জাতিসংঘের পারমাণবিক পর্যবেক্ষণ সংস্থার সাধারণ সম্মেলনে গৃহীত নিন্দাসূচক প্রস্তাব সরাসরি খারিজ করে দিয়েছে উত্তর কোরিয়া। দেশটির পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচির সমালোচনা করে পাস হওয়া এই প্রস্তাবকে অকার্যকর আখ্যা দিয়ে পিয়ংইয়ং স্পষ্ট জানিয়েছে, পরমাণু শক্তিধর রাষ্ট্র হিসেবে তাদের অবস্থান এখন সম্পূর্ণ অপরিবর্তনীয়। শনিবার দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থার মাধ্যমে প্রকাশিত এক সরকারি বিবৃতিতে এই অনড় অবস্থানের কথা নিশ্চিত করা হয়।
আন্তর্জাতিক সংস্থার বিরুদ্ধে দ্বিমুখী নীতির অভিযোগ তুলেছে পিয়ংইয়ং।
উত্তর কোরিয়ার শীর্ষ নেতা কিম জং উনের প্রভাবশালী বোন কিম ইয়ো জং আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থার কঠোর সমালোচনা করে বলেন, তাদের পক্ষপাতদুষ্ট মনোভাব বৈশ্বিক পরমাণু বিস্তার রোধ ব্যবস্থার পতনের মূল কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি দাবি করেন, সংস্থাটি যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার পারমাণবিক সক্ষমতা বৃদ্ধির উদ্যোগ কিংবা সাবমেরিন পরিকল্পনা পুরোপুরি উপেক্ষা করছে। অথচ উত্তর কোরিয়ার আত্মরক্ষামূলক ও বৈধ পারমাণবিক পদক্ষেপের বিরুদ্ধে জোর করে প্রস্তাব চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্রের মতে, পশ্চিমা শক্তিগুলোর চাপিয়ে দেওয়া এমন কোনো দলিল পিয়ংইয়ংয়ের রাষ্ট্রীয় বাস্তবতায় সামান্যতম প্রভাব ফেলবে না।
প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আরও বাড়ানোর প্রক্রিয়া চলছে।
একই সপ্তাহে দেশটির প্রধান সমরাস্ত্র কারখানাগুলোতে তিন দিনব্যাপী নিবিড় পরিদর্শন চালিয়েছেন কিম জং উন। সামরিক পর্যবেক্ষকদের মতে, রাশিয়ার সঙ্গে সই হওয়া পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তির পর নিজেদের সমরশক্তি উল্লেখযোগ্যভাবে আধুনিকায়ন করছে দেশটি। একই সাথে ইউক্রেন যুদ্ধের বাস্তব অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে সেনাবহিনীর কৌশলগত রূপান্তর ঘটানো হচ্ছে। এছাড়া রাজধানী পিয়ংইয়ংয়ে দলীয় প্রচার কর্মীদের এক অধিবেশনে আধুনিক মতাদর্শিক লড়াইয়ে আরও আক্রমণাত্মক ও সৃজনশীল কৌশল গ্রহণের তাগিদ দিয়েছেন কিম।
কূটনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই আলোচনার ইঙ্গিতও পাওয়া যাচ্ছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং সম্প্রতি জানিয়েছেন যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পিয়ংইয়ংয়ের সাথে নতুন করে সংলাপে বসতে আগ্রহী এবং সিউল এই উদ্যোগে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেবে। সাবেক মেয়াদের কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনরুজ্জীবিত করতে চলতি বছরের শেষের দিকে উত্তর কোরীয় নেতার সাথে সাক্ষাতের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন ট্রাম্প। তিনি এক বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে উত্তর কোরিয়ার সাথে সুসম্পর্ক রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যেখানে তাদের অস্ত্রাগারে অর্ধশতাধিক শক্তিশালী পারমাণবিক অস্ত্র সংরক্ষিত রয়েছে।
