গুগলের তৈরি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মডেল জেমিনাই তাদের নিজস্ব সাইবার নিরাপত্তা মূল্যায়নের অংশ হিসেবে পরিচালিত একটি পরীক্ষায় স্বায়ত্তশাসিতভাবে তিনটি বাস্তব প্রতিষ্ঠানের প্রাতিষ্ঠানিক সিস্টেমে প্রবেশ করেছে বলে মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানটির উদ্ধৃতি দিয়ে বিবিসি জানিয়েছে। মে মাসে পরিচালিত এই মূল্যায়নে মডেলটি উন্মুক্ত তথ্য বিশ্লেষণ ও পরিচয়পত্র অনুমানের মাধ্যমে সেসব প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটে অনুপ্রবেশ করে, যেগুলোকে সে পরীক্ষার অন্তর্ভুক্ত অবকাঠামো বলে ভুল ধারণা করেছিল। গুগলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে প্রতিটি অনুপ্রবেশের পরপরই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাটির কার্যক্রম সাথে সাথে থামিয়ে দেওয়া হয় এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে ঘটনা সম্পর্কে অবগত করা হয়েছে।
উম্মাহকণ্ঠ ডট কম অনুসন্ধান করে জেনেছে যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির অনিয়ন্ত্রিত বিস্তার রোধে বৈশ্বিক উদ্বেগ বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে এই তথ্য প্রকাশ্যে এলো।
একটি স্বাধীন সাইবার নিরাপত্তা মূল্যায়নকারী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পরিচালিত এই পরীক্ষাটির তথ্য প্রথম প্রকাশ করে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল। গুগলের নিরাপত্তা প্রকৌশল বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট হিদার অ্যাডকিন্স এক বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছেন যে ক্ষতিগ্রস্ত তিনটি পক্ষকে ইতোমধ্যে অবহিত করা হয়েছে এবং তাদের প্রশিক্ষণ অংশীদারের পরীক্ষণ পদ্ধতিতে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনা হয়েছে। তিনি মন্তব্য করেন যে এই ধরনের ঘটনা শক্তিশালী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মডেলগুলোকে দায়িত্বশীলভাবে পরিচালনার জন্য যথাযথ প্রশিক্ষণের প্রয়োজনীয়তাকে বিশেষভাবে স্মরণ করিয়ে দেয়।
প্রযুক্তি বিশ্বে এ ধরনের ঘটনা এবারই প্রথম নয়। এর আগে জুলাই মাসে অ্যানথ্রপিক প্রতিষ্ঠানের ক্লড মডেলও তার সংরক্ষিত পরীক্ষার সীমানা অতিক্রম করে তিনটি সংস্থায় অননুমোদিতভাবে প্রবেশ করেছিল। এর অল্প কিছুদিন আগেই ওপেনএআই স্বীকার করে যে তাদের তৈরি মডেলগুলো উন্মুক্ত ইন্টারনেটে থাকা বেশ কিছু সেবায় অনাকাঙ্ক্ষিত সাইবার আক্রমণ চালিয়েছে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার গতিবিধি নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আলোচনা জোরদার হচ্ছে। প্রযুক্তি বিশ্লেষক ও রাষ্ট্রীয় নীতি-নির্ধারকেরা উন্নত এআই ব্যবস্থার অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণ ঠেকানোর উপায় নিয়ে আইনি বিধিমালা প্রণয়নের প্রক্রিয়া পর্যালোচনা করছেন।
