যুক্তরাজ্যে দুই কিশোর ধর্ষককে কারাদণ্ড না দিয়ে ইয়ুথ রিহ্যাবিলিটেশন অর্ডার দেওয়ায় ব্যাপক ক্ষোভ ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী এক কিশোরী এই রায়কে নিজের মুখে পাথর পড়ার মতো বেদনাদায়ক বলে বর্ণনা করেছেন। বিবিসিতে দেওয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, ন্যায়বিচার পাওয়ার জন্য আদালতের দীর্ঘ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাওয়ার কী অর্থ ছিল।আইনজীবীরা এখন এই রায়ের পর্যালোচনার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
বর্তমানে ১৬ বছর বয়সী ওই ভুক্তভোগী তার পরিবারের সাথে কথা বলেছেন। তার মতে, বিচারকের এই সিদ্ধান্ত এমন একটি বার্তা দিচ্ছে যে অপরাধটি ভুল হলেও শিশুদের ক্ষেত্রে তা আইনের চোখে গ্রহণযোগ্য। ঘটনার সময় ভুক্তভোগীর বয়স ছিল ১৫ বছর এবং তাকে রিভার অ্যাভনের একটি আন্ডারপাসের নিচে ধর্ষণ করা হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম স্ন্যাপচ্যাটে পরিচয়ের পর প্রথমবার দেখা করতে গিয়েই এই নৃশংসতার শিকার হন তিনি।
সাউদাম্পটন ক্রাউন কোর্টে সাজা ঘোষণার সময় বিচারক নিকোলাস রোল্যান্ড অপরাধের ভয়াবহতা স্বীকার করলেও শিশুদের ফৌজদারি অপরাধের আওতায় না আনার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। বিচারে সাজা হিসেবে আসামিদের তিন বছরের ইয়ুথ রিহ্যাবিলিটেশন অর্ডার ও কঠোর নজরদারিতে রাখার আদেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া দ্বিতীয় আরেকটি ঘটনায় সম্পৃক্ততার দায়ে আরও এক কিশোরকে ১৮ মাসের আদেশ দেওয়া হয়েছে। অথচ অপরাধীরা ধর্ষণের ভিডিও ধারণ করে অনলাইনে ছড়িয়ে দিয়েছিল, যা বিচারক নিজেও স্বীকার করেছেন।
বিচারকের এমন রায়ের পর অ্যাটর্নি জেনারেল এই সাজা পর্যালোচনার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ব্রিটিশ মন্ত্রিসভার সদস্য ড্যারেন জোন্স জানিয়েছেন, সরকার এই বিষয়টি জরুরি ভিত্তিতে দেখছে। ভুক্তভোগী ও তার পরিবার চায় অপরাধীদের জেল দেওয়া হোক, কারণ তাদের কাছে মনে হয়েছে আসামিরা শাস্তি ছাড়াই পার পেয়ে যাচ্ছে।
ভুক্তভোগীর মা সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর কাছে সাহায্যের আবেদন জানিয়েছেন। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, এটি যদি সরকারি কোনো কর্মকর্তার সন্তানের ক্ষেত্রে ঘটত, তবে কি বিচার একই রকম হতো?
