চলমান যুদ্ধ অবসানের অংশ হিসেবে ইরানকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ সক্ষমতা উল্লেখযোগ্য হারে কমানোর আহ্বান জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি বন্ধ করার পূর্ববর্তী অনড় অবস্থান থেকে কিছুটা সরে এসে সমঝোতার ক্ষেত্র তৈরির ইঙ্গিত দিয়েছে ওয়াশিংটন। তবে মার্কিন প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়ের অন্যান্য কর্মকর্তাদের কঠোর অবস্থানের কারণে একটি বাস্তবসম্মত চুক্তির সম্ভাবনা এখনো অনিশ্চিত।
সংঘাত এখন অষ্টম মাসে পদার্পণ করেছে।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও পুনর্ব্যক্ত করেছেন যে তেহরানকে কোনো অবস্থাতেই পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী হতে দেওয়া হবে না। অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করেছেন যে এই যুদ্ধের সমাপ্তি হবে হয় সমঝোতার মাধ্যমে, নয়তো চরম ধ্বংসাত্মক পন্থায়। আন্তর্জাতিক সম্পর্কের গবেষক সাইমন মেবন জানান, তেহরানের বর্তমান মূল অগ্রাধিকার হলো অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, জব্দ করা সম্পদ ফেরত পাওয়া এবং মার্কিন নৌ অবরোধের অবসান ঘটানো।
ইউরেনিয়াম ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধ করা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে ওয়াশিংটন।
রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ভ্যান্স উল্লেখ করেন, কোনো দেশ পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না চাইলে তার ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধ জ্বালানি মজুত করার প্রয়োজন পড়ে না। আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার হিসাব অনুযায়ী, অস্ত্র তৈরির জন্য প্রায় ৯০ শতাংশ সমৃদ্ধকরণের প্রয়োজন হলেও তেহরানের বর্তমান মাত্রা ৬০ শতাংশে রয়েছে। সংস্থাটির ২০২৫ সালের মে মাসের মূল্যায়নে সুসংগঠিত অস্ত্র তৈরির কোনো বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ভ্যান্স জানিয়েছেন, তারা ইরানি প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন।
এথেন্সে সাংবাদিকদের সামনে রুবিও দাবি করেন, ইরান সমঝোতার একাধিক সুযোগ নষ্ট করেছে এবং অর্থনৈতিকভাবে দেশটি সম্পূর্ণ বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন যে তেহরান কৌশলগত হরমুজ প্রণালীর ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে।
ইরানি নেতৃত্বের পক্ষ থেকে ওয়াশিংটনের আলোচনার সদিচ্ছা নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তোলা হয়েছে। আর্মেনিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান বলেন, প্রতিবার আলোচনার টেবিলে বসার পরেই তাদের ওপর আক্রমণ চালানো হয়েছে এবং তিন দফায় এমন হামলার ঘটনা প্রমাণ করে যে যুক্তরাষ্ট্র কূটনীতি নয়, বরং শাসনব্যবস্থার পতন চায়। ইরানি বার্তা সংস্থা ইরনার তথ্যমতে, তিনি এই ধরনের তৎপরতাকে আলোচনার আড়ালে আগ্রাসন হিসেবে আখ্যায়িত করেন।
গত ৪ অক্টোবর তেহরানে নিযুক্ত বিদেশি রাষ্ট্রদূতদের সামনে বক্তব্য রাখার সময় পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচি অবশ্য জানান, কেবল ন্যায়বিচার ও ন্যায্যতার ভিত্তিতে আয়োজিত আলোচনার মাধ্যমেই সংকটের সমাধান হতে পারে। এর আগে সেপ্টেম্বরের শেষের দিকে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে হরমুজ প্রণালী উন্মুক্ত করা এবং নতুন করে আলোচনা শুরুর প্রস্তাব দিয়েছিল তেহরান, যা পরবর্তীতে ট্রাম্প সরাসরি নাকচ করে দেন।
পারস্পরিক তীব্র অবিশ্বাস এবং যুদ্ধক্ষেত্রের সংঘাতের কারণে মধ্যপ্রাচ্যে টেকসই শান্তির পথ এখনো চরম বাধার মুখে রয়েছে।
