দক্ষিণ লেবাননে যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর থাকার পরও রবিবার ভোরে ইসরায়েলি বিমান হামলায় দুই নারীসহ অন্তত চারজন নিহত এবং বিশজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও আল জাজিরা। লেবাননের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা জানিয়েছে, ভোর থেকে শুরু হওয়া এই ধারাবাহিক বিমান হামলা নাবাতিয়েহ, আরব সালিম, নাবাতিয়েহ আল-ফাওকা এবং কফর রেমানে আঘাত হানে। আরব সালিম শহরে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর জোরপূর্বক উচ্ছেদ আদেশের পর একটি আবাসিক ভবনে হামলায় দুই নারী নিহত হন এবং আরও ছয়জন আহত হন। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নাবাতিয়েহ আল-ফাওকায় আরেকটি পৃথক হামলায় অন্তত দুজন নিহত এবং দুইজন আহত হয়েছেন।
লেবাননের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, নাবাতিয়েহ শহরে চালানো হামলায় দেশটির এক সংসদ সদস্যের ভাইয়ের মালিকানাধীন একটি ঐতিহাসিক ভবন পুরোপুরি ধ্বংস হয়েছে এবং সংলগ্ন অর্থ ও কৃষি মন্ত্রণালয়ের দপ্তর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কফর রেমানে একটি হামলায় শহরটির প্রয়াত সাবেক মেয়রের বসতবাড়ি ধ্বংস হয়ে যায়, যেখানে আহত পাঁচজনকে নাবাতিয়েহর বিভিন্ন হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় একটি পার্কের অবশিষ্টাংশও পরবর্তী ক্ষেপণাস্ত্র আঘাতে ধ্বংস করা হয়। নাবাতিয়েহ আল-ফাওকা এলাকায় আরেকটি হামলায় গান্দুর হাসপাতালের একটি অংশও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে স্থানীয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে।
ইসরায়েলি বিমান হামলায় দক্ষিণ লেবাননের জনবসতি নতুন করে ধ্বংসের মুখে পড়েছে।
তেল আবিব দাবি করেছে, দক্ষিণ লেবাননে তাদের মোতায়েন থাকা বাহিনীর দিকে হিজবুল্লাহ দুটি ড্রোন পাঠানোর প্রতিক্রিয়ায় তারা এই হামলা চালিয়েছে, যা তাদের মতে যুদ্ধবিরতির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। তবে হিজবুল্লাহ এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে জানিয়েছে, পশ্চিমা মদদ ও আন্তর্জাতিক নীরবতার সুযোগ নিয়েই লেবাননের বেসামরিক ভূখণ্ডে ধারাবাহিকভাবে আগ্রাসন অব্যাহত রেখেছে তেল আবিব। গত মার্চ থেকে শুরু হওয়া সামরিক অভিযানে লেবাননে চার হাজার তিনশর বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির সরকার।
গত জুনে স্বাক্ষরিত যৌথ সমঝোতা সত্ত্বেও দক্ষিণ লেবাননের গ্রামগুলোতে দফায় দফায় বিমান হামলা, কামান গোলাবর্ষণ ও স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়ার তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। এর আগে শুক্রবারও দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলে বিমান হামলায় চারজন নিহত হয়েছিলেন। এদিকে ইসরায়েলি গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, রাজনৈতিক নেতৃত্বের চূড়ান্ত অনুমোদন না পেলেও বিতর্কিত সীমানা থেকে কিছুটা সেনা সরিয়ে নেওয়ার কৌশলগত পরিকল্পনা বিবেচনা করছে দেশটির সামরিক বাহিনী। কাতারের প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আব্দুল রহমান বিন জসিম আল থানি পরিস্থিতি শান্ত করার লক্ষ্যে লেবাননের প্রধানমন্ত্রী নওয়াফ সালামের সাথে ফোনে আলোচনা করেছেন।
