রবিবার, ১৬ আগস্ট, ২০২৬, ১ ভাদ্র ১৪৩৩

লোহিত সাগর উপকূলে হুথিদের হামলায় উত্তাল ইয়েমেনের পরিস্থিতি

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : আগস্ট ১৬, ২০২৬, ০৭:৫৩ পিএম

লোহিত সাগর উপকূলে হুথিদের হামলায় উত্তাল ইয়েমেনের পরিস্থিতি

ইয়েমেনের মারিব শহর এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ উপকূলীয় বন্দর আল-মাকহায় একযোগে নতুন দফার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে হুথি বিদ্রোহীরা, আল জাজিরা ও আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদনে নিশ্চিত করা হয়েছে। গভীর রাতে চালানো এই ভয়াবহ হামলায় বেশ কয়েকজন সাধারণ নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন এবং আহত হয়েছেন আরও অনেকে। আল-মাকহা বন্দরের পরিচালক এবং রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, হামলার ফলে বন্দরটির স্বাভাবিক কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে এবং আশপাশের আবাসিক এলাকা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

মারিবের সরকারি গণমাধ্যম অফিস জানিয়েছে, শনিবার সন্ধ্যায় শহরের জনবহুল এলাকায় অন্তত ছয়টি ব্যালিস্টিক মিসাইল এবং চারটি ড্রোন আঘাত হানে। এই হামলায় চারজন বেসামরিক নাগরিক গুরুতর আহত হন এবং একাধিক বসতবাড়ি ধ্বংস হয়ে যায়। এর আগে আল-মাকহার উপকণ্ঠে দুটি পৃথক বিস্ফোরণে চারজন নিহত ও আটজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। সংঘাতের এই নতুন ঢেউ ইয়েমেনের দীর্ঘমেয়াদী শান্তি প্রক্রিয়াকে চরম অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে বিপর্যস্ত করে তুলেছে।

পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় ইয়েমেনের সরকারি সামরিক বাহিনীও পাল্টা আক্রমণ জোরদার করেছে। সামরিক সূত্র জানিয়েছে, গত দুই দিনে দেশের বিভিন্ন প্রদেশে হুথিদের অবস্থান লক্ষ্য করে প্রায় একশ একাশিটি অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এই সামরিক পদক্ষেপে বেশ কয়েকজন হুথি যোদ্ধা হতাহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। তবে হুথি আন্দোলন কেবল চারজন সদস্যের মৃত্যুর কথা স্বীকার করেছে এবং বিস্তারিত মন্তব্য থেকে বিরত রয়েছে। দুই পক্ষের এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ফলে সীমান্তবর্তী অঞ্চলগুলোতে নতুন করে মানবিক সংকট তৈরির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

উল্লেখ্য, প্রায় বারো বছর ধরে চলা এই গৃহযুদ্ধে এর আগে দুই বছর আপেক্ষিক স্থবিরতা বজায় ছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে সংঘর্ষ তীব্র আকার ধারণ করেছে এবং মারিবসহ বেশ কিছু অঞ্চলে প্রাণঘাতী হামলার ঘটনা ঘটেছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এই সংঘাত বৃদ্ধি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং অবিলম্বে সহিংসতা বন্ধ করে রাজনৈতিক আলোচনার টেবিলে ফিরে আসার আহ্বান জানিয়েছে। তবে মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে নিকট ভবিষ্যতে শান্তি ফিরে আসার সম্ভাবনা বেশ ক্ষীণ।

banner
Link copied!