সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

বিশ্বকাপে কুরাসাওকে ৭-১ গোলে উড়িয়ে দিল জার্মানি

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : জুন ১৫, ২০২৬, ১২:৫৮ এএম

বিশ্বকাপে কুরাসাওকে ৭-১ গোলে উড়িয়ে দিল জার্মানি

ছবি : সংগৃহীত

চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানি রবিবার রাতে যুক্তরাষ্ট্রের হিউস্টন স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের ম্যাচে নবাগত কুরাসাওকে ৭-১ গোলের বিশাল ব্যবধানের পরাজিত করে টুর্নামেন্টে নিজেদের আধিপত্য সুনিশ্চিত করেছে, বিবিসি স্পোর্টস নিশ্চিত করেছে। গ্রুপ ই-এর এই অত্যন্ত উত্তেজনাপূর্ণ উদ্বোধনী ম্যাচে জার্মান আক্রমণভাগের বিধ্বংসী রূপের সামনে ক্যারিবীয় অঞ্চলের ছোট দ্বীপদেশ কুরাসাওয়ের রক্ষণভাগ সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ে। খেলার প্রথমার্ধে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ার আভাস দিলেও দ্বিতীয় অর্ধে জার্মানির বিশ্বমানের ফুটবলারদের গতি ও নিখুঁত ফিনিশিংয়ের সামনে অসহায় আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হয় নবাগত দলটি। কাই হ্যাভার্টজের দুর্দান্ত জোড়া গোল এবং অন্য ফুটবলারদের সম্মিলিত অবদানে সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা এই বিশাল জয় তুলে নিতে সক্ষম হয়।

খেলার শুরু থেকেই প্রধান কোচ জুলিয়ান নাগেলসম্যানের শিষ্যরা সম্পূর্ণ আক্রমণাত্মক কৌশল অবলম্বন করে প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগের ওপর তীব্র চাপ সৃষ্টি করতে শুরু করে। ম্যাচের মাত্র ৬ মিনিটের মাথায় ফ্লোরিয়ান ভির্টজের এক নিখুঁত পাস থেকে বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে জার্মানিকে প্রথমে এগিয়ে দেন প্রতিভাবান মিডফিল্ডার ফেলিক্স এনমেচা। তবে জনসংখ্যার দিক থেকে বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে ছোট দেশ হিসেবে খেলতে আসা কুরাসাও ম্যাচের ২১ মিনিটের মাথায় এক অভূতপূর্ব অলৌকিক কাণ্ড ঘটিয়ে বসে। দলটির রাইটব্যাক লিভানো কোমেনেনসিয়া জার্মান রক্ষণভাগকে গতিতে ফাঁকি দিয়ে একটি নিখুঁত ও জোরালো শটে অভিজ্ঞ গোলরক্ষক ম্যানুয়েল নয়ারকে পরাস্ত করে বল জালে জড়ান। এই ঐতিহাসিক প্রথম বিশ্বকাপ গোলটি স্টেডিয়ামে উপস্থিত তাদের হাজার হাজার সমর্থককে এক বাঁধনহারা উল্লাসে ভাসিয়ে দেয় এবং ম্যাচে ১-১ গোলে সমতা আনে।

সমতায় থাকার এই তীব্র মনস্তাত্ত্বিক চাপ এবং অস্বস্তি জার্মান ফুটবলাররা মাঠের ভেতর খুব বেশি সময় স্থায়ী হতে দেননি। খেলার ৩৮ মিনিটের মাথায় ন্যাথানিয়েল ব্রাউনের চমৎকার এক অ্যাসিস্ট থেকে উড়ে আসা বলে হেডের মাধ্যমে গোল করে জার্মানিকে আবারও ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে নেন ডিফেন্ডার নিকো শ্লটারবেক। এরপর প্রথমার্ধের নির্ধারিত সময় শেষে অতিরিক্ত সময়ের ৪৫+৫ মিনিটে ডি-বক্সের ভেতর ফাউলের কারণে জার্মানি একটি পেনাল্টি কিক বা স্পট কিক লাভ করে। অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় নিখুঁত এক শটে কুরাসাওয়ের গোলরক্ষক ইলোয় রুমকে সম্পূর্ণ পরাস্ত করে বল জালে জড়ান তারকা ফরোয়ার্ড কাই হ্যাভার্টজ যার সুবাদে ৩-১ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে প্রথমার্ধের বিরতিতে যায় জার্মানি দল।

বিরতির পর দ্বিতীয় অর্ধে খেলা শুরু হওয়ার সাথে সাথেই জার্মান আক্রমণভাগ তাদের আক্রমণের তীব্রতা আরও বহু গুণ বাড়িয়ে দেয় এবং কুরাসাওকে ম্যাচ থেকে পুরোপুরি ছিটকে ফেলে। খেলার ৪৭ মিনিটের মাথায় মাঝমাঠের চালিকাশক্তি জশুয়া কিমিচের এক নিখুঁত পাস থেকে বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে দুর্দান্ত শটে দলের পক্ষে quarto গোলটি করেন তরুণ উইঙ্গার জামাল মুসিয়ালা। একের পর এক গোল হজম করায় মাত্র এক লাখের সামান্য বেশি জনসংখ্যার দেশ কুরাসাওয়ের জন্য জার্মানির গতিশীল আক্রমণ প্রতিহত করা এক মস্ত বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। খেলার ৬৮ মিনিটে মাঠের চমৎকার এক দলীয় বোঝাপড়ার সৌজন্যে দেনিজ উন্দাভের পাস থেকে তীব্র গতিতে ছুটে এসে অনবদ্য এক ভলিতে পঞ্চম গোলটি করেন তরুণ লেফটব্যাক ন্যাথানিয়েল ব্রাউন। এরপর ৭৮ মিনিটের মাথায় জশুয়া কিমিচের আরেকটি অ্যাসিস্ট থেকে চতুরতার সাথে বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ষষ্ঠ গোলটি করেন ফরোয়ার্ড দেনিজ উন্দাভ।

যা কম স্পষ্ট তা হলো এই বিশাল ব্যবধানে পরাজিত হওয়ার পর কুরাসাও ফুটবল দল তাদের মনস্তাত্ত্বিক বিপর্যয় কাটিয়ে গ্রুপ পর্বের পরবর্তী ম্যাচগুলোতে কীভাবে ঘুরে দাঁড়াবে। টুর্নামেন্টের এই গ্রুপ ই-তে তাদের পরবর্তী প্রতিপক্ষ হলো আফ্রিকার শক্তিশালী দল আইভরি কোস্ট এবং লাতিন আমেরিকার ইকুয়েডর যাদের বিরুদ্ধে ভালো ফল করা কুরাসাওয়ের জন্য অত্যন্ত কঠিন হবে। ম্যাচের একদম শেষ দিকে ৮৮ মিনিটের মাথায় দেনিজ উন্দাভের চমৎকার এক থ্রু-বল থেকে বল পেয়ে কুরাসাওয়ের রক্ষণভাগকে পুরোপুরি পরাস্ত করে দলের পক্ষে সপ্তম এবং নিজের ব্যক্তিগত দ্বিতীয় গোলটি পূর্ণ করেন কাই হ্যাভার্টজ। জার্মানি ফুটবল দলের জন্য এই বিশাল ব্যবধানের লিড তাদের হারিয়ে যাওয়া ফর্ম ফিরে পাওয়ার এবং আন্তর্জাতিক মহলে সমালোচকদের উপযুক্ত জবাব দেওয়ার একটি বড় সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে যা তাদের আগামী ম্যাচগুলোতে বাড়তি আত্মবিশ্বাস যোগাবে।

banner
Link copied!