২০২৬ সালের পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপনের সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে। সৌদি আরবের সরকারি ক্যালেন্ডার ‘উম আল কুরা’র হিসাব অনুযায়ী আগামী ২৭ মে দেশটিতে পবিত্র ঈদুল আজহা পালিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশটির সরকারি পঞ্জিকায় উল্লেখ করা হয়েছে যে বর্তমান জিলকদ মাসটি ৩০ দিন পূর্ণ করবে। সেই অনুযায়ী আগামী ১৭ মে জিলকদ মাসের ৩০তম দিন হবে এবং ১৮ মে থেকে জিলহজ মাস শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। ইসলামি বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী জিলহজ মাসের ১০ তারিখে ঈদুল আজহা উদযাপিত হয় যা ইংরেজি ক্যালেন্ডার মতে ২৭ মে বুধবার হতে পারে।
সৌদি আরবের পাশাপাশি বিশ্বের অন্যান্য দেশ ও অঞ্চলেও ঈদুল আজহার সম্ভাব্য সময় নিয়ে জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা তাদের পূর্বাভাস দিয়েছেন। সংযুক্ত আরব আমিরাতের বৈজ্ঞানিক হিসাব-নিকাশ অনুযায়ী আগামী ২৬ মে হজ বা আরাফাতের দিন হতে পারে এবং তার পরের দিন অর্থাৎ ২৭ মে দেশটিতে ঈদুল আজহা পালিত হবে। পাকিস্তানের জ্যোতির্বিজ্ঞানীরাও অভিন্ন মত পোষণ করেছেন। তাদের মতে পাকিস্তানেও ২৭ মে পবিত্র ঈদুল আজহা অনুষ্ঠিত হওয়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। তবে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে সাধারণত মধ্যপ্রাচ্যের এক দিন পর চাঁদ দেখা যায় যা চূড়ান্তভাবে জিলহজ মাসের শুরু নির্ধারণ করবে।
যুক্তরাজ্য ও ইউরোপের মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্য ঈদুল আজহার তারিখ নিয়ে কিছুটা বৈচিত্র্য থাকতে পারে। মুসলিম জীবন ও সংস্কৃতি বিষয়ক শীর্ষস্থানীয় মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম হাইফেন অনলাইন জানিয়েছে যে নতুন চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করে সেখানে ২৭ মে বুধবার অথবা ২৮ মে বৃহস্পতিবার ঈদুল আজহা শুরু হতে পারে। ইউরোপের দেশগুলোতে সাধারণত স্থানীয়ভাবে চাঁদ দেখার পাশাপাশি সৌদি আরবের ঘোষণা অনুসরণ করার একটি প্রচলন রয়েছে। ফলে আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে জিলকদ মাস শেষ হওয়ার পরই বিষয়টি চূড়ান্তভাবে পরিষ্কার হবে।
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ঈদুল আজহার তারিখ নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিশেষ আগ্রহ দেখা যাচ্ছে। সাধারণত মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর এক দিন পর বাংলাদেশে ধর্মীয় উৎসবগুলো উদযাপিত হয়। সেই ধারাবাহিকতায় আগামী ২৮ মে বৃহস্পতিবার বাংলাদেশে পবিত্র ঈদুল আজহা হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। তবে ইসলামি নিয়ম অনুযায়ী জিলকদ মাস ২৯ দিনে শেষ হবে নাকি ৩০ দিনে তা নির্ভর করবে আকাশে চাঁদ দেখার ওপর। জিলকদ মাস ২৯ দিনে শেষ হলে এবং ১৮ মে থেকে জিলহজ শুরু হলে ২৭ মে ঈদ হবে। অন্যথায় ২৮ মে ঈদুল আজহা পালিত হবে।
ইসলামি শরিয়তের বিধান অনুসারে জিলহজ মাসের চাঁদ দেখার মাধ্যমেই হজের দিন এবং কুরবানি ঈদের সঠিক তারিখ নির্ধারিত হয়। বাংলাদেশের জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি আগামী জিলকদ মাসের শেষে জিলহজ মাসের চাঁদ পর্যবেক্ষণের পর চূড়ান্ত ঘোষণা দেবে। ঈদুল আজহা মুসলমানদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব যা হযরত ইব্রাহিম (আ.)-এর ত্যাগের স্মৃতিকে স্মরণ করিয়ে দেয়। (সুরা আস-সাফফাত, ৩৭:১০২) আয়াতে বর্ণিত ত্যাগের সেই মহান আদর্শকে লালন করে সারা বিশ্বের মুসলিম উম্মাহ এই দিনটিতে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে পশু কুরবানি করে থাকে।
