কলম্বিয়ায় সশস্ত্র গোষ্ঠীর ড্রোন হামলা চলতি ২০২৬ সালের প্রথম পাঁচ মাসে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৪৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে বলে দেশটির জাতীয় ওম্বুডসম্যান কার্যালয়ের এক আনুষ্ঠানিক প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা এএফপির বরাতে জানা গেছে, সরকারি নিরাপত্তা বাহিনী এবং বিভিন্ন গেরিলা গোষ্ঠীর মধ্যে চলমান রক্তক্ষয়ী সংঘাতে আকাশপথে চালকবিহীন আকাশযানের ব্যবহার উদ্বেগজনক মাত্রায় বেড়েছে। এই সংঘাতের সরাসরি শিকার হচ্ছেন প্রত্যন্ত পাহাড়ি অঞ্চলের সাধারণ মানুষ।
পাঁচ মাসে ড্রোন হামলায় ২১ জন নিহত হয়েছেন।
সরকারি হিসাব অনুযায়ী এই পাঁচ মাসে ড্রোন থেকে চালানো ধারাবাহিক হামলায় শিশুসহ মোট ১৪৫ জন আহত হয়েছেন। মোট হতাহতের প্রায় এক-তৃতীয়াংশই সাধারণ বেসামরিক নাগরিক বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠী বিস্ফোরক বহনকারী ঘরে তৈরি দেশীয় ড্রোন ব্যবহার করে শুধু সামরিক লক্ষ্যবস্তুই নয়, বরং সাধারণ মানুষের বসতবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, জ্বালানি স্টেশন ও যোগাযোগ অবকাঠামোতেও আক্রমণ চালাচ্ছে। পাহাড়ি জনপদে সার্বক্ষণিক ড্রোনের গুঞ্জন সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনে তীব্র ভীতির সঞ্চার করেছে।
জাতীয় ওম্বুডসম্যান আইরিস মারিন জানিয়েছেন যে ড্রোন উড্ডয়ন ও ক্রমাগত হামলার ভয়ে সংঘাতকবলিত এলাকাগুলো থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাচ্ছেন। কৃষকরা ক্ষেতখামারে কাজে যেতে পারছেন না এবং শিশুদের বিদ্যালয়ে পাঠানো কিংবা জরুরি চিকিৎসা সেবা গ্রহণের সুযোগ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বিভিন্ন ত্রাণবাহী ও চিকিৎসাসেবা দানকারী মানবিক সংস্থার গাড়িও আক্রান্ত অঞ্চলের ভেতরে ঢুকতে পারছে না। ফলে বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠীর নিজ ভিটেমাটিতে ফিরে আসার প্রক্রিয়া কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা জানাচ্ছেন যে বিদ্রোহী দলগুলো মূলত দুটি প্রধান উদ্দেশ্যে এসব আকাশযান কাজে লাগাচ্ছে। প্রথমত, রাষ্ট্রীয় বাহিনী এবং প্রতিদ্বন্দ্বী অন্যান্য সশস্ত্র গ্রুপের ওপর সরাসরি হামলা চালানো এবং দ্বিতীয়ত, অবৈধ কোকা চাষের সুবিস্তৃত ক্ষেতের ওপর সার্বক্ষণিক নজরদারি বজায় রাখা। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ গত মাসে এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে সতর্ক করেছিল যে অপরাধী দলগুলো অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশুদের দলে টেনে ড্রোন পরিচালনার প্রশিক্ষণ দিচ্ছে। এজন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টিকটক ও মেটার প্ল্যাটফর্মগুলোকে ব্যবহারের গুরুতর তথ্যও উন্মোচিত হয়েছে।
কলম্বিয়ার দুর্গম পর্বতমালা ও গভীর বনাঞ্চলের কারণে এসব চালকবিহীন ড্রোন সহজে শনাক্ত বা নিষ্ক্রিয় করা নিরাপত্তা বাহিনীর জন্য অত্যন্ত কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই প্রযুক্তিগত হুমকি প্রতিহত করতে চলতি বছরের জানুয়ারিতে কলম্বিয়ার সরকার ১৬৮ কোটি মার্কিন ডলার ব্যয়ে একটি বিস্তৃত অ্যান্টি-ড্রোন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ঘোষণা দিয়েছিল। দেশটির ডানপন্থী প্রেসিডেন্ট আবেলয়ার্দো দে লা এসপ্রিয়েয়া বারানকিয়ার সামরিক সদরদপ্তর থেকে মার্কিন সহযোগিতায় বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক সামরিক অভিযান চালাচ্ছেন। পাল্টা কৌশল হিসেবে কলম্বিয়ার সেনাবাহিনীও বিদ্রোহীদের আস্তানা ধ্বংস করতে মার্কিন প্রযুক্তির ড্রোন এবং দূরনিয়ন্ত্রিত গ্রেনেড নিক্ষেপকারী আকাশযান ব্যবহার শুরু করেছে।
