নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে নরওয়ের কাছে পরাজয়ের মধ্য দিয়ে ব্রাজিলের বিশ্বকাপ যাত্রার সমাপ্তি ঘটেছে। আর এই হারের মাধ্যমেই আন্তর্জাতিক ফুটবলের অধ্যায় শেষ করলেন দেশটির তারকা খেলোয়াড় নেইমার জুনিয়র। ম্যাচ শেষে আবেগাপ্লুত নেইমার গণমাধ্যমের কাছে নিশ্চিত করেছেন যে, ব্রাজিলের জার্সি গায়ে এটিই ছিল তার শেষ ম্যাচ। নরওয়ের কাছে দুই শূন্য গোলের ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ার পর সাতষট্টিতম মিনিটে বদলি খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নেমেছিলেন তিনি।
ম্যাচের শেষ সময়ে পেনাল্টি থেকে একটি গোল করলেও তা কেবল সান্ত্বনাই হয়ে রইল। পরাজয়ের পর টিভি গ্লোবোর সঙ্গে সাক্ষাৎকারে ৩৪ বছর বয়সী নেইমার জানান, তিনি সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন কিন্তু এখন আর সম্ভব নয়। তিনি উল্লেখ করেন যে, ২০১০ সালে এই মেটলাইফ স্টেডিয়ামেই যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার শুরু হয়েছিল এবং আজ এখানেই তার সমাপ্তি ঘটল। ব্রাজিলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় শীর্ষস্থানে থাকা নেইমার দেশের হয়ে মোট আশিটি গোল করেছেন।
ক্যাফুর পর ব্রাজিলের হয়ে সবচেয়ে বেশি ১৩০টি ম্যাচ খেলার কৃতিত্বও তার। চোটের কারণে গত দীর্ঘ সময় জাতীয় দলের বাইরে থাকা নেইমারকে বিশ্বকাপের দলে অন্তর্ভুক্ত করা নিয়ে অনেক আলোচনা ছিল। এবারের টুর্নামেন্টে তিনি কেবল স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে শেষ দিকে মাঠে নেমেছিলেন এবং সর্বশেষ নরওয়ের বিপক্ষে খেলেন। ২০১৪, ২০১৮, ২০২২ এবং ২০২৬—এই চারটি বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছেন তিনি।
ব্রাজিলের এই বিদায় কেবল নেইমারের অবসরের সংবাদই নিয়ে আসেনি, বরং পুরো দল নিয়ে নতুন করে ভাবনার সুযোগ তৈরি করেছে। সমর্থকদের অনেকের মতে, সেলেসাওদের বর্তমান ভঙ্গুর অবস্থা কাটিয়ে উঠতে বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রয়োজন। বিশ্বকাপের এই হতাশাজনক পারফরম্যান্সের পর কোচিং প্যানেলে নতুন করে কার্লো আনচেলত্তির মতো অভিজ্ঞ কারো অন্তর্ভুক্তি নিয়েও ফুটবল মহলে গুঞ্জন চলছে।
বিদায়ের ক্ষণে নেইমারের কান্নায় ভেঙে পড়া দৃশ্যটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। দীর্ঘ দুই দশকের কাছাকাছি সময়ের ক্যারিয়ারে নেইমার ব্রাজিলীয় ফুটবলের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে ছিলেন। শিরোপা খরা কাটাতে না পারলেও ব্যক্তিগত নৈপুণ্য এবং দলের প্রতি তার আবেগ ফুটবল ইতিহাসে অমর হয়ে থাকবে। তার অবসরের মাধ্যমে ব্রাজিলের ফুটবল ইতিহাসে একটি বর্ণাঢ্য যুগের অবসান ঘটল।
