বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর, ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩

গাজার রাজনৈতিক বাস্তবতা

গাজায় ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েও রাজনৈতিক লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ ইসরায়েল

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : অক্টোবর ৭, ২০২৬, ১১:২৩ পিএম

গাজায় ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েও রাজনৈতিক লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ ইসরায়েল

গাজা উপত্যকায় তিন বছর ধরে নজিরবিহীন ধ্বংসযজ্ঞ ও সামরিক শক্তি প্রয়োগ করেও নিজেদের মূল রাজনৈতিক উদ্দেশ্য অর্জনে চরম ব্যর্থতার মুখে পড়েছে ইসরায়েল। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের পর থেকে পারমাণবিক অস্ত্র বাদে সমস্ত আধুনিক সমরাস্ত্র এবং পশ্চিমা মিত্রদের সর্বাত্মক সমর্থন কাজে লাগিয়ে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানের মূল নিশানা কেবল সশস্ত্র প্রতিরোধ যোদ্ধারাই ছিলেন না, বরং সাধারণ নাগরিকদের ওপর ব্যাপক গণহত্যা ও ধ্বংসলীলা চাপিয়ে দেওয়ার কৌশল নেওয়া হয়।

বিধ্বংসী শক্তি কখনো রাজনৈতিক সাফল্য নিশ্চিত করতে পারেনি।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী এ পর্যন্ত ৭৪ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত এবং এক লাখ ৮০ হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। পুরো জনগোষ্ঠীকে অনাহারে রাখা, হাসপাতাল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ধ্বংস করা এবং সুপেয় পানির প্ল্যান্ট ও বিদ্যুৎ অবকাঠামো সম্পূর্ণ গুঁড়িয়ে দেওয়ার পরও তেল আবিব তাদের ঘোষিত রাজনৈতিক কাঠামো বাস্তবায়ন করতে পারেনি। সামরিক শক্তির সাফল্য হতাহতের সংখ্যা বা অবকাঠামো ধ্বংসের পরিমাপে নির্ধারিত হয় না, বরং তা যুদ্ধকালীন কাঙ্ক্ষিত রাজনৈতিক লক্ষ্য অর্জিত হলো কি না তার ওপর নির্ভর করে।

বন্দিমুক্তির ক্ষেত্রে সামরিক অভিযান সম্পূর্ণ অকার্যকর প্রমাণিত হয়েছে।

আটক থাকা ২৫০ জনের মধ্যে সামরিক বাহিনী সরাসরি অভিযান চালিয়ে জীবিত উদ্ধার করতে পেরেছে মাত্র আটজনকে এবং ১২ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করেছে। বিপরীতে নিজেদের সেনাদের গুলিতে অন্তত তিনজন এবং বিমান হামলায় অনির্ধারিত সংখ্যক বন্দি নিহত হয়েছেন। বন্দিদের সিংহভাগই শেষ পর্যন্ত মুক্ত হয়েছে হামাসের সঙ্গে দীর্ঘ কূটনৈতিক দেনদরবার ও মধ্যস্থতার মাধ্যমে। খোদ ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর বন্দি বিষয়ক দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা স্বীকার করেছেন যে এক বছর আগেই আলোচনার মাধ্যমে তাদের মুক্ত করা সম্ভব ছিল এবং নিহতদের জীবনও রক্ষা পেত।

প্রতিরোধ আন্দোলন পুরোপুরি নির্মূল করার যে ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল তাও বাস্তবায়িত হয়নি। শীর্ষ নেতাদের লক্ষ্য করে একের পর এক হত্যাকাণ্ড চালানো সত্ত্বেও উপত্যকার একাধিক অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ এখনও প্রতিরোধ যোদ্ধাদের হাতেই রয়ে গেছে। সামরিক শক্তি প্রয়োগ করে অস্ত্র সমর্পণ করাতে না পেরে এখন তেল আবিবকে শর্তযুক্ত আলোচনার পথেই ঝুঁকতে হচ্ছে।

উপত্যকার ৬০ শতাংশ এলাকা দখলে নিলেও বাকি অংশে সরাসরি পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার সামরিক ও মানবিক ঝুঁকি নিতে পারছে না সেনাবাহিনী। জাতিসংঘকে বাদ দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পরিকল্পিত বিকল্প প্রশাসনিক কমিটি গঠন এবং কথিত শান্তি বোর্ডের উদ্যোগ সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয় অবস্থায় পড়ে আছে।

নাগরিকদের ভিটেমাটি ছাড়া করার যে বহুমুখী চক্রান্ত ও অনাহার চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল, তার মুখেও ফিলিস্তিনিরা নিজেদের ভূমি আঁকড়ে ধরে রয়েছেন এবং অনেকে মিশর থেকেও ফিরে এসেছেন। উপত্যকাকে ধ্বংসস্তূপে রূপান্তর করা সম্ভব হলেও কাঙ্ক্ষিত রাজনৈতিক বাস্তবতা প্রতিষ্ঠায় ব্যর্থ হওয়াই এখন তেল আবিবের সবচেয়ে বড় সংকট।

banner
Link copied!