যুক্তরাজ্যের ওরচেস্টারশায়ার কাউন্টি কাউন্সিলে বাস পাসের আবেদন প্রক্রিয়াকরণ দ্রুত করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবস্থার ব্যবহার শুরু হয়েছে। প্রশাসনিক কাজ দ্রুত নিষ্পত্তির পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের সেবা সহজ করতে এই প্রযুক্তিগত উদ্যোগ নিয়েছে সেখানকার স্থানীয় সরকার কর্তৃপক্ষ। নথি যাচাইয়ের প্রাথমিক ধাপে এই পদ্ধতি চালু করায় সাধারণ নাগরিক ও কর্মকর্তা উভয়েরই কর্মঘণ্টা বেঁচে যাচ্ছে।
আট মাসে প্রায় আড়াই হাজার আবেদন পরীক্ষা হয়েছে।
কাউন্সিলের বিশেষায়িত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এজেন্ট ইতিমধ্যে প্রায় সাত হাজার ৫০০টি আপলোড করা নথি যাচাই সম্পন্ন করেছে। সাধারণত জন্মতারিখের গরমিল, ছবির অনুপযুক্ত মাপ কিংবা ঠিকানার নথির অস্পষ্টতার কারণে অতীতে আবেদন আটকে থাকত। এই স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা আবেদনপত্রটি কোনো সরকারি কর্মকর্তার কাছে যাওয়ার আগেই ত্রুটিগুলো চিহ্নিত করে দিচ্ছে। ফলে আবেদনকারীরা শুরুতেই সংশোধনের সুযোগ পাচ্ছেন এবং কাউন্সিলে বারবার যোগাযোগের ঝামেলা কমে এসেছে। শত শত সম্ভাব্য ভুল এভাবে শুরুতেই শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে।
তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ক্ষমতা পুরোপুরি মানুষের হাতেই রয়েছে।
কাউন্সিলের ডেপুটি লিডার অ্যাডাম কেন্ট জানিয়েছেন, প্রশাসনিক কাজের দীর্ঘসূত্রতা কমিয়ে নাগরিক সহযোগিতায় বেশি সময় দেওয়ার সুযোগ তৈরি করতেই প্রযুক্তিটিকে কাজে লাগানো হচ্ছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সেবার মান বাড়ানো এবং করদাতাদের অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে এই প্রযুক্তিগত গতিশীলতা সামনে আরও সম্প্রসারিত করা হবে। বাস্তবমুখী নাগরিক সংকট সমাধান করতে পারে এমন নির্দিষ্ট প্রশাসনিক ধাপগুলোতেই প্রযুক্তি ব্যবহারে গুরুত্ব দিচ্ছে কর্তৃপক্ষ।
স্থানীয় সরকারের সামগ্রিক ডিজিটাল কর্মসূচির অংশ হিসেবে ইতিমধ্যে শতাধিক ডিজিটাল সেবাপদ্ধতি পরিচালনা করছে এই কাউন্সিল। স্পষ্ট সুফল পাওয়া যায় এমন খাতগুলোতে নিয়মিত নজরদারি বজায় রেখে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার পরিধি আরও বিস্তৃত করার পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে দপ্তরটি।
