শনিবার, ১১ জুলাই, ২০২৬, ২৭ আষাঢ় ১৪৩৩

ইতালিতে ভ্রমণের সময় খাবার নিয়ে যে ভুলগুলো এড়িয়ে চলবেন

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : জুলাই ১১, ২০২৬, ০৯:৩১ পিএম

ইতালিতে ভ্রমণের সময় খাবার নিয়ে যে ভুলগুলো এড়িয়ে চলবেন

ছবি : সংগৃহীত

প্রতি বছর লাখ লাখ পর্যটক ইতালির বিখ্যাত সব খাবারের টানে দেশটিতে ভ্রমণ করেন, তবে অনেকেই স্থানীয় খাবারের ঐতিহ্যবাহী নিয়মগুলো সম্পর্কে জানেন না। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইতালির দ্বৈত নাগরিক এবং দীর্ঘ চৌদ্দ বছর ইতালিতে বসবাসকারী পর্যটন ও রন্ধনশিল্প বিশেষজ্ঞ ইভা স্যান্ডোভাল জানিয়েছেন, ইতালীয় রেস্তোরাঁগুলোতে খাওয়ার সময় কিছু নির্দিষ্ট নিয়ম না মানলে পর্যটকদের বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে হতে পারে। ইতালীয় খাবার মূলত সাধারণ ও স্থানীয় মৌসুমী উপাদানের ওপর নির্ভরশীল এবং খাবার গ্রহণকে সেখানে জীবনের অন্যতম প্রধান আনন্দ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

ইতালীয়দের কাছে সকালের নাশতার পর ক্যাপুচিনো পান করা সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য একটি বিষয়। সকালে হালকা নাশতা হিসেবে পেস্ট্রির সাথে কেবল ক্যাপুচিনো খাওয়া হয়। ভারী খাবারের পর এই জাতীয় দুধযুক্ত কফি হজমে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে বলে তারা মনে করেন। দুপুরের বা রাতের খাবারের পর কফি পানের প্রয়োজন হলে স্থানীয়রা সর্বদা এসপ্রেসো বা ম্যাকিআটো বেছে নেন। রাতে রেস্তোরাঁয় বসে ক্যাপুচিনো চাওয়া স্থানীয়দের চোখে অত্যন্ত দৃষ্টিকটূ একটি কাজ।

রেস্তোরাঁয় খাবারের ধারাবাহিকতা বজায় রাখাও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। ইতালীয় খাবার সাধারণত কয়েকটি ধাপে পরিবেশন করা হয়। প্রথমে অ্যান্টিপ্যাস্টো বা শুরুর খাবার, তারপর পাস্তা, এরপর মূল মাংস বা সামুদ্রিক খাবার এবং শেষে মিষ্টি ও কফি আসে। পর্যটকরা অনেক সময় একসাথে সব খাবার টেবিলে দেওয়ার অনুরোধ করেন, যা সেখানকার সংস্কৃতির পরিপন্থি। সালাদ কখনোই শুরুতে খাওয়া হয় না, বরং এটি মূল মাংসের পদের সাথে পার্শ্ব খাবার হিসেবে পরিবেশন করা হয়।

খাবারের উপাদান মেলানোর ক্ষেত্রেও ইতালীয়রা অত্যন্ত রক্ষণশীল। তারা সামুদ্রিক খাবার এবং পাহাড় বা সমতলের খাবার যেমন পনির ও মাংস একসাথে মেশানো পছন্দ করেন না। উদাহরণস্বরূপ, সামুদ্রিক ঝিনুক বা ক্ল্যাম দিয়ে তৈরি পাস্তার ওপর পারমেসান পনির ছড়িয়ে দেওয়া ইতালীয়দের কাছে রীতিমতো অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়। এই দুই ধরনের খাবারের স্বাদ একে অপরের সাথে সাংঘর্ষিক বলে মনে করা হয়।

রেস্তোরাঁর মেনুতে থাকা খাবারের উপাদান পরিবর্তনের অনুরোধ করাও সেখানে অভদ্রতা হিসেবে ধরা হয়। নির্দিষ্ট পাস্তার সাথে নির্দিষ্ট ধরনের সস মানানসই করেই শেফরা রান্না করেন। অ্যালার্জি বা শারীরিক সমস্যার কারণ ছাড়া খাবারের মূল রেসিপি পরিবর্তনের অনুরোধ করা শেফের দক্ষতার প্রতি অবমাননা বলে গণ্য হয়।

সবশেষে, ইতালীয় খাবারের কোনো একক পরিচয় নেই, বরং এটি অঞ্চলভেদে সম্পূর্ণ আলাদা। আঠারো শতকের শেষে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আগে ইতালি অনেকগুলো স্বাধীন রাজ্যে বিভক্ত ছিল। তাই স্থানীয়রা আশা করেন পর্যটকরা যে অঞ্চলে যাবেন, সেই অঞ্চলের নির্দিষ্ট খাবারই খাবেন। নেপলসে গিয়ে পিৎজা, জেনোয়ায় পেস্টো, রোমে কার্বোনারা এবং ফ্লোরেন্সে স্থানীয় স্টেক খাওয়াই নিয়ম। এই আঞ্চলিক ঐতিহ্যগুলোকে সম্মান করার মাধ্যমেই একজন পর্যটক ইতালির প্রকৃত স্বাদ ও সংস্কৃতির সাথে পরিচিত হতে পারেন।

banner
Link copied!