সোমবার গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত তিনজন ফিলিস্তিনি নিহত এবং বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
উপত্যকার দক্ষিণাঞ্চলের চিকিৎসকরা জানান, খান ইউনিসে দুটি পৃথক বিমান হামলায় দুজন নিহত এবং ছয়জন আহত হয়েছেন। এছাড়া আল-মুসসাদার শহরে আরেকটি পৃথক ইসরায়েলি হামলায় নিহত হন আরও একজন।
এই হামলাগুলোর বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। তবে ইসরায়েলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে যে হামাস পুনর্সস্ত্রীকরণ করছে এবং এক বছর আগের যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে হামলা চালাচ্ছে।
এই পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে সামরিক বাহিনী তাদের হামলা জোরদার করেছে। হামাস অবশ্য অস্ত্রাগার পুনর্গঠন বা হামলার চেষ্টার অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
হামাস উল্টো ইসরায়েলের দিকেই গাজা শান্তি চুক্তি বানচালের অভিযোগ তুলেছে। গত বছর মার্কিন মধ্যস্থতায় এই যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়েছিল, যার লক্ষ্য ছিল উপত্যকার চূড়ান্ত পুনর্গঠন।
তবে হামাসের অস্ত্র সমর্পণ বা ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের শর্ত নিয়ে সমঝোতা না হওয়ায় এই চুক্তির অগ্রগতি খুব একটা হয়নি। ইসরায়েলি সৈন্যরা বর্তমানে উপত্যকার প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ এলাকা নিয়ন্ত্রণ করছে।
তারা এসব এলাকার বাসিন্দাদের অন্যত্র চলে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। এর ফলে প্রায় ২০ লক্ষাধিক বাসিন্দার প্রায় সবাই এখন বাকি এক-তৃতীয়াংশ এলাকার যুদ্ধবিধ্বস্ত ধ্বংসস্তূপের মধ্যে বসবাস করছেন।
বেশিরভাগ মানুষই অস্থায়ী তাঁবু এবং ক্ষতিগ্রস্ত ভবনে দিন কাটাচ্ছেন, যা মূলত হামাসের কার্যকর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী যুদ্ধবিরতি চালুর পর থেকে ইসরায়েলি হামলায় গাজায় অন্তত ১,৫৮০ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।
অন্যদিকে ইসরায়েল জানিয়েছে যে এই সময়ে তাদের চারজন সেনা নিহত হয়েছেন। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের হিসাব অনুযায়ী গাজায় ইসরায়েলি সামরিক অভিযানে মোট নিহতের সংখ্যা ৭৪,০০০ ছাড়িয়েছে।
উল্লেখ্য যে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের নেতৃত্বে যোদ্ধারা ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলে হামলা চালিয়ে প্রায় ১,২০০ মানুষকে হত্যা করার মধ্য দিয়ে এই বৃহত্তর সংঘাতের সূচনা হয়েছিল।
