ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস জানিয়েছে যে তাদের নৌবাহিনী হরমুজ প্রণালীর কাছে চারটি তেল ট্যাংকার ধ্বংস করেছে। মঙ্গলবারের এই ঘোষণার পর এলাকায় বিস্ফোরণ ঘটে এবং ক্ষতিগ্রস্ত জাহাজগুলোতে আগুন জ্বলতে থাকে।
রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনা এই সামরিক ঘোষণা প্রচার করে। এ সময় ওই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে সামুদ্রিক চলাচল বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে আরও দুটি জাহাজ আটক করে দেশটির কর্তৃপক্ষ।
একই অভিযানে আইআরজিসির বিমান প্রতিরক্ষা ইউনিট স্থানীয় সময় ভোর চারটা ত্রিশ মিনিটে প্রণালীর ওপর দিয়ে উড়ে যাওয়া মার্কিন প্রযুক্তির একটি এমকিউ-নাইন ড্রোন ভূপাতিত করে।
সামরিক কর্মকর্তারা জানান যে তাদের বাহিনী এর আগে এই ধরনের ছাপান্নটি চালকহীন বিমান ভূপাতিত করেছে। যৌথ নৌ ও মহাকাশ অভিযানে শত্রুপক্ষ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
ইরানি বাহিনী ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত আঘাত হানতে প্রস্তুত রয়েছে বলে সামরিক সূত্র থেকে সতর্ক করা হয়েছে। চলমান উত্তেজনা কমাতে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে মধ্যস্থতা করছে কাতার।
সামুদ্রিক এই উত্তেজনার মধ্যেও কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এখনো বার্তা আদান-প্রদান করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ইরানি কর্মকর্তারা।
তেহরান জানিয়েছে যে কৌশলগত এই জলপথ পুনরায় খুলে দেওয়া সম্পূর্ণভাবে ওয়াশিংটনের নৌ অবরোধ প্রত্যাহারের ওপর নির্ভর করছে। এর আগে গত আঠাশে ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক হামলা চালিয়েছিল।
ওই হামলার জবাবে আঞ্চলিক মার্কিন স্থাপনা ও ইসরায়েলের ওপর পাল্টা আক্রমণ চালায় ইরান, যা এপ্রিলে যুদ্ধবিরতির আগ পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। পরে গত আঠারো জুন নৌ চলাচলের স্বাধীনতার বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করে ওয়াশিংটন ও তেহরান।
তবে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে মতপার্থক্যের কারণে ওই চুক্তির বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া বর্তমানে স্থগিত রয়েছে।
