বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩

ইরানে মার্কিন হামলায় যুদ্ধাপরাধের প্রমাণ পাওয়ার দাবি জাতিসংঘের

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬, ০৯:২৩ পিএম

ইরানে মার্কিন হামলায় যুদ্ধাপরাধের প্রমাণ পাওয়ার দাবি জাতিসংঘের

ইরানে মার্কিন হামলায় বেসামরিক লক্ষ্যবস্তু আক্রান্ত হওয়ার ঘটনায় যুদ্ধাপরাধ সংঘটিত হয়েছে বলে বিশ্বাস করার যথেষ্ট আইনি ভিত্তি পেয়েছে জাতিসংঘের স্বাধীন আন্তর্জাতিক তদন্ত মিশন। জেনেভায় মানবাধিকার পরিষদে উপস্থাপনের জন্য তৈরি করা প্রতিবেদনে আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা জানান, গত ফেব্রুয়ারিতে দক্ষিণাঞ্চলীয় মিনাব শহরের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং লামার্দ শহরের একটি ক্রীড়া কমপ্লেক্সে পরিচালিত হামলায় ব্যাপক বেসামরিক হতাহতের ঘটনা ঘটে। আন্তর্জাতিক ওয়্যার সার্ভিস ও মানবাধিকার পর্যবেক্ষকদের তথ্যমতে, স্পষ্টত বেসামরিক স্থাপনা জেনেও মার্কিন সামরিক বাহিনী অপরীক্ষিত গোয়েন্দা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে এসব লক্ষ্যবস্তুতে বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছিল।

আন্তর্জাতিক তদন্তে বেসামরিক মৃত্যুর ভয়াবহ পরিসংখ্যান উঠে এসেছে।

জাতিসংঘের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মিনাব শহরের শাজারেহ তাইয়্যেবাহ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলা চালানো হয়। এতে দেড় শতাধিক মানুষ নিহত হন, যাদের মধ্যে প্রায় ১২০ জনই ছিল কোমলমতি শিক্ষার্থী। তদন্তকারীরা নিশ্চিত করেছেন যে বিদ্যালয় ভবনটি আলাদা ও স্পষ্ট বেসামরিক স্থাপনা হিসেবে চিহ্নিত ছিল এবং সেখানে সামরিক উপস্থিতির কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। একই দিনে লামার্দ শহরের জনবহুল ক্রীড়া কমপ্লেক্স ও সংলগ্ন আবাসিক এলাকায় বিশেষ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়, যাতে ধাতব টুকরো ছড়িয়ে পড়ে ২২ জন বেসামরিক নাগরিক হতাহত হন।

বেসামরিক স্থাপনায় এমন নির্বিচার আঘাত আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের সরাসরি লঙ্ঘন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পূর্বে দাবি করেছিলেন যে তাদের বাহিনী ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো প্রাথমিক বিদ্যালয় লক্ষ্যবস্তু করেনি। তবে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগনের প্রাথমিক অভ্যন্তরীণ তদন্তেও এই প্রাণঘাতী হামলার সম্ভাব্য দায় চিহ্নিত হলেও এর পূর্ণাঙ্গ ফলাফল এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। জাতিসংঘের তদন্ত দল জানিয়েছে, পুরোনো তথ্যের ওপর নির্ভর করে বেসামরিক মানুষের উপস্থিতির তীব্র ঝুঁকি জেনেও এমন বেপরোয়া আক্রমণ চালানো নিছক অবহেলা নয়, বরং আন্তর্জাতিক আইনে তা স্পষ্ট যুদ্ধাপরাধের শামিল।

প্রতিবেদনে একইসঙ্গে ইরানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বাহিনীর মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়টিও তুলে ধরা হয়। বিক্ষোভ দমনে দেশটির সরকারের প্রাণঘাতী শক্তি প্রয়োগ, ব্যাপক গ্রেপ্তার ও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করার পদক্ষেপকে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে মিশন। প্রতিবেদনে জোর দিয়ে বলা হয় যে সাধারণ ইরানি নাগরিকেরা তাদের নিজ সরকারের অভ্যন্তরীণ নিপীড়ন এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের প্রাণঘাতী সামরিক আগ্রাসনের মাঝে আটকা পড়েছেন।

জাতিসংঘ মিশন উভয় পক্ষকে অবিলম্বে সব ধরনের লঙ্ঘন বন্ধ এবং ভুক্তভোগীদের পূর্ণ ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে।

এদিকে আঞ্চলিক উত্তেজনা ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য রণক্ষেত্রেও নতুন বাগ্‌যুদ্ধ শুরু হয়েছে। ইয়েমেনের হুতি আন্দোলনের নেতা আব্দুল মালিক আল-হুতি এক ভাষণে দাবি করেছেন যে তারা সম্পূর্ণ আত্মরক্ষামূলক অবস্থান থেকে সৌদি আরবের সামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে পদক্ষেপ নিচ্ছেন। মক্কায় হামলার সৌদি অভিযোগকে তিনি ভিত্তিহীন বলে নাকচ করেন। অপরদিকে অধিকৃত অঞ্চলে এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ঘোষণা দিয়েছেন যে তারা গাজায় হামাসকে নির্মূলের পাশাপাশি ইরানের ক্ষমতাসীন শাসনব্যবস্থা ও লেবাননের হিজবুল্লাহকে সম্পূর্ণ উৎখাত করবেন।

banner
Link copied!