মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩

পেন্টাগনের হিসাবে ইরানি হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের বড় ক্ষয়ক্ষতি

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬, ০৬:০৭ পিএম

পেন্টাগনের হিসাবে ইরানি হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের বড় ক্ষয়ক্ষতি

ইরানের পাল্টা হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের বিপুল সংখ্যক সামরিক উড়োজাহাজ ধ্বংস হওয়ার পাশাপাশি উপসাগরীয় অঞ্চলের শত শত সামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের অভ্যন্তরীণ নজরদারি সংস্থা। সোমবার প্রকাশিত ইন্সপেক্টর জেনারেলের এক বিশদ প্রতিবেদনে জানানো হয়, চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত সংঘাতে অন্তত ৩০টি এমকিউ-নাইন রিপার ড্রোনসহ কয়েক ডজন আকাশযান হারিয়েছে ওয়াশিংটন। এর বাইরে মার্কিন বাহিনী মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের ব্যবহৃত শত শত ভবন ও অবকাঠামো হারানোর পাশাপাশি বড় ধরনের অস্ত্র সংকটে পড়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

ক্ষয়ক্ষতির এই মাত্রা আগে স্বীকার করা তথ্যের চেয়ে অনেক বেশি।

প্রতিবেদনের তথ্যমতে, সংঘাতের প্রথম চার মাসে সরাসরি শত্রুপক্ষের হামলায় ১১ জন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন। এর বাইরে যুদ্ধক্ষেত্রের অন্যান্য দুর্ঘটনায় আরও সাত সেনার মৃত্যু হয়েছে। গত ১ মার্চ কুয়েতের শুয়াইবা বন্দরে ছয়জন এবং একই দিনে সৌদি আরবে একজন নিহত হন। পরবর্তীতে ১৭ জুলাই জর্ডানের মুওয়াফ্ফাক আল-সালতি বিমান ঘাঁটিতে তিনজন এবং ১৯ জুলাই ইরাকের ইরবিল ঘাঁটিতে আরেক মার্কিন সেনা নিহত হন। একই সময়ে ইরানি হামলায় আহত হয়েছেন অন্তত ৪১৭ জন মার্কিন সামরিক সদস্য।

আকাশপথে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষতি কেবল ড্রোনেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। হামলায় চারটি এফ-ফিফটিন-ই যুদ্ধবিমান পুরোপুরি ধ্বংস হয়েছে, যার তিনটি কুয়েতের আকাশে নিজস্ব গোলার আঘাতে এবং একটি এপ্রিল মাসে ইরানের অভ্যন্তরে অভিযানের সময় ভূপাতিত হয়। অত্যন্ত সংবেদনশীল ও শক্তিশালী এফ-থার্টিফাইভ-এ স্টেলথ যুদ্ধবিমানও মার্চ মাসে ইরানি গোলার আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এছাড়া মার্কিন পদাতিক বাহিনীকে আকাশ থেকে সুরক্ষা দেওয়ার কাজে ব্যবহৃত একটি এ-টেন বিমান গুলি করে নামিয়েছে ইরান।

গোলাবারুদের মজুদে তৈরি হয়েছে বড় ধরনের টানাপোড়েন।

আকাশে যুদ্ধবিমানকে জ্বালানি সরবরাহকারী বড় সাতটি কেসি-১৩৫ ট্যাংকার বিমান ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। এর মধ্যে একটি গত ১২ মার্চ ইরাকে বিধ্বস্ত হলে ক্রু সদস্যরা মারা যান এবং সৌদি আরবের মাটিতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় পাঁচটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান ঘাঁটিতে একটি ই-থ্রি সেন্ট্রি নজরদারি বিমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উদ্ধার তৎপরতার সময় ধ্বংস হওয়া চারটি এএইচ-সিক্স লাইট হেলিকপ্টার উদ্ধারে ব্যর্থ হয়ে নিজেরাই গুঁড়িয়ে দেয় মার্কিন বাহিনী। এর বাইরে হরমুজ প্রণালীর কাছে একটি অ্যাপাচি হেলিকপ্টার ভূপাতিত হয়েছে এবং আরব সাগরে নৌবাহিনীর একটি সামরিক হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়। নজরদারি কাজে ব্যবহৃত ২৪০ মিলিয়ন ডলার মূল্যের একটি এমকিউ-ফোর-সি ট্রাইটন ড্রোন এপ্রিল মাসে সাগরে আছড়ে পড়ে।

নজরদারি সংস্থার এই হিসাব মার্কিন প্রশাসনের পূর্ববর্তী আশ্বাসের সঙ্গে স্পষ্টভাবে সাংঘর্ষিক। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অতীতে অস্ত্রভাণ্ডারকে সীমাহীন দাবি করলেও বাস্তবে পেন্টাগন এখন সামরিক রসদের দীর্ঘমেয়াদি সংকটে পড়েছে। নতুন অস্ত্র তৈরির ধীরগতি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে প্রতিরক্ষা দপ্তর জানিয়েছে, সামনের দিনগুলোতে জরুরি পরিস্থিতি মোকাবেলায় সংগ্রহ প্রক্রিয়া গতিশীল করার চেষ্টা চলছে। এর মধ্যেই হরমুজ প্রণালীতে নজরদারি ড্রোন ভূপাতিত করার পাশাপাশি একটি মার্কিন সাবমার্সিবল যান জব্দ করার দাবি করেছে তেহরান।

banner
Link copied!