মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩

ইবোলা অনুদান দুর্নীতি

কঙ্গোয় ইবোলা মহামারি বিস্তার: সাড়ে সাতশ মিলিয়ন ডলার অনুদানের হিসাব নেই

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : অক্টোবর ২০, ২০২৬, ০৮:৩১ এএম

কঙ্গোয় ইবোলা মহামারি বিস্তার: সাড়ে সাতশ মিলিয়ন ডলার অনুদানের হিসাব নেই

আফ্রিকার শীর্ষস্থানীয় জনস্বাস্থ্য সংস্থা এবং কঙ্গোর সরকারি কর্মকর্তারা মঙ্গলবার জানিয়েছেন যে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর পাঠানো ইবোলা তহবিলের শত শত মিলিয়ন ডলারের কোনো হিসাব পাওয়া যাচ্ছে না। তারা সংশ্লিষ্ট সাহায্য সংস্থাগুলোকে অবিলম্বে স্পষ্ট আর্থিক প্রতিবেদন জমা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

ইতিহাসের দ্রুততম গতিতে ছড়িয়ে পড়া এই ইবোলা মহামারির বিস্তার রোধে গৃহীত পদক্ষেপগুলো পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে। কঙ্গোর আটটি প্রদেশে ছড়িয়ে পড়ার পর এই ভয়াবহ ভাইরাস প্রতিবেশী কেনিয়া ও উগান্ডায়ও আঘাত হেনেছে।

আফ্রিকা সেন্টার্স ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনের মহাপরিচালক ড. জিন কাসেয়া গত সপ্তাহে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এই তথ্য প্রকাশ করেন। তিনি জানান যে পূর্ব কঙ্গোয় কার্যক্রম পরিচালনার জন্য মহামারি শুরুর পর থেকে আন্তর্জাতিক দাতা গোষ্ঠীগুলো ৯৬ কোটি ২০ লাখ ডলার অর্থায়ন করেছে।

তবে মাঠপর্যায়ে কর্মরত বিভিন্ন সাহায্য সংস্থা এ পর্যন্ত মাত্র ২০ কোটি ডলারের হিসাব দেখাতে পেরেছে। এই সংস্থাগুলোর মধ্যে রয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, ইউনিসেফ ও বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির মতো জাতিসংঘের বিভিন্ন অঙ্গসংস্থা এবং সেভ দ্য চিলড্রেন, মেদিসিন দু মন্ডের মতো আন্তর্জাতিক দাতব্য সংস্থা ও স্থানীয় কিছু সাহায্য গোষ্ঠী।

কাসেয়ার ভাষ্যমতে, কঙ্গোর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আর্থিক প্রতিবেদন ভাগাভাগি করতে আয়োজিত সাম্প্রতিক বৈঠকে অংশ নিয়েছিল এই সংস্থাগুলোর মাত্র এক তৃতীয়াংশ। বৈঠকে উপস্থিত দলগুলো ২২ কোটি ৮০ লাখ ডলার পাওয়ার কথা জানায়, যার মধ্যে ১২ কোটি ৭০ লাখ ডলার ব্যয় হয়েছে এবং প্রায় ১০ কোটি ডলার এখনও অব্যবহৃত রয়েছে।

কোন কোন সংস্থা তাদের আর্থিক হিসাব দাখিল করতে ব্যর্থ হয়েছে, ড. জিন কাসেয়া সংবাদ সম্মেলনে সুনির্দিষ্টভাবে তাদের নাম প্রকাশ করেননি। তবে আর্থিক স্বচ্ছতার এই ঘাটতির তীব্র সমালোচনা করে একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশ করেছে আফ্রিকা সিডিসি।

বিবৃতিতে বলা হয় যে সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে আর্থিক প্রতিবেদনের এই চরম অভাব দেখা দিয়েছে, যার কারণে সংগৃহীত সম্পদ, সেগুলোর ব্যবহার এবং অর্জিত ফলাফল সম্পর্কে সরকারের কাছে কোনো পূর্ণাঙ্গ চিত্র নেই। নিখোঁজ তহবিলের উৎস ও ব্যবহার খতিয়ে দেখতে কঙ্গোর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কাজ করবে আফ্রিকা সিডিসি।

কঙ্গোর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে আন্তর্জাতিক দাতাদের কাছ থেকে সরাসরি কোনো অর্থ তারা পায়নি। দেশটির স্বাস্থ্যমন্ত্রী স্যামুয়েল রজার কাম্বা কঙ্গোলিজ প্রেস এজেন্সিকে জানান যে আগে কাজ করা প্রায় একশটি সংগঠনের মধ্যে মাত্র ২৫টিকে ছাড়পত্র দিয়ে মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম সীমিত করেছে সরকার।

তথ্যমন্ত্রী প্যাট্রিক মুয়ায়া সাংবাদিকদের জানান যে এই তহবিলগুলো সরকারের কেন্দ্রীয় কোষাগারে জমা হয়নি। তিনি বলেন যে কে কী পেয়েছে এবং মাঠে কে কী কাজ করছে তা তাদের অবশ্যই জানতে হবে এবং সব অংশীদারকে এই তথ্য সরবরাহ করতে হবে।

রোববার প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয় যে মহামারির বিস্তার দেশটির উত্তরের অষ্টম প্রদেশেও পৌঁছে গেছে। গত মে মাসের মাঝামাডিতে এই প্রাদুর্ভাব ঘোষণার পর থেকে অন্তত ৯ হাজার ৪০০ জন আক্রান্ত হয়েছেন এবং ৪ হাজার ৫০০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে, যা দেশটির ইতিহাসে সবচেয়ে মারাত্মক ইবোলা মহামারি।

বর্তমান প্রাদুর্ভাবটি বিরল বুন্দিবুগিও ভাইরাসের কারণে ছড়াচ্ছে, যার বিপরীতে এখনও কোনো অনুমোদিত টিকা বা চিকিৎসা পদ্ধতি নেই। জনস্রোতের মতো মানুষের স্থানান্তর, বিদ্রোহী গোষ্ঠীর সহিংসতা, স্থানীয় জনগণের অবিশ্বাসের পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে কর্মরত স্বাস্থ্যকর্মীদের নাজুক কাজের পরিবেশ এই ভাইরাস বিস্তারে মূল ভূমিকা রাখছে।

banner
Link copied!