ভারতের আসাম রাজ্যের মুসলিম সম্প্রদায় পবিত্র ঈদুল আজহায় গরু কোরবানি না করার এক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। রাজ্যের প্রশাসনিক কড়াকড়ি এবং গবাদি পশু সংরক্ষণ আইন মেনে চলার পাশাপাশি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি অটুট রাখার লক্ষ্যে স্থানীয় ঈদ কমিটিগুলো এই আহ্বান জানিয়েছে। এই উদ্যোগকে স্থানীয় প্রশাসন ও সরকার ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে গ্রহণ করেছে।মুসলিম সম্প্রদায়ের এই সিদ্ধান্তকে সম্প্রীতির নজির হিসেবে দেখছে প্রশাসন।
ধুবড়ি ও হোজাই জেলার বেশ কয়েকটি ঈদগাহ কমিটি ইতিমধ্যে এই সিদ্ধান্তের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে। ধুবড়ি টাউন ঈদগাহ কমিটির বিবৃতিতে বলা হয়েছে, উৎসবটি যেন অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ, আইনসম্মত এবং সামাজিক দায়িত্ববোধের সঙ্গে পালিত হয়, তা নিশ্চিত করা এখন সবার কর্তব্য। আসাম গবাদি পশু সংরক্ষণ আইন ভঙ্গের দায়ে কঠোর শাস্তির বিধান থাকায় আইন মেনে চলাকে তারা অগ্রাধিকার দিয়েছে।
কমিটির পক্ষ থেকে মুসলিমদের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে যেন তারা কোরবানির দৃশ্য বা ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার না করেন। অন্য কোনো ধর্মের মানুষের অনুভূতি যাতে আঘাতপ্রাপ্ত না হয়, সেদিকে বিশেষ নজর রাখতে বলা হয়েছে। ঈদুল আজহা যে ত্যাগের মহিমায় উদ্ভাসিত, সেই বার্তাকে সামনে রেখে ভ্রাতৃত্ব ও পারস্পরিক সম্মান বজায় রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।
রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা এক বার্তায় এই উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেছেন যে রাজ্যের অন্যান্য ঈদ কমিটিগুলোও একইভাবে এগিয়ে আসবে। হোজাই টাউন ঈদগাহ কবরস্থান কমিটির মতে, ইসলাম ধর্মে গরু কোরবানি বাধ্যতামূলক নয়, তাই শান্তি বজায় রাখাই এখন প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত।
সবমিলিয়ে, স্থানীয় মুসলিম সমাজের এই সচেতন সিদ্ধান্ত আসামে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে এক নতুন উদাহরণ স্থাপন করেছে। আইনের প্রতি শ্রদ্ধা এবং অন্যের ধর্মের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের এই সংস্কৃতিই শান্তি প্রতিষ্ঠায় সহায়ক।
