শুক্রবার, ১০ জুলাই, ২০২৬, ২৫ আষাঢ় ১৪৩৩

অজু করার সময় আমরা যেসব ভুল করি: সতর্কবার্তা

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : জুলাই ৯, ২০২৬, ১১:১৮ পিএম

অজু করার সময় আমরা যেসব ভুল করি: সতর্কবার্তা

অজু নামাজের পূর্বশর্ত এবং একজন মুসলিমের দৈনন্দিন জীবনের গুরুত্বপূর্ণ একটি ইবাদত। অজু করার মাধ্যমে শারীরিক ও আত্মিক পবিত্রতা অর্জিত হয়। কিন্তু অজু করার সময় অনেকেই না জেনে বা অসতর্কতায় এমন কিছু ভুল করে বসেন, যা সুন্নাহর পরিপন্থী কিংবা অজুর পূর্ণতাকে নষ্ট করতে পারে। শরিয়তের দৃষ্টিতে অজুর প্রতিটি কাজ সুন্নাহ অনুযায়ী পালন করা আবশ্যক। একজন মুমিনের দায়িত্ব হলো ইবাদতকে সর্বতোভাবে ত্রুটিমুক্ত রাখা।

অজুর সময় আমাদের করা সাধারণ ভুলগুলোর একটি হলো পানির অতিরিক্ত অপচয়। অনেকেই ট্যাপ খুলে রেখে দীর্ঘ সময় ধরে অজু করেন, ফলে অহেতুক বিপুল পরিমাণ পানি নষ্ট হয়। অথচ ইসলামে অপচয় কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। আল্লাহ তাআলা কোরআনে স্পষ্টভাবে নির্দেশ দিয়েছেন, তোমরা অপচয় কোরো না। নিশ্চয়ই তিনি অপচয়কারীদের ভালোবাসেন না (সূরা আল-আনআম, ৬:১৪১)। রাসুলুল্লাহ (স.) অজুর ক্ষেত্রে পরিমিত পানি ব্যবহারের শিক্ষা দিয়েছেন। আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (স.) একবার সাদ (রা.)-কে অজু করতে দেখে বললেন, এই অপচয় কেন? সাদ (রা.) জিজ্ঞাসা করলেন, অজুতেও কি অপচয় হতে পারে? তিনি জবাব দিলেন, হ্যাঁ, যদিও তুমি প্রবাহিত নদীর তীরে থাকো (সুনানে ইবনে মাজাহ, ৪২৫)। তাই মসজিদের পানির ক্ষেত্রে আমাদের আরও বেশি দায়িত্বশীল হওয়া প্রয়োজন।

দ্বিতীয়ত, অজুর সময় শরীরের ফরজ অঙ্গগুলোর কোথাও শুকনো থেকে যাওয়া অত্যন্ত গুরুতর একটি ত্রুটি। শীতকালে বা তাড়াহুড়োর সময় কনুই বা পায়ের গোড়ালির ভাঁজে পানি পৌঁছাতে দেরি হয় বা অনেক সময় অংশটি শুকনোই থেকে যায়। অজু পূর্ণ হওয়ার জন্য প্রতিটি নির্দিষ্ট অঙ্গে পানি পৌঁছানো অপরিহার্য। আল্লাহর রাসূল (স.) এ বিষয়ে কঠোর সতর্কবাণী দিয়েছেন। একবার রাসুলুল্লাহ (স.) কয়েকজনকে এমন অবস্থায় অজু করতে দেখলেন যে, তাদের পায়ের গোড়ালি শুকনো ছিল। তখন তিনি সতর্ক করে বলেন, গোড়ালিগুলোর শুকনো অংশের জন্য জাহান্নামের আজাব রয়েছে (সহীহ আল-বুখারী, ১৬৩; সহীহ মুসলিম, ২৪১)। তাই প্রতিটি অঙ্গ ধোয়ার সময় ঘষে ঘষে পানি পৌঁছানো নিশ্চিত করতে হবে।

তৃতীয়ত, অজুর সময় প্রতিটি অঙ্গ তিনবারের বেশি ধোয়া শরিয়তসম্মত নয়। রাসুলুল্লাহ (স.) কখনো একবার, কখনো দুইবার এবং কখনো তিনবার করে অজুর অঙ্গ ধুয়েছেন। কিন্তু তিনবারের বেশি ধোয়ার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায় না। অধিকাংশ আলেমের মতে, প্রয়োজন ছাড়া তিনবারের বেশি ধোয়া মাকরুহ বা সুন্নাহর খেলাফ। অজুর প্রতিটি কাজ সুন্নাহ অনুযায়ী পালন করাই প্রকৃত ইবাদত। আমাদের উচিত অল্প পানিতে সুন্দর ও পরিপূর্ণ অজু সম্পন্ন করার অভ্যাস করা। রাসুলুল্লাহ (স.) মাত্র এক মুদ পরিমাণ পানি দিয়ে অজু সম্পন্ন করতেন, যা বর্তমান পরিমাপে এক লিটারেরও কম। রাসুলুল্লাহ (স.)-এর এই সুন্নাহ অনুসরণ করে পরিমিত ও সতর্কতার সাথে অজু করা প্রতিটি মুমিনের একান্ত কাম্য।

banner
Link copied!