বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬, ৩০ বৈশাখ ১৪৩৩

মালদ্বীপে প্রেসিডেন্টকে নিয়ে প্রতিবেদন: দুই সাংবাদিক জেলে

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : মে ১৩, ২০২৬, ০৬:০৭ পিএম

মালদ্বীপে প্রেসিডেন্টকে নিয়ে প্রতিবেদন: দুই সাংবাদিক জেলে

মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুইজ্জুর ব্যক্তিগত জীবন ও একটি তথ্যচিত্র নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের দায়ে দুই সাংবাদিককে কারাদণ্ড দিয়েছে দেশটির একটি আদালত। গত মঙ্গলবার রাজধানী মালের একটি আদালত মোহামেদ শাহজানকে ১৫ দিন এবং লিভান আলী নাসিরকে ১০ দিনের কারাদণ্ড প্রদান করে। সংবাদ মাধ্যম ‍‍`আধাদু‍‍`-তে কর্মরত এই দুই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে আদালতের একটি বিশেষ আদেশ বা ‍‍`গ্যাগ অর্ডার‍‍` লঙ্ঘনের অভিযোগ আনা হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মালদ্বীপের সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নিয়ে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

বিতর্কের মূলে রয়েছে ‍‍`আয়েশা‍‍` নামক একটি তথ্যচিত্র যা গত ২৮ মার্চ আধাদুর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত হয়। ওই তথ্যচিত্রে জনৈক এক নারী প্রেসিডেন্টের সঙ্গে তার ব্যক্তিগত সম্পর্কের দাবি করেন। ৪৭ বছর বয়সী প্রেসিডেন্ট মুইজ্জু এই অভিযোগকে পুরোপুরি ভিত্তিহীন এবং মিথ্যা বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন। এর আগে এপ্রিল মাসে ওই তথ্যচিত্র প্রকাশের জেরে আধাদুর কার্যালয়ে অভিযান চালায় দেশটির পুলিশ। সেই সময় সাংবাদিকদের ল্যাপটপ, হার্ড ড্রাইভ এবং অন্যান্য ডিজিটাল সরঞ্জাম জব্দ করা হয়।

কারাদণ্ডপ্রাপ্ত সাংবাদিকদের একজন মোহামেদ শাহজান প্রেসিডেন্ট মুইজ্জুকে এক সংবাদ সম্মেলনে তার ব্যক্তিগত জীবনের সংশ্লিষ্ট বিষয়ে প্রশ্ন করেছিলেন। অন্যদিকে লিভান আলী নাসিরের বিরুদ্ধে অভিযোগ তিনি আদালত কর্তৃক জারি করা আলোচনার ওপর নিষেধাজ্ঞা বা গ্যাগ অর্ডার নিয়ে প্রতিবেদন করেছিলেন। আধাদু কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে যে এই বিচার প্রক্রিয়া অত্যন্ত দ্রুত এবং গোপনীয়তার সঙ্গে সম্পন্ন করা হয়েছে। অভিযুক্ত সাংবাদিকদের আইনজীবী নিয়োগের জন্য মাত্র দুই ঘণ্টা সময় দেওয়া হয়েছিল এবং তাদের আত্মপক্ষ সমর্থনের কোনো সুযোগ দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।

সাংবাদিকদের কারাদণ্ডের এই ঘটনাকে ‍‍`অনুসন্ধানী সাংবাদিকতাকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করার চেষ্টা‍‍` বলে অভিহিত করেছে কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস বা সিপিজে। অন্যদিকে ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অফ জার্নালিস্টস এই রায়ের তীব্র নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে তাদের মুক্তির দাবি করেছে। তবে প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র মোহামেদ হুসাইন শরীফ এই সমালোচনা প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন যে এটি একটি আইনি প্রক্রিয়া এবং একে সংবাদপত্রের ওপর হামলা হিসেবে দেখা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তিনি দাবি করেন যে মুইজ্জু প্রশাসন একটি স্বাধীন ও প্রাণবন্ত সংবাদমাধ্যমের পক্ষে।

এদিকে আধাদুর দুই সম্পাদক হুসাইন ফিয়াজ মুসা এবং হাসান মোহামেদের বিরুদ্ধেও বিচার শুরু হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে ইসলামিক আইনে ‍‍`কজফ‍‍` বা ব্যভিচারের মিথ্যা অপবাদ দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। এই অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হলে তাদের দেড় বছরের বেশি কারাদণ্ড এবং ৮০টি বেত্রাঘাতের সাজা হতে পারে। পর্যটন নির্ভর দেশ মালদ্বীপে গত বছর থেকে সুপ্রিম কোর্টের বিচারক অপসারণ এবং সংবাদমাধ্যম সংক্রান্ত নতুন আইন প্রণয়নের পর থেকেই গণতন্ত্রের মানদণ্ড নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। বিশেষ করে সম্প্রতি একটি সাংবিধানিক গণভোটে প্রেসিডেন্টের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পর রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বেড়েছে।

banner
Link copied!