বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর, ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩

সামরিক সহায়তার ধারাবাহিকতা

ইসরায়েলে সহায়তা শর্তহীন‍‍` — মার্কিন নীতিতে অপরিবর্তিত ধারা

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : অক্টোবর ৭, ২০২৬, ১০:৪৭ পিএম

ইসরায়েলে সহায়তা শর্তহীন‍‍` — মার্কিন নীতিতে অপরিবর্তিত ধারা

গাজায় তিন বছরের সংঘাত চলাকালে ইসরায়েলের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও কৌশলগত সহায়তায় দৃশ্যমান কোনো পরিবর্তন আসেনি। সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এবং বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প—উভয় প্রশাসনের অধীনেই ওয়াশিংটন প্রায় সম্পূর্ণ শর্তহীন অস্ত্র সরবরাহ বজায় রেখেছে। এমনকি ইরানের সাথে সরাসরি যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়া এবং আঞ্চলিক অস্থিরতা বৃদ্ধি পাওয়া সত্ত্বেও এই সরবরাহ নীতিতে কোনো ছেদ পড়েনি।

সহায়তার ধারা এখনও নিরবচ্ছিন্ন।

প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন সরকারের সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে ওয়াশিংটন মাঝেমধ্যে সতর্ক বার্তা দিলেও মাঠপর্যায়ে তার কোনো প্রভাব পড়েনি। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া অভিযানে এ পর্যন্ত গাজায় অন্তত ৭৪ হাজার ২৪৩ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, বিপরীতে হামাসের নেতৃত্বাধীন প্রাথমিক হামলায় ইসরায়েলে প্রাণ হারিয়েছিলেন এক হাজার ১৩৯ জন। এমনকি ২০২৫ সালের ১১ অক্টোবর কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে ইসরায়েলি বাহিনী নিয়ন্ত্রণ সম্প্রসারণ করায় পরবর্তী সময়ে আরও অন্তত এক হাজার ৪৬০ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।

সরকারি তহবিল থেকে গেছে আড়াই হাজার কোটি ডলারের বেশি।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের সাবেক কর্মকর্তা জশ পল জানান, ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান উভয় সরকারের অধীনেই আর্থিক অনুদান, অস্ত্র স্থানান্তর এবং কূটনৈতিক সুরক্ষায় ইসরায়েল পূর্ণ সমর্থন পেয়ে আসছে। তিনি উল্লেখ করেন, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের পেছনে যে বিপুল আর্থিক ব্যয় ওয়াশিংটনকে বহন করতে হচ্ছে, তার মূল কারণ এই একতরফা সমর্থন। ১৯৪৮ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে মুদ্রাস্ফীতি সমন্বয় করলে ইসরায়েলকে প্রায় ৩০ হাজার কোটি ডলার সহায়তা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, যা অন্য যেকোনো দেশের চেয়ে বেশি।

২০০৮ সালে প্রণীত একটি মার্কিন আইনের বাধ্যবাধকতায় প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় ইসরায়েলের সামরিক সক্ষমতা এগিয়ে রাখার নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে। এর ফলে বিমান বাহিনী, বিধ্বংসী গোলাবারুদ, ট্যাংক এবং আয়রন ডোম, ডেভিডস স্লিং ও আয়রন বিমের মতো আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য তেল আবিব পুরোপুরি ওয়াশিংটনের ওপর নির্ভরশীল।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালসহ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো বেসামরিক হত্যাকাণ্ডে মার্কিন অস্ত্রের ব্যবহারের প্রমাণ দিলেও উপত্যকায় স্বাধীন পর্যবেক্ষকদের প্রবেশ আটকে রেখেছে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ। সামরিক বিশ্লেষক উইলিয়াম হার্টুং জানিয়েছেন, নির্বিচার অস্ত্র সরবরাহের কারণে এই মানবিক বিপর্যয়ের দায় এড়ানোর সুযোগ যুক্তরাষ্ট্রের নেই।

banner
Link copied!