ফিলিপাইনের দক্ষিণাঞ্চলীয় এলাকায় টাইফুন বাভির প্রভাবে সৃষ্ট ভারী বর্ষণ ও ভূমিধসে অন্তত ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার সারঙ্গানি প্রদেশের মালাপাতান এলাকায় ভূমিধসের ঘটনায় ১০ জন নিহত হন। এছাড়াও লানাও দেল সুর প্রদেশে পৃথক আরেকটি ভূমিধসের ঘটনায় আরও অন্তত পাঁচজন প্রাণ হারিয়েছেন বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম নিশ্চিত করেছে।
ফিলিপাইনের আবহাওয়া সংস্থা দেশটির স্থানীয়ভাবে এই ঝড়কে ইনডে নামে অভিহিত করেছে। বুধবার ঝড়টি ফিলিপাইনের আকাশসীমায় প্রবেশ করে। যদিও ঝড়টি সরাসরি ফিলিপাইনে আঘাত হানেনি, তবে এর প্রভাবে টানা বর্ষণে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। রাজধানী ম্যানিলাসহ দেশটির বিভিন্ন এলাকায় বন্যার সতর্কতা জারি করা হয়েছে। সারঙ্গানি প্রদেশের মালাপাতানের মেয়র সালওয়ে সাম্বো জুনিয়র জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়ার কাজ চলছে।
টাইফুন বাভি এখন উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে তাইওয়ান, জাপান ও চীনের দিকে ধেয়ে যাচ্ছে। এর আগে ঝড়টি গুয়াম এবং নর্দান মারিয়ানা দ্বীপপুঞ্জে আঘাত হেনেছিল, সেখানে অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি হলেও কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে এই অঞ্চলের দেশগুলো ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। তাইওয়ানের উত্তর ও পূর্বাঞ্চলীয় এলাকায় ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
শনিবারের মধ্যে টাইফুনটি চীনের উপকূলীয় অঞ্চলে আঘাত হানতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে তাইওয়ানে স্কুল ও অফিস বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে এবং স্থানীয়দের নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। জাপানের ইশিকাওয়া উপকূলীয় অঞ্চলে শুক্রবার সকাল থেকেই ভারী বর্ষণ শুরু হয়েছে। দক্ষিণ চীনে চলতি সপ্তাহে টাইফুন মেসাক আঘাত হেনেছিল, যার প্রভাবে বন্যার সৃষ্টি হয়ে অন্তত ৩৯ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং নাননিং শহরের একটি বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, টাইফুন বাভির বিস্তৃতি অনেক বড় হওয়ায় এটি ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির কারণ হতে পারে। বর্তমান পরিস্থিতিতে ফিলিপাইন থেকে শুরু করে পূর্ব এশিয়ার একাধিক দেশ চরম সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। উদ্ধারকর্মীরা ফিলিপাইনের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় এখনো কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। ভারী বৃষ্টির কারণে উদ্ধারকাজ ব্যাহত হওয়ায় হতাহতের সংখ্যা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে কর্তৃপক্ষ। দুর্যোগপূর্ণ এই পরিস্থিতিতে ফিলিপাইনসহ সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের সরকারগুলো বাসিন্দাদের সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছে।
