বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬, ২৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

আফগানিস্তানে পাকিস্তানের বিমান হামলা, সীমান্তে উত্তেজনা

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : জুন ১০, ২০২৬, ০৭:৩০ পিএম

আফগানিস্তানে পাকিস্তানের বিমান হামলা, সীমান্তে উত্তেজনা

ছবি : সংগৃহীত

আফগানিস্তানের সীমান্তবর্তী কুনাড়, খোস্ত এবং পাক্তিকা প্রদেশে নতুন করে বিমান হামলা চালিয়েছে পাকিস্তান। এই হামলার ফলে উভয় দেশের মধ্যকার বিদ্যমান উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করেছে। আফগানিস্তানের তালেবান সরকার অভিযোগ করেছে যে, পাকিস্তানের এই হামলায় অন্তত তেরো জন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে এগারোটি শিশু, একজন নারী এবং একজন বয়স্ক ব্যক্তি রয়েছেন। হামলার ঘটনার পর থেকেই সীমান্ত এলাকায় নতুন করে অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়েছে।

পাকিস্তান সরকার জানিয়েছে যে, তাদের এই অভিযান ছিল সুনির্দিষ্ট এবং নিয়ন্ত্রিত। পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার জানিয়েছেন, সম্প্রতি পাকিস্তানে ঘটে যাওয়া সন্ত্রাসী হামলাগুলোর প্রতিক্রিয়ায় এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। তার দাবি অনুযায়ী, আফগানিস্তানের সীমান্তবর্তী এলাকায় জঙ্গিদের আস্তানা লক্ষ্য করে চালানো এই হামলায় ছাব্বিশজন জঙ্গি নিহত হয়েছে। পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ করে আসছে যে, তাদের ভূখণ্ডে চালানো বিভিন্ন সন্ত্রাসী হামলার মূল পরিকল্পনাকারীরা আফগানিস্তানের অভ্যন্তরে নিরাপদ আশ্রয় পাচ্ছে। তালেবান সরকার অবশ্য এই অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে আসছে এবং জানিয়েছে যে, তারা কখনোই অন্য কোনো দেশের নিরাপত্তার জন্য হুমকি সৃষ্টি হতে দেবে না।

আফগানিস্তানের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী আন্তর্জাতিক সীমান্ত লঙ্ঘন করে বিমান হামলা চালিয়েছে। তালেবান সরকারের মুখপাত্র জবিউল্লাহ মুজাহিদ জানিয়েছেন, হামলার শিকার এলাকাগুলোতে সাধারণ মানুষের বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং অনেক শিশু প্রাণ হারিয়েছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, এই ঘটনাটি ফেব্রুয়ারির পর থেকে দুই দেশের মধ্যে চলা সংঘাতের নতুন একটি পর্যায়। এর আগে গত ফেব্রুয়ারি মাসে সীমান্তে বড় ধরনের সংঘর্ষ হয়েছিল, যা দুই দেশের সম্পর্কের ব্যাপক অবনতি ঘটায়।

সংঘাতের এই ধারাবাহিকতা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহল উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। বিশ্বনেতারা উভয় পক্ষকে সংযত থাকার এবং আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন। গত কয়েক মাসে সীমান্তে ছোটখাটো সংঘর্ষের খবর নিয়মিতভাবে সামনে আসলেও, এবারের বিমান হামলা পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে। জাতিসংঘ এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলো এর আগেও আফগানিস্তানের সীমান্তে বেসামরিক ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছিল।

বর্তমানে আফগানিস্তান এবং পাকিস্তানের মধ্যে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পাকিস্তান বলছে, তাদের নিজস্ব নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা তাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার এবং জঙ্গিদের নির্মূল করতে তারা বদ্ধপরিকর। অন্যদিকে, তালেবান সরকার তাদের ভূখণ্ডে বাইরের কোনো দেশের সামরিক হস্তক্ষেপ মেনে না নেওয়ার অবস্থান বজায় রেখেছে। উভয় দেশের পক্ষ থেকে বিপরীতধর্মী দাবি আসার ফলে প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ স্বাধীনভাবে যাচাই করা দুরূহ হয়ে পড়েছে। পরিস্থিতির কোনো বড় পরিবর্তন না হলে এই সীমান্ত সংকট দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

banner
Link copied!