বৃহস্পতিবার, ০৭ মে, ২০২৬, ২৩ বৈশাখ ১৪৩৩

দারিদ্র বিমোচনে ব্র্যাকের বড় ধরনের নতুন উদ্যোগ

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : মে ৭, ২০২৬, ১২:০৫ এএম

দারিদ্র বিমোচনে ব্র্যাকের বড় ধরনের নতুন উদ্যোগ

বাংলাদেশের গর্বিত প্রতিষ্ঠান এবং বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় এনজিও ব্র্যাক তাদের বিখ্যাত ‍‍`আল্ট্রা-পুওর গ্র্যাজুয়েশন‍‍` (UPG) মডেলটি এখন বিশ্বব্যাপী আরও বড় পরিসরে সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে। সম্প্রতি সংস্থাটি ঘোষণা করেছে যে, এশিয়া এবং আফ্রিকার অন্তত ১০টি নতুন দেশে তারা এই কর্মসূচির মাধ্যমে লাখ লাখ মানুষকে চরম দারিদ্র্য থেকে বের করে আনার কাজ শুরু করবে। দি ডেইলি স্টার-এর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ব্র্যাকের এই মডেলটি বিশ্বজুড়ে দারিদ্র্য বিমোচনের একটি কার্যকর বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি হিসেবে স্বীকৃত। এর মাধ্যমে মূলত অতি-দরিদ্র পরিবারগুলোকে সম্পদ হস্তান্তর, প্রশিক্ষণ এবং দীর্ঘমেয়াদী আর্থিক নির্দেশনার মাধ্যমে স্বাবলম্বী করে তোলা হয়।

ব্র্যাক ইন্টারন্যাশনালের তথ্যমতে, এই কর্মসূচির আওতায় পরিবারগুলোকে কেবল সরাসরি সাহায্য দেওয়া হয় না বরং তাদের দক্ষতা বৃদ্ধি করা হয়। যেমন কোনো বিধবা নারীকে একটি গাভী বা কিছু ছাগল কিনে দেওয়া হয় এবং একই সাথে সেগুলো পালনের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। এর ফলে ওই পরিবারটি ধীরে ধীরে আয়ের পথ খুঁজে পায় এবং অন্যের সাহায্যের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে ফেলে। গবেষণায় দেখা গেছে, ব্র্যাকের এই পদ্ধতিতে অংশগ্রহণকারী ৯০ শতাংশের বেশি পরিবার দীর্ঘমেয়াদে দারিদ্র্যসীমার ওপরে থাকতে সক্ষম হয়েছে। এই অভাবনীয় সাফল্যের কারণেই বিশ্বব্যাংক এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থা এই মডেলটিকে ‍‍`গোল্ড স্ট্যান্ডার্ড‍‍` হিসেবে অভিহিত করেছে।

বর্তমানে আফ্রিকার উগান্ডা, রুয়ান্ডা এবং লাইবেরিয়ার মতো দেশগুলোতে ব্র্যাক তাদের কার্যক্রম সাফল্যের সাথে পরিচালনা করছে। নতুন পরিকল্পনায় তারা ফিলিপাইন এবং ভারতের কিছু অঞ্চলেও এই মডেলটি আরও শক্তিশালীভাবে প্রয়োগ করতে চায়। ব্র্যাকের প্রতিষ্ঠাতা স্যার ফজলে হাসান আবেদের দর্শন ছিল—দারিদ্র্য কেবল সম্পদের অভাব নয় বরং এটি সুযোগের অভাব। এই সুযোগটিই ব্র্যাক প্রতিটি মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে চায়। বিশেষ করে নারীদের ক্ষমতায়ন এবং শিশুদের পুষ্টি নিশ্চিত করতে এই কর্মসূচি অসামান্য ভূমিকা রাখছে। ব্র্যাকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ২০৩০ সালের মধ্যে তারা অন্তত ২ কোটি মানুষকে এই বিশেষ মডেলের আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছেন।

আন্তর্জাতিক উন্নয়ন বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, বর্তমান যুদ্ধবিগ্রহ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে যখন নতুন করে দারিদ্র্য বাড়ছে, তখন ব্র্যাকের এই ধরনের প্রমাণিত মডেল খুবই কার্যকর হতে পারে। ব্র্যাক কেবল বাংলাদেশের একটি এনজিও নয় বরং এটি এখন বিশ্বজুড়ে দারিদ্র্য বিমোচনের এক অনন্য আলোকবর্তিকা। সংস্থাটি বিভিন্ন দেশের সরকারের সাথে যৌথভাবে কাজ করছে যাতে জাতীয় পর্যায়ে দারিদ্র্য বিমোচন কর্মসূচিগুলোতে তাদের এই মডেল অন্তর্ভুক্ত করা যায়। পরোপকার এবং দানশীলতার একটি টেকসই রূপ হিসেবে ব্র্যাকের এই কাজ সারা বিশ্বের জন্য এক বড় অনুপ্রেরণা। বাংলাদেশি এই প্রতিষ্ঠানটি প্রমাণ করেছে যে সঠিক পরিকল্পনা এবং আন্তরিকতা থাকলে অতি-দরিদ্র মানুষকেও সম্মানজনক জীবন দেওয়া সম্ভব।

banner
Link copied!