আমেরিকায় অনুষ্ঠিত ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ শুরুর প্রাক্কালে ক্যানসাস সিটিতে ইংল্যান্ড জাতীয় ফুটবল দলের অনুশীলনের মূল্যবান সরঞ্জাম চুরি হয়েছে বলে শনিবার দ্য ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন বা এফএ নিশ্চিত করেছে, যা বিবিসি স্পোর্ট প্রকাশ করেছে। থমাস টুখেলের অধীনে থাকা ইংলিশ স্কোয়াডটি তাদের প্রথম গ্রুপ পর্বের ম্যাচের মুখোমুখি হওয়ার ঠিক কয়েক দিন আগে এই আকস্মিক চুরির ঘটনার শিকার হলো। ক্যানসাস সিটির সোয়াপ সকার ভিলেজ নামক ক্রীড়া ঘাঁটিতে খেলোয়াড়দের প্রয়োজনীয় ক্রীড়াসামগ্রী হস্তান্তরের জন্য নিয়োজিত বিশেষ যানবাহনগুলো ভেঙে এই চুরি করা হয়। ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের কর্মকর্তারা বর্তমানে ঠিক কী কী জিনিস চুরি গেছে তা নিখুঁতভাবে নিরূপণ করার জন্য স্থানীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সাথে যৌথভাবে কাজ করছেন। প্রাথমিক ধারণায় আশঙ্কা করা হচ্ছে যে খেলোয়াড়দের কাস্টমাইজড বুট, অফিশিয়াল ম্যাচ বল এবং প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ সামগ্রী এই চুরির তালিকায় রয়েছে যা দলের জন্য বেশ চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
প্রধান কোচ থমাস টুখেল এবং তাঁর পুরো ফুটবল দল শনিবার বিকেলের দিকে ক্যানসাস সিটিতে পৌঁছানোর কথা ছিল এবং তাদের পৌঁছানোর আগেই সমস্ত সরঞ্জাম মাঠে প্রস্তুত রাখার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। ক্যানসাস সিটি পুলিশের একটি বিশেষ দল শুক্রবার রাতে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে এই চুরির তদন্ত শুরু করে এবং তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা গ্রহণ করে। পুলিশ বিভাগ থেকে জানানো হয়েছে যে এই চুরির ঘটনার সাথে সরাসরি জড়িত থাকার সন্দেহে ইতিমধ্যেই দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তাদের নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ক্যানসাস পুলিশের একজন মুখপাত্র আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে তারা একটি দলীয় যানবাহন থেকে সরঞ্জাম চুরির সম্ভাব্য ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করছেন এবং অপরাধীদের কঠোর শাস্তির মুখোমুখি করা হবে। এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি আগামী বুধবার ক্রোয়েশিয়ার বিরুদ্ধে ইংল্যান্ডের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিশ্বকাপ উদ্বোধনী ম্যাচের কৌশলগত প্রস্তুতিকে আংশিকভাবে ব্যাহত করতে পারে বলে ফুটবল বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
যা কম স্পষ্ট তা হলো, এই চুরির পেছনে কোনো পরিকল্পিত আন্তর্জাতিক অপরাধ চক্র কাজ করেছে নাকি এটি কেবলই একটি স্থানীয় সাধারণ চুরির ঘটনা। ক্যানসাস সিটির স্টেডিয়াম সংলগ্ন এলাকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে এখন আন্তর্জাতিক ক্রীড়া মহলে নানা প্রশ্ন উঠছে, কারণ বিশ্বকাপের মতো একটি মেগা ইভেন্টের নিরাপত্তা প্রোটোকল অত্যন্ত কঠোর হওয়ার কথা ছিল। ইংল্যান্ডের খেলোয়াড়দের আগামী রবিবার থেকে তাদের প্রথম পূর্ণাঙ্গ মাঠের অনুশীলন সেশন শুরু করার কথা রয়েছে যা এই ঘটনার কারণে কিছুটা পিছিয়ে যেতে পারে। যদি চুরি হওয়া বিশেষ বুট ও বল সময়মতো উদ্ধার করা না যায়, তবে স্পন্সর সরবরাহকারীদের কাছ থেকে জরুরি ভিত্তিতে বিকল্প সরঞ্জাম আনাতে হবে। বিশ্বমঞ্চে নিজেদের প্রথম ম্যাচ খেলার আগে এমন একটি চুরির ঘটনা দলের মনস্তাত্ত্বিক শান্তিতে কিছুটা বিঘ্ন ঘটালেও ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন বা এফএ অবশ্য সমর্থকদের আশ্বস্ত করে বলেছে যে তারা যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।
ইংল্যান্ডের এই বিশ্বকাপ স্কোয়াডে জুড বেলিংহামের মতো তারকা ফুটবলাররা রয়েছেন যাদের ঘিরে সমর্থকদের প্রত্যাশা আকাশচুম্বী। ক্যানসাস সিটির এই অনভিপ্রেত ঘটনা আমেরিকার সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার ত্রুটিকে পুনরায় সামনে নিয়ে এসেছে, যা আগামী ম্যাচগুলোর নিরাপত্তা পরিকল্পনা পুনর্বিন্যাস করতে আয়োজকদের বাধ্য করবে। থমাস টুখেলের জন্য এই টুর্নামেন্টটি ইংল্যান্ডের প্রধান কোচ হিসেবে প্রথম বড় পরীক্ষা, এবং তিনি মাঠের বাইরের এই বিতর্ককে দূরে সরিয়ে খেলোয়াড়দের খেলায় মনোনিবেশ করানোর চেষ্টা করছেন।
