ভারতের স্বাধীনতাত্তোর ইতিহাসে নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দীর্ঘতম সময় দায়িত্ব পালনের নতুন রেকর্ড গড়লেন নরেন্দ্র মোদি। টানা ৪৩৯৯ দিন প্রধানমন্ত্রীর পদে থেকে তিনি এই মাইলফলক স্পর্শ করলেন। এর আগে দীর্ঘ ছয় দশকেরও বেশি সময় ধরে জওহরলাল নেহেরুর টানা ৪৩৯৮ দিন দায়িত্ব পালনের রেকর্ডটি অটুট ছিল। ২০১৪ সালের ২৬ মে প্রথমবারের মতো ভারতের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন মোদি। এরপর ২০১৯ এবং সর্বশেষ ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে জয়লাভ করে তিনি টানা তৃতীয় মেয়াদে দেশ পরিচালনা করছেন।
গত বছরের মাঝামাঝি সময়ে ইন্দিরা গান্ধীর একটানা প্রধানমন্ত্রিত্বের রেকর্ড অতিক্রম করার পর এবার জওহরলাল নেহেরুর দীর্ঘস্থায়ী রেকর্ডটি ভেঙে নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করলেন তিনি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভারতের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এটি একটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা। এছাড়া ভারতের একমাত্র অ-কংগ্রেসীয় নেতা হিসেবে টানা তিনবার নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করার বিরল নজিরও তিনি স্থাপন করেছেন।
এই ঐতিহাসিক মাইলফলক স্পর্শ করার পর বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রনেতারা নরেন্দ্র মোদিকে উষ্ণ অভিনন্দন জানিয়েছেন। শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট অনুরা কুমার দিসানায়েকে এক চিঠিতে লঙ্কান সরকার ও জনগণের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, এই অর্জন কেবল মোদির দীর্ঘ কর্মজীবনের প্রমাণ নয়, বরং বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্রের জনগণের তার নেতৃত্বের প্রতি অগাধ আস্থা ও বিশ্বাসের প্রতিফলন। ভারতের অসাধারণ অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিবর্তনের বিষয়টিকে তিনি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকেও মোদির নেতৃত্বের প্রশংসা করা হয়েছে। ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোর এই অর্জনকে ভারতের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর দীর্ঘ বছরের সেবা ও অঙ্গীকারের প্রতিফলন হিসেবে বর্ণনা করেছেন। মার্কিন সিনেটের ইন্ডিয়া ককাসের সহ-সভাপতি জন কর্নিন মোদির মেয়াদকে যুগান্তকারী বলে অভিহিত করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, ২৫ কোটি মানুষকে দারিদ্র্য থেকে বের করে আনা এবং ভারতকে বিশ্বের দ্রুততম বর্ধনশীল বড় অর্থনীতিতে পরিণত করার মতো রূপান্তরধর্মী কাজ তার আমলেই সম্পন্ন হয়েছে।
ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি ভারতের প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বকে দূরদর্শী ও প্রভাবশালী হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। পাশাপাশি মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী এবং ভুটানের প্রধানমন্ত্রী তেশেরিং তোবগেও মোদিকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। ভুটানের প্রধানমন্ত্রী আঞ্চলিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে নরেন্দ্র মোদির অবদানকে অনস্বীকার্য বলে উল্লেখ করেছেন। এছাড়া পাপুয়া নিউ গিনির প্রধানমন্ত্রী জেমস মারাপে তাকে নেতৃত্বের রোল মডেল হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
প্রধানমন্ত্রী মোদির এই শাসনামল কেবল অভ্যন্তরীণ নীতিমালার ক্ষেত্রে নয়, বরং বিশ্বমঞ্চে ভারতের অবস্থানের উন্নতির জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। নেহেরুর রেকর্ড ভেঙে ফেলা মোদির দীর্ঘ রাজনৈতিক যাত্রার একটি বড় স্বীকৃতি হিসেবে দেখছেন অনেকে। বিশ্বনেতাদের এই অভিনন্দন বার্তা ভারতের ক্রমবর্ধমান প্রভাব এবং প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তারই বহিঃপ্রকাশ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। এখন সামনের দিনগুলোতে ভারত তার অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক অগ্রযাত্রা কীভাবে বজায় রাখে, তা দেখার অপেক্ষায় রয়েছেন পর্যবেক্ষকরা।
