ভারত সরকার পাকিস্তানের সঙ্গে ১৯৬০ সালের ঐতিহাসিক সিন্ধু পানি চুক্তি পুনর্বহালের জন্য হেগ আদালতের স্থায়ী সালিশি ট্রাইব্যুনালের দেওয়া নির্দেশ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে। উম্মাহকণ্ঠ ডট কম-এর আন্তর্জাতিক ডেস্কের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে যে নয়াদিল্লি এই বিষয়ে আদালতের কোনো ধরনের এখতিয়ার নেই বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে। কাশ্মীরের নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগের কারণে গত বছরের এপ্রিল মাসে ভারত এই চুক্তি স্থগিত করেছিল, যার ফলে দুই দেশের দীর্ঘদিনের পানি বণ্টন চুক্তি নিয়ে নতুন করে তীব্র কূটনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
আন্তর্জাতিক সালিশি আদালত গত সোমবার এক রায়ে জানিয়েছে যে এই চুক্তিটি পুরোপুরি বাধ্যতামূলক এবং চুক্তিটি বাতিল বা স্থগিত করার কোনো আইনগত ভিত্তি ভারতের নেই। আদালত কাশ্মীর উপত্যকায় রাতলে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের নির্মাণকাজে নির্দিষ্ট সীমা বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছে এবং বিশ্ব ব্যাংক কর্তৃক নিযুক্ত নিরপেক্ষ বিশেষজ্ঞের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত বাঁধের দেওয়াল ও জল গ্রহণ কাঠামোর কাজ নিষিদ্ধ করেছে। তবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে যে তারা এই আদালতকে স্বীকৃতি দেয় না এবং আদালতের একতরফা সিদ্ধান্ত দেশের সার্বভৌম সিদ্ধান্তের ওপর কোনো প্রভাব ফেলবে না।
বিশ্লেষকদের মতে, কাশ্মীর সংকট ও নিরাপত্তা উদ্বেগের জেরে তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে টিকে থাকা এই চুক্তিটি বর্তমানে চরম হুমকির মুখে পড়েছে। ১৯৬০ সালের সিন্ধু পানি চুক্তির অধীনে এই অভিন্ন নদী ব্যবস্থাগুলো পাকিস্তানের মোট কৃষিজমির প্রায় ৮০ শতাংশ জমিতে সেচ ও পানি সরবরাহ নিশ্চিত করে। ভারত এর আগে কাশ্মীরের দুটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে জলাধারের ধারণক্ষমতা বৃদ্ধির কাজ শুরু করলে পাকিস্তান আন্তর্জাতিক আইনের আশ্রয় নেয় এবং আদালতের দ্বারস্থ হয়।
পাকিস্তানের পক্ষ থেকে আদালতের অন্তর্বর্তীকালীন এই রায়কে স্বাগত জানানো হয়েছে। ইসলামাবাদ জানিয়েছে যে তারা চুক্তির আইনি বাধ্যবাধকতার অধীনে পারস্পরিক আলোচনা পুনরায় চালুর পথ খুঁজে বের করতে আদালতের রায়ের বিস্তারিত খুঁটিনাটি খতিয়ে দেখছে। তবে নয়াদিল্লির কঠোর অবস্থানের কারণে দক্ষিণ এশিয়ার এই দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যকার পানিসম্পদ ও ভূরাজনৈতিক বিরোধ আরও ঘনীভূত হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
