আধুনিক সমাজে বিবাহবিচ্ছেদের ধরণ দিন দিন পরিবর্তিত হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যাচ্ছে জীবনসঙ্গী কোনো প্রকার পূর্বসংকেত বা আলাপ-আলোচনা ছাড়াই সম্পর্ক থেকে সরে আসছেন। একে মনোবিজ্ঞানের ভাষায় অনেক সময় ব্লাইন্ডসাইড ডিভোর্স বা আকস্মিক বিবাহবিচ্ছেদ বলা হয়। বিবিসি নিউজের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে কীভাবে এই ধরণের বিচ্ছিন্নতা দম্পতির ওপর গভীর মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব ফেলে।
ইউনিভার্সিটি অফ মিনেসোটার মনোবিজ্ঞানের অধ্যাপক জেফরি সিম্পসন জানাচ্ছেন যে মানুষের ব্যক্তিত্ব এবং সম্পর্কের প্রতি তাদের দৃষ্টিভঙ্গি এই আচরণের পেছনে বড় ভূমিকা পালন করে। যারা সাধারণত সম্পর্কের ক্ষেত্রে এড়ানো বা এড়িয়ে চলার মানসিকতা পোষণ করেন, তাদের ক্ষেত্রে হুট করে সম্পর্ক শেষ করে দেওয়ার প্রবণতা বেশি দেখা যায়। তারা আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেয়ে দ্রুত সরে আসাকেই সহজ সমাধান মনে করেন।
ইসলামে বিয়ে একটি অতি পবিত্র ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। পবিত্র কুরআনে একে একটি সুদৃঢ় অঙ্গীকার বা মিছাক হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। সূরা আন-নিসার একুশ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তায়ালা একে শক্তিশালী বন্ধন হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এই বন্ধন হালকাভাবে ছিন্ন করা বা কোনো প্রকার আলোচনার সুযোগ না দিয়ে হঠাৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া ইসলামি জীবনদর্শনের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। ইসলামে স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে সম্পর্কের ক্ষেত্রে পারস্পরিক পরামর্শ এবং ধৈর্যকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন হঠাৎ বিবাহবিচ্ছেদ কেবল আইনি বিচ্ছিন্নতা নয়, বরং এটি আস্থার ওপর বিশাল আঘাত নিয়ে আসে। যারা এমন পরিস্থিতির শিকার হন তারা অনেক সময় দীর্ঘমেয়াদী ট্রমা বা মানসিক সংকটে ভোগেন। তাদের মনে অন্যের ওপর ভরসা করার ক্ষমতা কমে যায় এবং ভবিষ্যতে নতুন সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ার ক্ষেত্রেও তারা ভীতি অনুভব করেন।
পরিসংখ্যান বলছে, যদিও বর্তমানে বিয়ের হার আগের চেয়ে কম এবং মানুষ দেরিতে বিয়ে করছেন, তবুও বিচ্ছেদের ঘটনাগুলো পারিবারিক কাঠামোকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলছে। বিশেষ করে যেসব ক্ষেত্রে কোনো প্রকার মধ্যস্থতা বা আলোচনার সুযোগ থাকে না, সেখানে ট্রমার মাত্রা অনেক বেশি থাকে। সুস্থ সম্পর্কের জন্য প্রয়োজন ধৈর্য, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ এবং কঠিন সময়ে একে অপরের পাশে থেকে সমস্যা সমাধানের সদিচ্ছা।
