মার্কিন অভিবাসন কর্মকর্তা ও সাদা পোশাকের গোয়েন্দারা গত সোমবার লাস ভেগাসের হ্যারি রিড আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এক প্রবাসীকে টেনে-হিঁচড়ে আটক করার চেষ্টা করার পর জনক্ষোভের মুখে পিছু হটেছেন বলে অ্যাসোসিয়েট প্রেস তথা এপি জানিয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওচিত্রে দেখা যায় সাদা পোশাকের হুডি পরা দুই কর্মকর্তা এক ব্যক্তিকে মাটির সাথে চেপে ধরে হ্যান্ডকাফ পরানোর চেষ্টা করছেন। এই সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত সাধারণ মানুষেরা মোবাইল ফোনে পুরো ঘটনার ভিডিও ধারণ করতে শুরু করলে কর্মকর্তারা হঠাৎ করে আটক অভিযান পরিত্যক্ত করে সেখান থেকে দ্রুত চলে যান। যাওয়ার সময় তারা ওই ব্যক্তির এক হাতে হ্যান্ডকাফ লাগানো অবস্থায় ফেলে রেখে যান যা পরবর্তীতে স্থানীয় পুলিশ এসে উদ্ধার করে। এই নজিরবিহীন ঘটনাটি মার্কিন অভিবাসন ও কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট বা আইসিই সংস্থার বিতর্কিত দমনমূলক কৌশলের বিরুদ্ধে নতুন করে ব্যাপক সমালোচনা ও ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।
আইসিই কর্মকর্তাদের এই হঠাৎ পিছু হটার পর লাস ভেগাস মেট্রোপলিটন পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে কোনো অপরাধের পরোয়ানা খুঁজে পায়নি। পুলিশ সদস্যরা তাঁর হাত থেকে হ্যান্ডকাফটি খুলে দেন এবং পুরো বিষয়টি কেন্দ্রীয় অভিবাসন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেন। মার্কিন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বা ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে যে ৫৭ বছর বয়সী ওই ব্যক্তির নাম ফু নগুয়েন এবং তিনি ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছিলেন। লাস ভেগাস বিমানবন্দরে আটক করতে ব্যর্থ হওয়ার পরদিন মঙ্গলবার লস অ্যাঞ্জেলেস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে মার্কিন অভিবাসন কর্মকর্তা ও কর্মীরা তাঁকে আটক করতে সক্ষম হন। বর্তমানে তাঁকে বহিষ্কার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে আইসিই হেফাজতে রাখা হয়েছে বলে প্রশাসন নিশ্চিত করেছে।
এই বিতর্কিত অভিযানের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর নেভাদা অঙ্গরাজ্যের ডেমোক্রেটিক দলীয় মার্কিন সিনেটর জ্যাকি রোজেন এক তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বিবৃতি দিয়েছেন। তিনি বলেন যে আইসিই কোনো ধরনের জবাবদিহিতা ছাড়াই তাদের খেয়ালখুশি মতো কার্যক্রম পরিচালনা করছে যা আমাদের স্থানীয় পর্যটন অর্থনীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে এবং সমাজে ভীতি ছড়াচ্ছে। সিনেটর রোজেন আরও বলেন যে অন্যান্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থার মতো আইসিই-এর ক্ষেত্রেও সাধারণ ও কঠোর দিকনির্দেশনা মেনে চলা উচিত এবং এই স্বেচ্ছাচারিতা অবিলম্বে বন্ধ হওয়া প্রয়োজন। এছাড়া নেভাদা ল্যাটিনো লেজিসলে ককাস এবং এশিয়ান আমেরিকান প্যাসিফিক আইল্যান্ডার ককাস এই ব্যর্থ ও বিতর্কিত অভিযানের বিষয়ে সম্পূর্ণ ও স্বাধীন তদন্তের দাবি জানিয়েছে। তারা নেভাদার গভর্নরের কাছে এই ধরনের ফেডারেল আইন প্রয়োগকারী সংস্থার স্বচ্ছতা নিয়ে জবাব চেয়েছেন।
যা কম স্পষ্ট তা হলো এই ধরনের আকস্মিক ও সাদা পোশাকের অভিযান বন্ধে মার্কিন প্রশাসন ভবিষ্যতে কোনো নতুন আইন বা কঠোর নীতিমালা প্রবর্তন করবে কিনা। মানবাধিকার কর্মীরা অভিযোগ করছেন যে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সাধারণ মানুষের ব্যক্তিগত স্বাধীনতা হরণ করে অভিবাসীদের ওপর দমনপীড়নের মাত্রা বহুগুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। প্রজেক্ট এস্থার বা অনুরূপ কিছু উগ্র অভিবাসন বিরোধী নীতির কারণে দেশজুড়ে এক ধরণের আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছে বলে বিভিন্ন সংগঠন দাবি করেছে। সাধারণ মানুষ ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে এই ঘটনার পর মার্কিন বিচার ব্যবস্থার নিরপেক্ষতা নিয়ে তীব্র সমালোচনা চলছে কারণ প্রকাশ্য দিবালোকে বিমানবন্দরে সাধারণ যাত্রীদের সামনে এমন সহিংস আচরণ একটি সভ্য দেশের জন্য কাম্য নয়। এই ঘটনার प्रत्यक्षদর্শীরা জানিয়েছেন যে বিমানবন্দরে উপস্থিত সাধারণ মানুষ যদি প্রতিবাদ না করত এবং ভিডিও চিত্র ধারণ না করত তবে হয়তো ওই প্রবাসী নাগরিককে আরও চরম লাঞ্ছনার শিকার হতে হতো।
