যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে নির্ধারিত যৌথ সামরিক মহড়া উল্লেখযোগ্যভাবে কমানোর জন্য পেন্টাগনকে নির্দেশ দিয়েছেন বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স ও অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, উত্তর কোরিয়ার শীর্ষ নেতার সঙ্গে চমৎকার সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে এবং ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক পদক্ষেপে সিউল অংশ না নেওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। চলতি সপ্তাহে শুরু হতে যাওয়া ঐতিহ্যবাহী এই যৌথ মহড়া নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি দীর্ঘ পোস্টে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নিজের অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে বর্তমান ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই মহড়াগুলো অতিরিক্ত ব্যয়বহুল হওয়ার পাশাপাশি সম্পূর্ণ অনুপযুক্ত ও উত্তেজনাকর বার্তা দিচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ এই নেতার এমন চাঞ্চল্যকর ঘোষণার পর দক্ষিণ কোরিয়ার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে তারা পুরো বিষয়টি অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পর্যালোচনা করছে। সিউলের প্রেসিডেনশিয়াল ব্লু হাউসের পক্ষ থেকে আশা প্রকাশ করা হয়েছে যে ওয়াশিংটন ও পিয়ংইয়ংয়ের মধ্যে এই যোগাযোগের মাধ্যমে অর্থবহ ও শান্তিপূর্ণ আলোচনা নতুন করে শুরু হতে পারে। তবে নির্ধারিত সূচি ও পরিকল্পনা অনুযায়ী দক্ষিণ কোরিয়া ও আমেরিকার যৌথ সামরিক মহড়া যথাসময়ে শুরু হয়েছে বলে দেশটির যৌথ বাহিনীর পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে। দুই দেশের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই বার্ষিক সামরিক মহড়ায় প্রায় ১৮,০০০ দক্ষিণ কোরীয় সেনা এবং মার্কিন সেনা অংশ নিচ্ছে। এর আগে উত্তর কোরিয়ার পক্ষ থেকে এই যৌথ সামরিক মহড়াকে একটি আগ্রাসী যুদ্ধের প্রস্তুতিমূলক মহড়া বলে তীব্র নিন্দা জানানো হয়েছিল।
মার্কিন প্রশাসনের সামরিক তথ্য অনুযায়ী, কোরীয় উপদ্বীপে শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বর্তমানে প্রায় ২৮,৫০০ মার্কিন সামরিক সদস্য স্থায়ীভাবে মোতায়েন রয়েছে। অতীতেও ডোনাল্ড ট্রাম্প দায়িত্বে থাকার সময় যৌথ সামরিক মহড়া স্থগিত বা ছোট করার সাহসী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন। ২০১৮ সালে উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে ঐতিহাসিক পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ আলোচনার সময় তিনি বার্ষিক এই সামরিক মহড়া সাময়িকভাবে স্থগিত করেছিলেন। বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে মিত্র দেশগুলোর কাছ থেকে কাঙ্ক্ষিত সামরিক ও কূটনৈতিক সহায়তা না পাওয়ায় মার্কিন রাষ্ট্রপতির কণ্ঠে অসন্তোষের সুর বারবার শোনা যাচ্ছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের সংঘাতের ক্ষেত্রে দক্ষিণ কোরিয়া সরাসরি লজিস্টিক বা সামরিক সহায়তা দিতে অস্বীকৃতি জানানোর পর থেকেই দুই দেশের সম্পর্কে এই টানাপোড়েন সৃষ্টি হয়েছে।
আন্তর্জাতিক ভূরাজনীতি ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে যৌথ সামরিক মহড়ার পরিধি এভাবে হঠাৎ কমিয়ে দেওয়া হলে দুই দেশের দীর্ঘমেয়াদি সামরিক জোটের কার্যকারিতায় গুরুতর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। যৌথ প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি অক্ষুণ্ণ রাখতে এবং সম্ভাব্য আঞ্চলিক সংকট মোকাবিলায় এই ধরনের নিয়মিত মহড়াগুলোর গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি। তবে ট্রাম্প প্রশাসনের এই অপ্রত্যাশিত পদক্ষেপে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে সামরিক সমীকরণ ও কূটনৈতিক পরিমণ্ডলে নতুন আলোচনার সূত্রপাত হয়েছে। উত্তর কোরিয়ার পক্ষ থেকে এই সিদ্ধান্তকে সম্পূর্ণ বাতিল না করা পর্যন্ত একে পুরোপুরি অর্থবহ বলে গণ্য করা হবে না বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। দুই দেশের পারস্পরিক প্রতিরক্ষা সহযোগিতা এবং আঞ্চলিক ভূরাজনীতির ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, তা এখন গভীর পর্যবেক্ষণের বিষয়।
