সোমবার, ০৩ আগস্ট, ২০২৬, ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩

ট্রাম্পের সহায়তা চাইছেন ফিফা প্রধান জিয়ান্নি ইনফান্তিনো

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : আগস্ট ৩, ২০২৬, ০৯:১২ পিএম

ট্রাম্পের সহায়তা চাইছেন ফিফা প্রধান জিয়ান্নি ইনফান্তিনো

ফুটবলের বিশ্ব নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো তার বিতর্কিত বাণিজ্যিক পরিকল্পনা ভেস্তে যাওয়ার পর পদ রক্ষা করতে মার্কিন প্রশাসনের শরণাপন্ন হয়েছেন বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে। নিউ ইয়র্ক পোস্টের বরাত দিয়ে রয়টার্স ও আল জাজিরা জানিয়েছে যে গত শুক্রবার এই প্রস্তাব সম্পূর্ণভাবে ধসে পড়ার পর থেকেই তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তীব্র গণমাধ্যমের সমালোচনার মুখে ফিফা প্রধান নিজেকে চরমভাবে একা ও কোণঠাসা মনে করছেন এবং সংকট উত্তরণে কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক সমর্থন খুঁজছেন।

বিশ্বকাপসহ ফিফার অন্যান্য বড় প্রতিযোগিতার বাণিজ্যিক স্বত্ব ব্যক্তিগত বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রির উদ্যোগ নিয়ে গত কিছুদিন ধরেই ফুটবলের অন্দরমহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছিল। প্রাইভেট ইক্যুইটি বিনিয়োগকারীদের মাধ্যমে নতুন একটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান তৈরি করে প্রায় চারশো কোটি ডলার সংগ্রহের যে পরিকল্পনা করা হয়েছিল, তা ইউরোপীয় ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনসহ বিভিন্ন পক্ষের ব্যাপক বিরোধিতার মুখে গত শুক্রবার স্থগিত করতে বাধ্য হন ফিফা প্রধান। এই পরিকল্পনা ব্যর্থ হওয়ার পর থেকেই ইনফান্তিনোর ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব এবং তার পরবর্তী মেয়াদের প্রেসিডেন্ট পদ নিয়ে গভীর অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর মধ্যে আগে থেকেই একটি ঘনিষ্ট রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত সম্পর্ক বিদ্যমান রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো এবং কানাডার যৌথ উদ্যোগে অনুষ্ঠিত সদ্য সমাপ্ত বিশ্বকাপের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ আয়োজনে তাদের একাধিকবার একসঙ্গে উপস্থিত থাকতে দেখা গেছে। গত ডিসেম্বর মাসে ফিফার পক্ষ থেকে মার্কিন প্রেসিডেন্টকে বিশেষ শান্তি পুরস্কার প্রদান করা হয়েছিল, যা দুই নেতার মধ্যকার মিত্রতাকে আরও জোরালো করে তোলে। এই পটভূমিতে ইনফান্তিনো তার চরম সংকটময় মুহূর্তে হোয়াইট হাউসের সরাসরি রাজনৈতিক এবং কূটনৈতিক সহায়তা পাওয়ার আশা করেছিলেন।

তবে মার্কিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইনফান্তিনো একাধিকবার ফোন করার চেষ্টা করলেও তাৎক্ষণিকভাবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের নাগাল পাননি। নিউ ইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে যে ইনফান্তিনো মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে গোপন বৈঠকের সময় নির্ধারণের চেষ্টা করেছিলেন। তবে মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে এই ধরনের কোনো ফোনালাপ বা পূর্বনির্ধারিত বৈঠকের পরিকল্পনা প্রশাসনের এজেন্ডায় ছিল না। বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থায় এই ধরনের বাণিজ্যিক পদক্ষেপ এবং রাজনৈতিক লবিংয়ের চেষ্টা বিশ্বজুড়ে তীব্র সমালোচনার ঝড় তুলেছে।

ফিফার এই বিতর্কিত বাণিজ্যিক প্রস্তাবের পেছনে মার্কিন বিনিয়োগকারীদের সম্পৃক্ততা নিয়েও নানা মহলে প্রশ্ন উঠেছে। ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ইউয়েফা এই পদক্ষেপের তীব্র বিরোধিতা করে কঠোর আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়েছে। তারা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে যে ফুটবলের মূল আত্মাস্বরূপ খেলাটিকে কোনোভাবেই ব্যবসায়িক পণ্যে পরিণত করা যাবে না। আগামী দিনে ফিফার অভ্যন্তরীণ রাজনীতি এবং আন্তর্জাতিক ফুটবলের নিয়ন্ত্রক হিসেবে ইনফান্তিনোর অবস্থান কতটা সুরক্ষিত থাকে, তা নির্ভর করবে সদস্য দেশগুলোর সমর্থন এবং চলমান সংকটের ওপর। যা কম স্পষ্ট তা হলো এই নজিরবিহীন ক্ষমতার দ্বন্দ্বে শেষ পর্যন্ত ফিফার শীর্ষ নেতৃত্ব টিকে থাকতে পারবে কি না।

বিশ্লেষকদের মতে, ফুটবলের বাণিজ্যিকীকরণের এই উচ্চাভিলাষী প্রচেষ্টা কেবল ফিফা সভাপতির ব্যক্তিগত রাজনৈতিক ভবিষ্যতকেই প্রশ্নের মুখে ফেলেনি, বরং আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সংস্থার সঙ্গে করপোরেট পুঁজিপতিদের সম্পর্ককেও নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে। ফুটবলের মূল কাঠামোর বাইরে গিয়ে বাণিজ্যিক সাম্রাজ্য বিস্তারের এই পরিকল্পনা অতীতেও বিভিন্ন মহলে সমালোচিত হয়েছিল। বর্তমান পরিস্থিতিতে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে যে অনাস্থা তৈরি হয়েছে, তা আগামী নির্বাচনগুলোতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ফিফার অভ্যন্তরীণ সুশাসন এবং স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ পেয়েছেন সমালোচকরা। সব মিলিয়ে বিশ্ব ফুটবলের মসনদে জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর বর্তমান অবস্থান এক চরম ক্রান্তিকালের মধ্য দিয়ে অতিক্রম করছে।

banner
Link copied!