বুধবার, ২৪ জুন, ২০২৬, ১১ আষাঢ় ১৪৩৩

টানা ছয় বিশ্বকাপে গোল করে রোনালদোর নতুন বিশ্বরেকর্ড

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : জুন ২৩, ২০২৬, ১১:২৪ পিএম

টানা ছয় বিশ্বকাপে গোল করে রোনালদোর নতুন বিশ্বরেকর্ড

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে গ্রুপ কে-এর একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে পর্তুগাল বনাম উজবেকিস্তান লড়াইয়ে ইউরোপের জায়ান্টরা মঙ্গলবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের হিউস্টন স্টেডিয়ামে দাপুটে সূচনা করেছে এবং ম্যাচের প্রথম বিশ মিনিটের মধ্যেই ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেছে বলে বিবিসি নিউজ জানিয়েছে। ম্যাচের মাত্র ছয় মিনিটে পর্তুগিজ ফরোয়ার্ড ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো প্রথম গোলটি করে দলকে এগিয়ে নেন এবং ফুটবল ইতিহাসের প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে টানা ছয়টি বিশ্বকাপে গোল করার এক অনন্য বিশ্বরেকর্ড গড়েন। এর ঠিক এগারো মিনিট পর অর্থাৎ ম্যাচের সতেরো মিনিটে তরুণ ডিফেন্ডার নুনো মেন্দেস দলের পক্ষে দ্বিতীয় গোলটি করে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন। নিজেদের প্রথম ম্যাচে ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোর বিরুদ্ধে ১-১ গোলে ড্র করার পর টুর্নামেন্টে টিকে থাকার লড়াইয়ে পর্তুগালের জন্য এই ম্যাচে জয় পাওয়া অত্যন্ত জরুরি ছিল।

এই তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচের প্রথম ঐতিহাসিক গোলটি আসে ডিফেন্ডার জোয়াও ক্যানселোর একটি নিখুঁত পাস থেকে যা অত্যন্ত চমৎকার দক্ষতায় প্রতিপক্ষের জালে জড়িয়ে দেন রোনালদো। সাম্প্রতিক সময়ে নিজের ফর্ম এবং বয়স নিয়ে ফুটবল বিশ্বে নানামুখী তীব্র সমালোচনা ও প্রশ্নের মুখোমুখি হলেও ৪১ বছর বয়সী এই মহাতারকা বিশ্বমঞ্চে নিজের কার্যকারিতা আবারো প্রমাণ করেছেন। টেক্সাসের কানায় কানায় পূর্ণ স্টেডিয়ামে উপস্থিত হাজার হাজার দর্শক তাদের অভিজ্ঞ অধিনায়কের এই ঐতিহাসিক মুহূর্তটি উদযাপনে মেতে ওঠেন। ইতালীয় কোচ ফাবিও কান্নাভারোর অধীনে খেলতে আসা উজবেকিস্তান দল ম্যাচের শুরু থেকেই পর্তুগালের গতিশীল আক্রমণের সামনে রক্ষণ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছিল এবং তাদের রক্ষণাত্মক কৌশল সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ে।

ম্যাচের সতেরো মিনিটে পর্তুগিজ দল চমৎকার এক কৌশলে উজবেকিস্তানের পুরো রক্ষণভাগকে ফাঁকি দিয়ে দ্বিতীয় গোলটি আদায় করে নেয় যখন নুনো মেন্দেস তার বাঁ পায়ের জাদুতে বলটি গোলপোস্টের নিচের কোণায় পাঠিয়ে দেন। বিবিসির ধারাভাষ্যকার অ্যালিস্টার ব্রুস-বল মাঠে বসে মন্তব্য করেন যে প্রতিপক্ষের পুরো রক্ষণভাগের খেলোয়াড়রা কেবল রোনালদোকে পাহারায় ব্যস্ত ছিলেন যার ফলে মেন্দেস দূর থেকে শট নেওয়ার পর্যাপ্ত ফাঁকা জায়গা পেয়ে যান। উজবেক গোলরক্ষক মেন্দেসের এই আকস্মিক ও বাঁকানো শটটি ঠেকাতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হন যার ফলে প্রথমার্ধের শুরুতেই পিছিয়ে পড়ে এশিয়ার এই উদীয়মান দলটি। এই ম্যাচের ফলাфলের ওপর গ্রুপ কে-এর ভবিষ্যৎ সমীকরণ গভীরভাবে নির্ভরশীল কারণ এই গ্রুপের অন্য দুটি দল কলম্বিয়া এবং ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো আগামীকাল মুখোমুখি হবে।

নিজেদের প্রথম ম্যাচে কলম্বিয়ার কাছে ৩-১ ব্যবধানে হেরে যাওয়া উজবেকিস্তান দল এই ম্যাচেও পর্তুগালের বিশ্বমানের আক্রমণভাগের বিরুদ্ধে শুরুতে কোনো প্রতিরোধ গড়তে পারেনি। পর্তুগিজ কোচ রবার্তো মার্তিনেসের আক্রমণাত্মক কৌশল এবং মাঝমাঠে ব্রুনো ফার্নান্দেসের চমৎকার নিয়ন্ত্রণ দলের এই আধিপত্য নিশ্চিত করতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করেছে। সাবেক ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়নরা তাদের প্রথম ম্যাচের হতাশাজনক পারফরম্যান্স ভুলে এই ম্যাচে নিজেদের চেনা ছন্দ পুরোপুরি ফিরে পেয়েছে যা তাদের পরবর্তী রাউন্ডে যাওয়ার পথকে অনেক সহজ করে তুলবে। খেলোয়াড়দের মাঠের এই চমৎকার বোঝাপড়া প্রমাণ করে যে তারা টুর্নামেন্টের নকআউট পর্বে পা রাখতে কতটা মরিয়া হয়ে উঠেছে।

যা কম স্পষ্ট তা হলো, উজবেকিস্তান দল এই প্রাথমিক মানসিক ধাক্কা সামলে নিয়ে প্রথমার্ধের খেলা শেষ হওয়ার আগে ম্যাচে কোনো শক্তিশালী পাল্টা আক্রমণ তৈরি করতে পারবে কি না। পর্তুগাল দলের খেলোয়াড়রা মাঠের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের কাছে রেখে ক্রমাগত প্রতিপক্ষের ওপর চাপ সৃষ্টি করে চলেছে যাতে প্রথমার্ধেই ম্যাচটি পুরোপুরি তাদের নিয়ন্ত্রণে চলে আসে। হিউস্টন স্টেডিয়ামের গ্যালারি এখন লাল রঙের জার্সিতে মেতে উঠেছে এবং দর্শকরা প্রতিটি আক্রমণের সাথে সাথে উল্লাসে ফেটে পড়ছেন। ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা এই দলটির এমন আক্রমণাত্মক ফুটবল প্রদর্শন বিশ্বজুড়ে তাদের কোটি ভক্তকে আসন্ন ম্যাচগুলোর জন্য নতুন করে আশাবাদী করে তুলছে।

banner
Link copied!