ইউক্রেনজুড়ে নতুন করে ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। এতে রাজধানী কিয়েভসহ বেশ কিছু শহর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং সবশেষ তথ্য অনুযায়ী তিন জন নাগরিক নিহত হয়েছেন বলে সরকারি কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন। এছাড়া আরও অনেকে আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। মূলত গভীর রাতে চালানো এই হামলায় আবাসিক এলাকা এবং শিল্প স্থাপনা লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। Reuters ও BBC News-এর তথ্যমতে, হামলার পর কিয়েভের বেশ কিছু এলাকায় অগ্নিকাণ্ড ছড়িয়ে পড়ে, যা নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের দীর্ঘ সময় কাজ করতে হয়েছে।
একই সময়ে ইউক্রেনের পক্ষ থেকে রাশিয়ার মস্কো অঞ্চল লক্ষ্য করে নজিরবিহীন ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। রাশিয়ার স্থানীয় কর্মকর্তাদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে এটি অন্যতম বড় ড্রোন হামলা। এতে রাশিয়ার একটি প্রধান ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের গুদামে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে এবং এই ঘটনায় ছয় জন আহত হয়েছেন। ইউক্রেনীয় সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, রাশিয়ার যুদ্ধের সক্ষমতা এবং অর্থনৈতিক অবকাঠামো দুর্বল করার লক্ষ্যে তারা এই অভিযান পরিচালনা করছে।
এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই রোমানিয়ার সীমান্তে নতুন এক নিরাপত্তা সংকটের সৃষ্টি হয়েছে। রোমানিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তাদের আকাশসীমায় ঢুকে পড়া একটি ড্রোন ন্যাটো মিশনের অংশ হিসেবে টহলে থাকা স্পেনের একটি এফ-১৮ যুদ্ধবিমান গুলি করে ভূপাতিত করেছে। বিমানটি রোমানিয়ার আকাশসীমা রক্ষা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করার নিয়মিত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে এই পদক্ষেপ নেয়। ন্যাটো সামরিক সদর দপ্তরের মুখপাত্রের মতে, ড্রোনটি সম্ভবত রাশিয়ার তৈরি, তবে ঘটনার বিস্তারিত এখনো তদন্তাধীন রয়েছে।
সংঘর্ষের এই তীব্রতা গত কয়েক সপ্তাহে বহুগুণ বেড়ে গেছে। দুই দেশই একে অপরের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা লক্ষ্য করে পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত রেখেছে, যার ফলে সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন এমন সামরিক বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, এই ধরণের হামলা দীর্ঘমেয়াদী সংঘাতের ইঙ্গিত বহন করে। আন্তর্জাতিক মহল উভয় পক্ষকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছে, তবে যুদ্ধের এই মোড় আপাতত কোনো ইতিবাচক সমাধানের দিকে যাচ্ছে না বলে ধারণা করা হচ্ছে।
