মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের হিউস্টন স্টেডিয়ামে সোমবার ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর শেষ বত্রিশের নকআউট ম্যাচে জাপানকে ২-১ গোলে হারিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে ব্রাজিল ফুটবল দল, বিবিসি নিউজ নিশ্চিত করেছে। ৬৮,৭৭৭ জন দর্শকের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এই অত্যন্ত রোমাঞ্চকর ম্যাচে গ্যাব্রিয়েল মার্টিনেল্লি খেলার অতিরিক্ত সময়ের ৯৫ মিনিটে জয়সূচক গোলটি করে জাপানের ঐতিহাসিক জয়ের স্বপ্ন ভেঙে দেন। এই শ্বাসরুদ্ধকর জয়ের ফলে ব্রাজিল টুর্নামেন্টের পরবর্তী রাউন্ডে নরওয়ে অথবা আইভরি কোস্টের মুখোমুখি হবে। হিউস্টন স্টেডিয়ামের কানায় কানায় পূর্ণ গ্যালারির সামনে দুই দলই শেষ ষোলোর টিকিট নিশ্চিত করতে নিজেদের সেরাটা উজাড় করে দিচ্ছিল। প্রথমার্ধে পিছিয়ে পড়েও দ্বিতীয়ার্ধে দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে সেলেসাওরা তাদের ঐতিহ্যবাহী আক্রমণাত্মক ফুটবলের প্রমাণ দিয়েছে এবং বিশ্বমঞ্চে নিজেদের আধিপত্য বজায় রেখেছে।
এর আগে খেলার ২৯ মিনিটে জাপানের মধ্যমাঠের খেলোয়াড় কাইশু সানো প্রথমার্ধে একটি চমৎকার গোল করে এশিয়ার পরাশক্তিদের ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে নিয়েছিলেন। জাপানি ডিফেন্ডার শোগো তানিগুচি পুরো ম্যাচ জুড়ে ব্রাজিলের তরুণ ফরোয়ার্ড এন্ড্রিক এবং ভিনিসিয়াস জুনিয়রের একাধিক আক্রমণ অত্যন্ত দক্ষতার সাথে নসাৎ করে দেন। সাবেক ইংলিশ ডিফেন্ডার স্টিফেন ওয়ারনক ম্যাচ চলাকালীন মন্তব্য করেন যে তানিগুচি ডি-বক্সের ভেতরে এন্ড্রিকের প্রতিটি পদক্ষেপ সফলভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে পেরেছিলেন। জাপানের গোলরক্ষক জিওন সুজুকি বেশ কয়েকটি নিশ্চিত গোল প্রতিহত করে প্রথমার্ধে নিজের দলকে সুরক্ষিত রাখেন। প্রথমার্ধে বলের নিয়ন্ত্রণে ব্রাজিল অনেকটা এগিয়ে থাকলেও গোলমুখের সঠিক পরিকল্পনার অভাবে তারা প্রথমার্ধে কোনো গোল আদায় করতে পারেনি।
দ্বিতীয়ার্ধের ৫৬ মিনিটে কর্নার থেকে উড়ে আসা বলে দুর্দান্ত এক হেডের মাধ্যমে গোল করে ব্রাজিলকে সমতায় ফেরান অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার ক্যাসেমিরো। গ্যাব্রিয়েল মাগালাইসের চমৎকার অ্যাসিস্ট থেকে এই গোলটি আসে যা পুরো দলকে নতুন করে উজ্জীবিত করে তোলে এবং স্টেডিয়ামে উপস্থিত হাজার হাজার ব্রাজিলিয়ান সমর্থককে উল্লাসে ভাসিয়ে দেয়। খেলার শেষ দিকে কার্লো আনচেলত্তি মাঠের রণকৌশলে পরিবর্তন এনে ক্যাসেমিরোর পরিবর্তে ফ্যাবিয়েনহোকে মাঠে নামান যাতে মধ্যমাঠের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখা যায়। খেলার একদম শেষ মুহূর্তে বক্সের ভেতরে এন্ড্রিকের চমৎকার ড্রিবলিং ব্রাজিলের পক্ষে একটি গুরুত্বপূর্ণ কর্নার এনে দেয় যা থেকে মার্টিনেল্লি জয়সূচক গোলটি করতে সক্ষম হন। যা কম স্পষ্ট তা হলো এত চমৎকার ও লড়াকু পারফরম্যান্স প্রদর্শনের পরও শেষ মুহূর্তের এই নাটকীয় পরাজয় জাপানি ফুটবলারদের মানসিকতায় কতটা দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
