বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর, ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রশ্ন

নিকন আলোকচিত্র প্রতিযোগিতার সেরা ভিডিও নিয়ে বিতর্ক

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : অক্টোবর ১, ২০২৬, ০৯:০২ পিএম

নিকন আলোকচিত্র প্রতিযোগিতার সেরা ভিডিও নিয়ে বিতর্ক

আন্তর্জাতিকভাবে সমাদৃত নিকন আলোকচিত্র প্রতিযোগিতার সেরা ভিডিওটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিকৃত করা হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে শুরু করেছে আয়োজক কর্তৃপক্ষ। গত দেড় দশক ধরে পরিচালিত ‍‍`স্মল ওয়ার্ল্ড ইন মোশন‍‍` শীর্ষক এই বৈজ্ঞানিক প্রতিযোগিতায় শক্তিশালী অণুবীক্ষণ যন্ত্রের মাধ্যমে ধারণ করা স্থিরচিত্র ও চলমান ভিডিও মূল্যায়ন করা হয়। চলতি আসরে চীনের সিংহুয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ডক্টর নিং সুর জমা দেওয়া একটি ভিডিও প্রথম পুরস্কার লাভ করার পর থেকেই আন্তর্জাতিক বিজ্ঞানীদের মধ্যে বিতর্ক শুরু হয়।

তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু হলেও নিয়মভঙ্গের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিজয়ী গবেষক।

বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা ভিডিওটিতে বিরল রোগে আক্রান্ত একটি শিশুর শ্বাসনালিতে থাকা অতি ক্ষুদ্র কোষীয় রোম বা সিলিয়ার নড়াচড়া দেখানো হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছিল। তবে একাধিক গবেষক দাবি করেছেন, ভিডিওর কোষীয় গঠন ও গতিবিধি স্বাভাবিক শারীরিক কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক এডওয়ার্ড ফেলপস অভিযোগ করেন, ভিডিওর কিছু অংশ হঠাৎ করে শূন্য থেকে দৃশ্যমান হচ্ছে এবং আবার মিলিয়ে যাচ্ছে। টেক্সাসের ইউটি সাউথওয়েস্টার্ন মেডিকেল সেন্টারের পিএইচডি গবেষক ইয়ান ডনোভান জানিয়েছেন, প্রাথমিক স্থিরচিত্রটিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে ছবি তৈরির একটি পরিচিত জলছাপ বা চিহ্নের আভাস রয়েছে। প্রতিযোগিতার সাবেক দুইজন বিচারকও ভিডিওটির সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে ডক্টর নিং সু জানিয়েছেন, ভিডিওতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে কোনো কিছু নতুন করে তৈরি করা হয়নি। অণুবীক্ষণ যন্ত্র থেকে পাওয়া ধূসর রঙের কাঁচা ছবিগুলোকে স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তুলতে এবং বৈশিষ্ট্য আলাদা করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করা হয়েছিল বলে তিনি স্বীকার করেন। তবে মূল পরীক্ষা, কোষের গতি কিংবা কাঠামোর মৌলিকত্ব পুরোপুরি অটুট ছিল বলে দাবি করেন তিনি।

প্রতিযোগিতার আয়োজক সংস্থা নিকন জানিয়েছে, অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং অভিযুক্ত গবেষক প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত প্রমাণ সরবরাহ করে সহযোগিতা করছেন। তবে প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে কোনো সুস্পষ্ট নিয়ম লঙ্ঘনের প্রমাণ এখনও পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

চলতি আসরে পঞ্চম স্থান অর্জনকারী ডক্টর প্যাট্রিক হিকি জানিয়েছেন, তিন হাজার মার্কিন ডলারের আর্থিক পুরস্কারের চেয়ে বিজ্ঞানীদের কাছে এই স্বীকৃতির মর্যাদা অনেক বেশি। তিনি উল্লেখ করেন, অন্ধকার কক্ষে অণুবীক্ষণ যন্ত্র নিয়ে দীর্ঘ সময় কাজ করার পর সাধারণ মানুষের সামনে গবেষণার সৌন্দর্য তুলে ধরার সুযোগ পান বিজ্ঞানীরা। কিন্তু জেনারেটিভ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে অবাস্তব কোনো দৃশ্য তৈরি করে প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া সম্পূর্ণ অন্যায়। চূড়ান্ত তদন্তের ফলাফল খুব দ্রুত প্রকাশ করা হবে বলে আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

banner
Link copied!