বৃহস্পতিবার, ০৭ মে, ২০২৬, ২৩ বৈশাখ ১৪৩৩

বিশ্বজুড়ে পোলিও দূর করতে গেটস ফাউন্ডেশনের বিশেষ উদ্যোগ

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : মে ৭, ২০২৬, ১২:০০ এএম

বিশ্বজুড়ে পোলিও দূর করতে গেটস ফাউন্ডেশনের বিশেষ উদ্যোগ

বিশ্বের বুক থেকে পোলিও রোগটি চিরতরে নির্মূল করার লক্ষ্য নিয়ে বড় ধরনের আর্থিক সহায়তার ঘোষণা দিয়েছে বিল অ্যান্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশন। সাম্প্রতিক এক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, তারা আগামী কয়েক বছরের মধ্যে পোলিও নির্মূলের চলমান লড়াইয়ে ১.২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার অতিরিক্ত ব্যয় করবে। রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই অর্থের একটি বড় অংশ ব্যয় করা হবে আফগানিস্তান এবং পাকিস্তানের মতো দেশগুলোতে যেখানে পোলিও ভাইরাস এখনো সক্রিয় রয়েছে। বিল গেটস দীর্ঘ দিন ধরেই পোলিও মুক্ত বিশ্ব গড়ার স্বপ্ন দেখে আসছেন এবং এই নতুন বরাদ্দ সেই লক্ষ্য অর্জনে এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

ফাউন্ডেশনের দেওয়া বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এই তহবিল মূলত গ্লোবাল পোলিও ইরাডিকেশন ইনিশিয়েটিভ (জিপিইআই)-এর মাধ্যমে খরচ করা হবে। এই অর্থ দিয়ে টিকার সরবরাহ নিশ্চিত করা, তৃণমূল পর্যায়ে স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া এবং পোলিও ভাইরাসের নতুন স্ট্রেইনগুলো পর্যবেক্ষণ করার কাজ করা হবে। বিশেষ করে দুর্গম পাহাড়ি এলাকা এবং যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চলে শিশুদের কাছে টিকার ডোজ পৌঁছে দেওয়া একটি বড় চ্যালেঞ্জ। গেটস ফাউন্ডেশন মনে করে যে, এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আধুনিক প্রযুক্তি এবং স্যাটেলাইট ম্যাপিং ব্যবহার করে প্রতিটি শিশুকে টিকার আওতায় আনা সম্ভব। পোলিও একসময় বিশ্বজুড়ে হাজার হাজার শিশুকে পঙ্গু করে দিত, কিন্তু সমন্বিত উদ্যোগের ফলে বর্তমানে এটি কেবল কয়েকটি অঞ্চলে সীমাবদ্ধ রয়েছে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, পোলিও নির্মূলের এই লড়াই এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। তবে ভাইরাসের যেকোনো একটি স্ট্রেইন যদি কোথাও থেকে যায়, তবে তা আবারও বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি থাকে। এ কারণে বিল গেটস ফাউন্ডেশন কেবল টিকা দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে না বরং পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা উন্নত করা এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধিতেও কাজ করছে। বিল গেটস নিজে এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন যে, আমরা যদি এখন হাল ছেড়ে দিই তবে পোলিও আবার ফিরে আসবে এবং আগামী এক দশকে লাখ লাখ শিশু আক্রান্ত হতে পারে। তাই এই অতিরিক্ত ১.২ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ কেবল একটি দান নয় বরং মানবজাতির ভবিষ্যতের জন্য একটি সুরক্ষা কবচ।

এই বিশাল অংকের অর্থায়ন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) এবং ইউনিসেফের মতো সংস্থাগুলোর কাজকে আরও গতিশীল করবে। এই উদ্যোগের ফলে স্থানীয় পর্যায়ে হাজার হাজার স্বাস্থ্যকর্মীর কর্মসংস্থান হচ্ছে যারা সরাসরি বাড়ি বাড়ি গিয়ে শিশুদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করছেন। গেটস ফাউন্ডেশন আশা করছে যে, ২০৩০ সালের মধ্যেই বিশ্বকে আনুষ্ঠানিকভাবে পোলিও মুক্ত ঘোষণা করা সম্ভব হবে। তবে এর জন্য প্রয়োজন আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক সদিচ্ছা এবং স্থানীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। বিশেষ করে যুদ্ধকবলিত অঞ্চলগুলোতে স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবুও বিল গেটস ফাউন্ডেশনের এই শক্তিশালী আর্থিক প্রতিশ্রুতি ফুটবল বিশ্বের মতোই স্বাস্থ্য খাতে এক নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে।

banner
Link copied!