সোমবার, ১১ মে, ২০২৬, ২৮ বৈশাখ ১৪৩৩

ট্রাম্পের কড়া বার্তা: ইরানের প্রস্তাবকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ আখ্যা

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : মে ১১, ২০২৬, ০৩:০৭ পিএম

ট্রাম্পের কড়া বার্তা: ইরানের প্রস্তাবকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ আখ্যা

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের পক্ষ থেকে আসা যুদ্ধ বন্ধের সর্বশেষ প্রস্তাবকে সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য বলে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন। তেহরান তাদের এই প্রস্তাবটি পাকিস্তানের মাধ্যমে ওয়াশিংটনের কাছে পাঠিয়েছিল বলে জানা গেছে। ট্রাম্প তার নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে জানিয়েছেন, তিনি ইরানের তথাকথিত প্রতিনিধিদের প্রতিক্রিয়া পড়েছেন এবং এটি তার কাছে মোটেও পছন্দ হয়নি। ট্রাম্পের এই কঠোর অবস্থান এমন এক সময়ে সামনে এল যখন মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধবিরতি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে নানা জল্পনা চলছে।

ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদন অনুযায়ী, তেহরানের প্রস্তাবে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত ছিল। এর মধ্যে অন্যতম হলো সব ফ্রন্টে তাৎক্ষণিকভাবে যুদ্ধ বন্ধ করা এবং ইরানি বন্দরগুলোর ওপর থেকে মার্কিন নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার করা। এছাড়া ভবিষ্যতে ইরানের ওপর আর কোনো হামলা হবে না এমন গ্যারান্টিও দাবি করেছে দেশটি। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের শুরু করা এই যুদ্ধ বন্ধের জন্য পাকিস্তান মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করছে। যদিও বর্তমানে একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে এবং বড় ধরনের সংঘর্ষ ছাড়াই পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে, তবে রাজনৈতিক সমাধান এখনো সুদূর পরাহত বলে মনে হচ্ছে।

এর আগে ট্রাম্প বারবার দাবি করেছিলেন যে ইরানের সাথে এই যুদ্ধ খুব দ্রুত শেষ হবে। তবে যুদ্ধ শেষ করার শর্ত হিসেবে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু নতুন করে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস-এর ৬০ মিনিটস অনুষ্ঠানে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু স্পষ্ট করে বলেছেন, যুদ্ধ শেষ বলে গণ্য করার আগে ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ অবশ্যই ধ্বংস করতে হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে ইরানে এখনো ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্রগুলো সচল রয়েছে এবং সেগুলো পুরোপুরি ভেঙে ফেলতে হবে। নেতানিয়াহুর এই মন্তব্য ইঙ্গিত দেয় যে পারমাণবিক সক্ষমতা পুরোপুরি ধ্বংস না করা পর্যন্ত ইসরায়েল কোনো চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছাতে আগ্রহী নয়।

অন্যদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্যমতে তেহরান যুদ্ধের ফলে হওয়া ক্ষয়ক্ষতির ক্ষতিপূরণ দাবি করেছে। একই সঙ্গে তারা কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীর ওপর ইরানের পূর্ণ সার্বভৌমত্বের বিষয়টিও পুনরুল্লেখ করেছে। রবিবার ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান সরাসরি এই প্রস্তাবের কথা উল্লেখ না করলেও এক ভাষণে বলেন যে তার দেশ শত্রুর সামনে কখনোই মাথা নত করবে না। তিনি মনে করেন সংলাপ বা আলোচনার অর্থ কোনোভাবেই আত্মসমর্পণ বা পিছু হটা নয়। ইরানের এই কঠোর সুর এবং ট্রাম্পের অগ্রহণযোগ্য বলে দেওয়া ঘোষণা সংঘাত অবসানের পথকে আরও জটিল করে তুলেছে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস একটি বিশেষ প্রতিবেদনে জানিয়েছে যে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইরানকে ১৪ দফার একটি স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছিল। এই নথিতে ইরানের পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণ স্থগিত করা, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং হরমুজ প্রণালীতে অবাধ যাতায়াত পুনরুদ্ধারের মতো বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত ছিল। যদিও মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে এই শর্তগুলোর বেশিরভাগই একটি চূড়ান্ত চুক্তির ওপর নির্ভর করবে। বর্তমানে ইরান বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের ২০ শতাংশ পরিবহনের পথ হরমুজ প্রণালী অবরোধ করে রেখেছে। এর ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম হু হু করে বাড়ছে। অন্যদিকে ইরানকে চাপে রাখতে যুক্তরাষ্ট্র তাদের বন্দরগুলোতে নৌ-অবরোধ জারি রেখেছে যা তেহরানকে ক্ষুব্ধ করেছে।

একই সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর জন্য মার্কিন আর্থিক সহায়তা পর্যায়ক্রমে বন্ধ করার ইচ্ছাও প্রকাশ করেছেন। বর্তমানে ইসরায়েল প্রতি বছর ৩.৮ বিলিয়ন ডলারের মার্কিন সহায়তা পায়। নেতানিয়াহু মনে করেন যে আগামী এক দশকের মধ্যে এই নির্ভরতা কমিয়ে শূন্যে নামিয়ে আনা উচিত। তিনি মনে করেন এখন থেকেই এই প্রক্রিয়া শুরু করার সঠিক সময়। তবে যুদ্ধের এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে আর্থিক সহায়তার বিষয়টি আপাতত আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে না থাকলেও ট্রাম্পের প্রত্যাখ্যানের পর পুরো মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি নতুন করে অস্থিতিশীল হয়ে ওঠার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

banner
Link copied!