হরমুজ প্রণালিতে শুক্রবার একটি তেলের জাহাজে অজ্ঞাত ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে বলে যুক্তরাজ্যের সামুদ্রিক বাণিজ্য সংস্থা নিশ্চিত করেছে। ওই ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে বাণিজ্যিক জাহাজটিতে তাৎক্ষণিক আগুন ধরে গেলেও নাবিকরা দ্রুত তা নিভিয়ে ফেলতে সক্ষম হন। ঘটনার পর জাহাজের সব নাবিক নিরাপদে রয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সংস্থাটি জানিয়েছে।
জাহাজটিতে অগ্নিকাণ্ডের পর সব নাবিক নিরাপদ আছেন।
এর আগে দিনের শুরুর ভাগে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি টোগোর পতাকাবাহী জাহাজে আঘাত হানার দাবি করে। তেহরানের দাবি অনুযায়ী, জাহাজটি প্রণালি দিয়ে অবৈধভাবে পারাপারের চেষ্টা চালাচ্ছিল। এই ঘটনার মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি ইরানের বিরুদ্ধে পরবর্তী সামরিক পদক্ষেপের বিষয়ে একটি বড় সিদ্ধান্তের দ্বারপ্রান্তে রয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া বক্তব্যে তিনি জানান, যেকোনো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
এদিকে ওয়াশিংটনের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক যুদ্ধ ও অপপ্রচারের অভিযোগ এনেছেন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে তিনি বলেন, সাধারণ ইরানি নাগরিকদের সর্বোচ্চ দুর্ভোগে ফেলতে পরিকল্পিতভাবে নিষেধাজ্ঞা ও চাপ তৈরি করা হচ্ছে। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে যাওয়া ইরানি কর্মকর্তাদের ওপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পাইকারি দোকান বা বিলাসবহুল সামগ্রী ক্রয়ের ওপর নতুন বিধিনিষেধ চাপানোর প্রেক্ষাপটে এই মন্তব্য আসে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ইরানি কূটনীতিকদের এমন কেনাকাটা সীমিত করতেই এই প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
হরমুজ প্রণালির এই চলমান অচলাবস্থা গোটা বিশ্বের পাশাপাশি দক্ষিণ এশিয়ার প্রায় দুই শত কোটি মানুষের জীবনযাত্রার ওপর তীব্র আর্থিক আঘাত হানতে শুরু করেছে। ভারত তার ব্যবহৃত মোট অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের প্রায় ৮৫ শতাংশই বাইরে থেকে আমদানি করে, যার একটি বড় অংশ আসে পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলো থেকে। পাকিস্তানও জ্বালানি তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের জন্য মধ্যপ্রাচ্যের সরবরাহকারীদের ওপর সরাসরি নির্ভরশীল। বাংলাদেশ নিজের গ্যাস উত্তোলন করলেও বাড়তি চাহিদা মেটাতে নিয়মিতভাবে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস ও পরিশোধিত পেট্রোলিয়াম আমদানির ওপর নির্ভর করে। সরবরাহ পথ ঝুঁকিতে পড়ায় এসব দেশে মূল্যস্ফীতি ও পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ার প্রবল আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
চীন বিশ্ববাজার থেকে জ্বালানি তেলের দাম রেকর্ড পরিমাণ বেড়ে যাওয়ার তথ্য পর্যবেক্ষণ করছে, কারণ হরমুজের নৌপথ কার্যত অবরুদ্ধ রয়েছে। তবে বেইজিংয়ের কাছে বিশাল কৌশলগত মজুত ও বহুমুখী সরবরাহ ব্যবস্থা থাকায় তারা তাৎক্ষণিক জ্বালানি ঘাটতির মুখে পড়ছে না। সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থাগুলো ওই আন্তর্জাতিক জলপথে চলাচলকারী সব বাণিজ্যিক জাহাজকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে থাকার নির্দেশনা দিয়েছে।
