের পরপরই দক্ষিণ কোরিয়া জুড়ে ব্যাপক ক্ষোভ ও সাধারণ মানুষের বর্জনের জন্ম দেয়।

মে মাসে ঐতিহাসিক গোয়াংজু গণতন্ত্রপন্থি অভ্যুত্থানের বার্ষিকীতে স্টারবাকস কোরিয়া তাদের কফি পানের বিশেষ পাত্র বা টাম্বলার বিক্রির জন্য এই ছাড়ের আয়োজন করে। উল্লেখ্য যে, ১৯৮০ সালের ওই অভ্যুত্থান দমনে সামরিক শাসক চুন দু-হোয়ানের নির্দেশে ভারী ট্যাংক ব্যবহার করা হয়েছিল, যাতে শত শত নিরীহ মানুষ প্রাণ হারায়। কেবল ‍‍`ট্যাংক‍‍` শব্দটিই নয়, প্রচারণায় ব্যবহৃত ‍‍`টেবিলে সজোরে থাপ্পড়‍‍` বা কোরীয় ভাষায় ‍‍`তাক‍‍` শব্দটি নিয়েও তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়। কারণ, ১৯৮৭ সালে পুলিশি হেফাজতে এক ছাত্রনেতার নির্মম মৃত্যুর ঘটনা ধামাচাপা দিতে পুলিশ ঠিক এই শব্দটি ব্যবহার করেছিল বলে সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে।

এই চরম অসংবেদনশীল ঘটনার পর দক্ষিণ কোরিয়া জুড়ে সাধারণ মানুষ ব্যাপকভাবে স্টারবাকস বর্জনের ডাক দেয়। তীব্র প্রতিবাদের মুখে স্টারবাকসের নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠান শিনসেগায়ে গ্রুপ কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই প্রচারণাটি প্রত্যাহার করে ক্ষমা চাইতে বাধ্য হয়। তারা একটি অভ্যন্তরীণ তদন্ত শেষে দাবি করে যে, এটি সম্পূর্ণ অনিচ্ছাকৃত ভুল ছিল। প্রচারণার পরিকল্পনাকারী দল এবং কোম্পানির উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা ওই ঐতিহাসিক বিয়োগান্তক ঘটনার সঙ্গে শব্দগুলোর মিল ধরতে ব্যর্থ হয়েছিলেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে স্টারবাকস কোরিয়ার প্রধান নির্বাহী সন জুং-হিউনকে বরখাস্ত করা হয়। পাশাপাশি ইতিহাস সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে দেশজুড়ে তাদের সমস্ত শাখা অর্ধদিবসের জন্য বন্ধ রেখে কর্মীদের বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। এই বিতর্কের জেরে স্টারবাকসের অন্যতম বৃহৎ বাজার দক্ষিণ কোরিয়ায় তাদের বিক্রি আশঙ্কাজনক হারে কমে যায়।

নাগরিক অধিকার গোষ্ঠীগুলো কোম্পানির এই দাবি মেনে নেয়নি। তারা স্টারবাকস কোরিয়ার নিয়ন্ত্রক শিনসেগায়ে গ্রুপের চেয়ারম্যান চুং ইয়ং-জিনের বিরুদ্ধে শহীদদের অবমাননা ও মানহানির অভিযোগে ফৌজদারি মামলা দায়ের করে। তারই ধারাবাহিকতায় সিউল মেট্রোপলিটন পুলিশ এজেন্সির বিশেষ দল গ্যাংনাম এলাকায় অবস্থিত স্টারবাকসের সদর দপ্তরে নথিপত্র জব্দ করতে এই তল্লাশি চালায়। পুলিশ মূলত খতিয়ে দেখছে যে, কোম্পানিটি ইচ্ছাকৃতভাবেই গণতন্ত্রপন্থি আন্দোলনের শহীদদের অপমান করতে এই প্রচারণার ছক কষেছিল কি না। দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে-মিয়ুং এই প্রচারণার কঠোর সমালোচনা করে বলেছেন, এটি গোয়াংজু বাসিন্দাদের রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম ও আত্মত্যাগের প্রতি চরম অপমান। তবে স্থানীয় রাজনীতির ময়দানে বিষয়টি ভিন্ন মাত্রা পেয়েছে। ডানপন্থি রাজনৈতিক গোষ্ঠীগুলো এখন স্টারবাকসের কাপকে বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে তাদের সভা-সমাবেশে প্রতিবাদের প্রতীক হিসেবে ব্যবহার করতে শুরু করেছে।

ইসলামি জীবনব্যবস্থায় ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে সামাজিক দায়বদ্ধতা ও নৈতিকতা বজায় রাখা অপরিহার্য। কোনো জাতি বা গোষ্ঠীর ঐতিহাসিক ট্র্যাজেডি বা বেদনা নিয়ে উপহাস করা ইসলামে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা সুস্পষ্টভাবে নির্দেশ দিয়েছেন, কোনো সম্প্রদায় যেন অপর কোনো সম্প্রদায়কে উপহাস না করে (সূরা আল-হুজুরাত, ৪৯:১১)। বাণিজ্যিক লাভের আশায় মানুষের আবেগকে আঘাত করা এবং যেকোনো ধরনের উসকানিমূলক বা মানহানিকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকাই হলো একটি সুস্থ, শান্তিপূর্ণ ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজের মূলভিত্তি

banner
Link copied!